¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
পিইসি ও জেএসসির ফল

| প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

বিদায়ী বছরের শেষদিনটিতে শিশু-কিশোরদের সাফল্যের হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল সারা দেশ। দেশের ৫৪ লাখ শিক্ষার্থী চারটি পাবলিক পরীক্ষায় প্রায় শতভাগ উত্তীর্ণ হয়ে আশার আলোয় আলোকিত করে তুলেছে দেশের মানুষকে। নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি), ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। পাসের হার প্রাথমিক সমাপনীতে ৯৮.৫২, ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতে ৯৫.১৩, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেটে ৯২.৩১ এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেটে ৯২.৪৬ শতাংশ। জানা যায়, এবার জেএসসিতে সাফল্যের নেপথ্যে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে গণিত বিষয়ে পাসের হার বৃদ্ধি। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারাও সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা যায়। পরীক্ষার সময় এবার তেমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় শিশুরা নিরুদ্বেগ ও নির্বিঘ্নে পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পেরেছে। শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ আর সেই ভবিষ্যৎকে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। শিশুরা যাতে সর্বদা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, পরীক্ষা দিতে পারে, দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সে বিষয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
পরীক্ষার সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে, সেসব খতিয়ে করণীয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যেমন, চারটি পরীক্ষায়ই পাসের হারে এগিয়ে আছে রাজশাহী বোর্ড। আর পিছিয়ে পড়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম বোর্ড। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, রাজশাহী বোর্ডের অধীনে যারা পরীক্ষা দিয়েছে, তারা কি অন্যদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অন্য বোর্ডগুলোর পিছিয়ে পড়ারই বা কারণ কী? এ বছর জেডিসির ফলাফল গত বছরের তুলনায় কিছুটা খারাপ হয়েছে। এর কারণও বিশ্লেষণ করা দরকার। এবার গণিত বিষয়ে পাসের হার বাড়লেও কমেছে ইংরেজিতে পাসের হার। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে গণিত পরীক্ষা হয়েছে। প্রথমবার শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছিল। শিক্ষকদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেয়ার পর এবার ফলাফল ভালো হয়েছে। সেক্ষেত্রে সারা দেশের শিক্ষকদের সৃজনশীল পদ্ধতির বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।
শিক্ষা হচ্ছে জীবন গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। তাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা তাদের এ সাফল্য ধরে রেখে যাতে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য তাদের সব ধরনের সহায়তা দিতে হবে। তাহলেই তারা দেশ, সমাজ, পরিবার ও নিজেদের নিয়ে যেতে সক্ষম হবে সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে। বর্তমানে দেশে যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে, তা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার মান কতটা নিশ্চিত করতে পারছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পরাধীন দেশের এক অবিসংবাদী নেতা বলেছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। স্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদের শিশু-কিশোরদের নতুন চেতনায় উদ্ভাসিত করা প্রয়োজন। আজ ছোটমণিদের বড় সাফল্যে যেমন উদ্ভাসিত হয়েছে দেশ, তেমনি বড়দের প্রতিশ্র“তির বাস্তবায়ন ও ত্যাগে বিশ্বসভায় উদ্ভাসিত হবে বাংলাদেশ। আমরা আশা করি, নতুন বছরে এ সত্যটি উপলব্ধি করবেন সবাই।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close