¦

এইমাত্র পাওয়া

  • রাজধানী থেকে কোকেনসহ আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্য আটক
মালয় অভিযান

ভিক্তর মাৎসুলেনকো | প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫

জাপানি সৈন্য ও নৌবহর মালয় অভিযান চালায় ১৯৪১-এর ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২-এর ১৫ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। এর উদ্দেশ্য ছিল স্ট্র্যাটেজিক কাঁচামাল সমৃদ্ধ এবং প্রশান্ত মহাসাগরে মিত্রদের স্ট্র্যাটেজিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাধারণ ফ্রন্টে বুনিয়াদি অবস্থানের অধিকারী ব্রিটিশ মালয় দখল করা।
অভিযানের পরিকল্পনা অনুসারে বিপক্ষের বিমান বাহিনীকে দমন করার এবং আকাশে আধিপত্য লাভ করার উদ্দেশ্যে উত্তর মালয়ের বিমানবন্দরগুলোর ওপর আকস্মিক বিমান আক্রমণ চালানোর এবং একই সঙ্গে বড় বড় নৌ-সৈন্যদল নামিয়ে এবং মালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল বরাবর স্থলসেনার দ্বারা দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে সিঙ্গাপুর অধিকার করে নেয়ার কথা ছিল। অপারেশন সম্পাদনের জন্য নিযুক্ত হয়েছিল জেনারেল ইয়ামাসিতার পরিচালনাধীন প্রায় ৭০ হাজার সৈন্যের ২৫তম জাপানি বাহিনী, প্রায় ৬০০ জঙ্গি বিমানবিশিষ্ট ৩য় বিমান ইউনিট এবং নৌবহরের মালয় অপারেশনাল ফরমেশনটি যাতে ছিল ৯টি ক্রুজার, ১৬টি ডেস্ট্রয়ার, ১৬টি সাবমেরিন এবং অনেকগুলো পরিবহন আর সহায়ক জাহাজ।
ব্রিটিশ মালয় প্রতিরক্ষার কাজে লিপ্ত ছিল জেনারেল পের্সিভালের পরিচালনাধীন ৩টি ব্রিটিশ ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ইউনিটগুলো এবং মোট ১ লাখ লোক। তাদের সমর্থন জোগাচ্ছিল পূর্ব নৌবহর যাতে ছিল একটি রণপোত, একটি ব্যাটল ক্রুজার, ৩টি ক্রুজার, ৯টি ডেস্ট্রয়ার ও উপকূলীয় বিমান বাহিনীর প্রায় ২৫০টি বিমান। ইংরেজদের কাছে এক স্কোয়াড্রন ওলন্দাজ সাবমেরিনও ছিল। তাছাড়া অপারেশন চলাকালে ব্রিটিশরা সিঙ্গাপুরে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার লোক ও ১৪১টি বিমান পাঠিয়েছিল।
সিঙ্গাপুর দুর্গে ছিল ৪০৬ মিলিমিটার অবধি ক্যালিবরের তোপ, ৫টি বিমান ঘাঁটি, বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ আর খাদ্যদ্রব্য। কিন্তু উপদ্বীপে ভালো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। স্থলসেনা, বিমান বাহিনী ও নৌবহরের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ছিল না বললেই চলে। ব্রিটিশ জেনারেল, অ্যাডমিরাল আর অফিসারদের পেশাগত দক্ষতার মান ছিল নিু। সৈনিকরাও তেমন রণনিপুণ ছিল না।
আক্রমণের জন্য জাপানি সৈন্যদের প্রস্তুতি ও সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয় সময়মতো। সমুদ্রপথে অবতরণ বাহিনী প্রেরণকালে তাদের নিরাপত্তা বিধান করে সাধারণ জাহাজ, সাবমেরিন আর ইন্দোচীনের বিমান ঘাঁটিগুলো থেকে উড্ডয়নকারী বিমানগুলো। ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর কতা-বারু ও সিনগোরা অঞ্চলে জাপানি ফৌজের অবতরণ শুরু হয়ে যায়। উপকূলভাগে জাপানি সৈন্যরা অবতরণের সময় ইংরেজদের তরফ থেকে বিশেষ প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়নি। অবতরণ বাহিনীকে প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সেনাপতিমণ্ডলী সিঙ্গাপুর থেকে শ্যাম উপসাগর অভিমুখে তাদের পূর্ব স্কোয়াড্রনটি প্রেরণ করে। তাতে ছিল রণপোত ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’, ব্যাটল ক্রুজার ‘রিপাল্স’ এবং ৪টি ডেস্ট্রয়ার। কিন্তু স্কোয়াড্রন পাঠিয়ে কোনো ফল হল না। ব্রিটিশ জাহাজগুলো অন্তরীক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা ছাড়াই চলছিল। ওগুলোকে খুঁজে বের করে জাপানিরা ১০ ডিসেম্বর বিমান থেকে বোমা ফেলে রণপোত আর ব্যাটল ক্রুজারটি ডুবিয়ে দেয়। তাতে ইংরেজরা আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
অনুবাদ : বিজয় পাল
 

সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close