jugantor
চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগের তাণ্ডব ৮ জনকে কুপিয়ে জখম

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি  

২৫ জানুয়ারি ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মহড়ায় ককটেল হামলাকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি সমর্থক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জেলা বিএনপির দুটি অফিস, প্রতিপক্ষ গ্র“পের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও যানবাহনে। কুপিয়ে জখম করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আট নেতাকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই সুনসান হয়ে যায় চুয়াডাঙ্গা শহর। শুক্রবার পর্যন্ত ছিল থমথমে অবস্থা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, জেলা কারাগার থেকে (মুক্তি পাওয়া) রগকাটা মামলার আসামি ছাত্রলীগ কর্মী মোমিনুল ইসলামকে নিয়ে ছেলুনের ভাতিজা ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার ওরফে অনিক সদলবলে মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে শহরে আসছিল। এ সময় ইম্প্যাক্ট হাসপাতালের কাছে এলে প্রতিপক্ষের কর্মীরা তাদের ওপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে অনিক আহত হন।

এ খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে অনিক গ্র“পের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়। এতে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম (২২) আহত হন। এরপর তারা ইম্প্যাক্ট হাসপাতাল, পাশের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ছয়টি অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেল এবং বিএনপির দুটি অফিস ভাঙচুর করে ও তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফ হোসেন দুদু গ্র“পের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিউদ্দিন, পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি জাবেদ হাসান, পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাইম পারভেজ সজল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মমিনুল হাসানের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় যুবলীগ নেতা হাবিব, শফিউদ্দিনের স্ত্রী অ্যানি, যুবলীগ নেতা ও সাবেক পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসসহ অন্তত ৮ জনকে কুপিয়ে জখম করে তারা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি নেতা আবদুল জব্বার সোনা জানান, ছাত্রলীগ কর্মীরা তার অফিস ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দিয়েছে। আরেক নেতা ওয়াহিদুজ্জামান বুলা জানান, ছাত্রলীগ কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফ হোসেন দুদু জানান, অনিকের নেতৃত্বে শহরে যে তাণ্ডবলীলা চালানো হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ শীর্ষ নেতাদের জানানো হয়েছে।

তবে হামলা-ভাংচুর-লুটপাটে তার জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক জানান, ছাত্রলীগ নেতা মোমিনকে জেল গেট থেকে আনার পথে আমার ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। এতে আমার হাতে ও পায়ে স্পি­ন্টার বিদ্ধ হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আমি বাড়িতে বিশ্রামে ছিলাম। শহরের কোথায় কি হয়েছে তা বলতে পারব না। তবে আমার ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চুয়াডাঙ্গা থানার ওসি এরশাদুল কবীর জানান, পুলিশ লাইন থেকে একটি পিকআপ সদর থানায় আসার সময় ইম্প্যাক্ট হাসপাতালের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং পুলিশ সদস্য শহিদুলকে আহত করেছে।


 

সাবমিট

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগের তাণ্ডব ৮ জনকে কুপিয়ে জখম

 চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 
২৫ জানুয়ারি ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মহড়ায় ককটেল হামলাকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি সমর্থক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জেলা বিএনপির দুটি অফিস, প্রতিপক্ষ গ্র“পের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও যানবাহনে। কুপিয়ে জখম করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আট নেতাকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই সুনসান হয়ে যায় চুয়াডাঙ্গা শহর। শুক্রবার পর্যন্ত ছিল থমথমে অবস্থা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, জেলা কারাগার থেকে (মুক্তি পাওয়া) রগকাটা মামলার আসামি ছাত্রলীগ কর্মী মোমিনুল ইসলামকে নিয়ে ছেলুনের ভাতিজা ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার ওরফে অনিক সদলবলে মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে শহরে আসছিল। এ সময় ইম্প্যাক্ট হাসপাতালের কাছে এলে প্রতিপক্ষের কর্মীরা তাদের ওপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে অনিক আহত হন।

এ খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে অনিক গ্র“পের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়। এতে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম (২২) আহত হন। এরপর তারা ইম্প্যাক্ট হাসপাতাল, পাশের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ছয়টি অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেল এবং বিএনপির দুটি অফিস ভাঙচুর করে ও তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফ হোসেন দুদু গ্র“পের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিউদ্দিন, পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি জাবেদ হাসান, পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাইম পারভেজ সজল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মমিনুল হাসানের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় যুবলীগ নেতা হাবিব, শফিউদ্দিনের স্ত্রী অ্যানি, যুবলীগ নেতা ও সাবেক পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসসহ অন্তত ৮ জনকে কুপিয়ে জখম করে তারা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি নেতা আবদুল জব্বার সোনা জানান, ছাত্রলীগ কর্মীরা তার অফিস ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দিয়েছে। আরেক নেতা ওয়াহিদুজ্জামান বুলা জানান, ছাত্রলীগ কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফ হোসেন দুদু জানান, অনিকের নেতৃত্বে শহরে যে তাণ্ডবলীলা চালানো হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ শীর্ষ নেতাদের জানানো হয়েছে।

তবে হামলা-ভাংচুর-লুটপাটে তার জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক জানান, ছাত্রলীগ নেতা মোমিনকে জেল গেট থেকে আনার পথে আমার ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। এতে আমার হাতে ও পায়ে স্পি­ন্টার বিদ্ধ হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আমি বাড়িতে বিশ্রামে ছিলাম। শহরের কোথায় কি হয়েছে তা বলতে পারব না। তবে আমার ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চুয়াডাঙ্গা থানার ওসি এরশাদুল কবীর জানান, পুলিশ লাইন থেকে একটি পিকআপ সদর থানায় আসার সময় ইম্প্যাক্ট হাসপাতালের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং পুলিশ সদস্য শহিদুলকে আহত করেছে।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র