jugantor
জাবিতে ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগ

  জাবি প্রতিনিধি  

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০০:০০:০০  | 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছত্রদলের আফম কামাল উদ্দিন হল শাখার আহ্বায়ক আবদুর রহিম সৈকতকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেছে একই হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। রোববার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন হল সংলগ্ন বটতলায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। অন্যদিকে বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আহত ছাত্রকে মেডিকেলে দেখতে গেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের কর্মীরা তার গাড়ি ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাস বিভাগের স্নাতোকত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কামাল উদ্দিন হলের আহ্বায়ক আবদুর রহিম সৈকত রোববার দুপুর ১টায় বিভাগের ক্লাস শেষে দুপুরের খাবারের জন্য বটতলায় যান। এ সময় পেছন থেকে কামাল উদ্দিন হলের ছাত্রলীগ কর্মী তানভীর হাসান খান (দর্শন, ছাত্রী লাঞ্ছনায় ২ বছরের বহিষ্কৃত) সৈকতকে প্রথমে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে সৈকত পড়ে গেলে একই হলের এনামুল হক ভূইয়া নোলক (সিএসই ৩৯তম ব্যাচ), জুয়েল রানা (ভুগোল ও পরিবেশ, ৩৯তম ব্যাচ) ও বিন মোহাম্মদ শোয়েব (পরিবেশ বিজ্ঞান, ৩৯তম ব্যাচ) দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে সৈকতকে বেধড়ক মারধর করে। পরে সৈকতকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শ্যামল দাস তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন।

ডা. শ্যামল জানান, সৈকতকে ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। অক্সিজেন দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তাকে এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারী তানভীর, জুয়েল, সোয়েব ও নোলক জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনির রাজনীতি করে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে জাবি ছাত্রদলের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জাকির ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিচার না হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার উপযুক্ত জবাব দিতে বাধ্য হবে। এদিকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের ব্যবস্থা না করলে ক্যাম্পাসে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।

অন্যদিকে ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, সৈকতকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। সাংগঠনিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মুজিবুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ দুজন প্রোভিসি আহত শিক্ষার্থীকে এনাম মেডিকেলে দেখতে গেলে সেখানে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তার গাড়ি ভাংচুর করে। ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিসিপ্লিনিয়ারি বোর্ডের মিটিংয়ে হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


 

সাবমিট

জাবিতে ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগ

 জাবি প্রতিনিধি 
০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১২:০০ এএম  | 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছত্রদলের আফম কামাল উদ্দিন হল শাখার আহ্বায়ক আবদুর রহিম সৈকতকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেছে একই হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। রোববার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন হল সংলগ্ন বটতলায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। অন্যদিকে বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আহত ছাত্রকে মেডিকেলে দেখতে গেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের কর্মীরা তার গাড়ি ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইতিহাস বিভাগের স্নাতোকত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কামাল উদ্দিন হলের আহ্বায়ক আবদুর রহিম সৈকত রোববার দুপুর ১টায় বিভাগের ক্লাস শেষে দুপুরের খাবারের জন্য বটতলায় যান। এ সময় পেছন থেকে কামাল উদ্দিন হলের ছাত্রলীগ কর্মী তানভীর হাসান খান (দর্শন, ছাত্রী লাঞ্ছনায় ২ বছরের বহিষ্কৃত) সৈকতকে প্রথমে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে সৈকত পড়ে গেলে একই হলের এনামুল হক ভূইয়া নোলক (সিএসই ৩৯তম ব্যাচ), জুয়েল রানা (ভুগোল ও পরিবেশ, ৩৯তম ব্যাচ) ও বিন মোহাম্মদ শোয়েব (পরিবেশ বিজ্ঞান, ৩৯তম ব্যাচ) দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে সৈকতকে বেধড়ক মারধর করে। পরে সৈকতকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শ্যামল দাস তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন।

ডা. শ্যামল জানান, সৈকতকে ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। অক্সিজেন দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তাকে এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারী তানভীর, জুয়েল, সোয়েব ও নোলক জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনির রাজনীতি করে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে জাবি ছাত্রদলের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জাকির ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিচার না হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার উপযুক্ত জবাব দিতে বাধ্য হবে। এদিকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের ব্যবস্থা না করলে ক্যাম্পাসে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।

অন্যদিকে ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, সৈকতকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। সাংগঠনিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মুজিবুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ দুজন প্রোভিসি আহত শিক্ষার্থীকে এনাম মেডিকেলে দেখতে গেলে সেখানে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তার গাড়ি ভাংচুর করে। ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিসিপ্লিনিয়ারি বোর্ডের মিটিংয়ে হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র