jugantor
রাবির সেই অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাদের ২ জন গ্রেফতার
মহাসড়ক অবরোধ ভাংচুর

  রাজশাহী ব্যুরো  

০১ এপ্রিল ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন- সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুল ইসলাম আসিফ। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর থেকে এদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে সুদীপ্ত সালাম ২ ফেব্র“য়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের তাড়া করেছিলেন।

নেতাদের আটকের প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাংচুর চালিয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে ও প্রধান ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভও করে।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সালাম এবং আসিফ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দিয়ে প্রশাসন ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় সালামের কাছ থেকে তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আটকের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রশাসন ভবনের ভেতর ঢুকে প্রক্টর ও জনসংযোগ দফতর কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। সেখান থেকে বের হয়ে নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাসও ভাংচুর করে। ১টার দিকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রঞ্জু ও তন্ময় আহাম্মেদ অভির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে মহাসড়ক থেকে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা আড়াইটার দিকে প্রশাসন ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়।

ছাত্রলীগের রাবি সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের পেটাতে পেটাতে নিয়ে গেছে। এটি খুবই দুঃখজনক।

পুলিশ জানায়, ২ ফেব্র“য়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে তারা দুজন জড়িত ছিল। ওই দিনের দায়ের করা মামলাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তারিকুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে অন্যায়কারী যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আবদুল মুয়িজ ও ইমরান নামের দুই শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলে আটকিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে সালাম ও আসিফ। এর আগের দিন শনিবার শাহ মখদুম হলে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও পিস্তল দেখিয়ে হুমকি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া। তার আগের দিন শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মেরে তার পা ভেঙে দেয় ছাত্রলীগের সদস্য আবদুল্লাহ আল বাকি।


 

সাবমিট

রাবির সেই অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাদের ২ জন গ্রেফতার

মহাসড়ক অবরোধ ভাংচুর
 রাজশাহী ব্যুরো 
০১ এপ্রিল ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন- সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুল ইসলাম আসিফ। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর থেকে এদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে সুদীপ্ত সালাম ২ ফেব্র“য়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের তাড়া করেছিলেন।

নেতাদের আটকের প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাংচুর চালিয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে ও প্রধান ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভও করে।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সালাম এবং আসিফ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দিয়ে প্রশাসন ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় সালামের কাছ থেকে তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আটকের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রশাসন ভবনের ভেতর ঢুকে প্রক্টর ও জনসংযোগ দফতর কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। সেখান থেকে বের হয়ে নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাসও ভাংচুর করে। ১টার দিকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রঞ্জু ও তন্ময় আহাম্মেদ অভির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে মহাসড়ক থেকে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা আড়াইটার দিকে প্রশাসন ভবনের তালা খুলে দেয়া হয়।

ছাত্রলীগের রাবি সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের পেটাতে পেটাতে নিয়ে গেছে। এটি খুবই দুঃখজনক।

পুলিশ জানায়, ২ ফেব্র“য়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে তারা দুজন জড়িত ছিল। ওই দিনের দায়ের করা মামলাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তারিকুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে অন্যায়কারী যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আবদুল মুয়িজ ও ইমরান নামের দুই শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলে আটকিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে সালাম ও আসিফ। এর আগের দিন শনিবার শাহ মখদুম হলে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও পিস্তল দেখিয়ে হুমকি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া। তার আগের দিন শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মেরে তার পা ভেঙে দেয় ছাত্রলীগের সদস্য আবদুল্লাহ আল বাকি।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র