jugantor
ছাত্রলীগের ছেলেরাই আমাকে মেরেছে
সাদ হত্যাকাণ্ড

  বাকৃবি প্রতিনিধি  

০৫ এপ্রিল ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সাদ ইবনে মমতাজকে কি খুন করা হয়েছে নাকি চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে? যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সাদ হত্যায় অভিযুক্ত মূল আসামি সুজয় কুমার কুণ্ডু ও রোকনোজ্জামান রোকন। এদিকে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আলাদা কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

‘ভাইয়া আমাকে ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা মেরেছে। আমি হাসপাতালে ভর্তি। আমার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এখানে কোনো চিকিৎসাও হচ্ছে না। তোমরা তাড়াতাড়ি আমার এখানে এসো। আমাকে প্রচণ্ড মেরেছে। পাঁচটা স্ট্যাম্প দিয়ে মেরেছে। সারা শরীরে মেরেছে’। হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে নিজের ভাইকে মোবাইলে এভাবে কথাগুলো বলছিল বাকৃবি ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সাদ ইবনে মমতাজ। শুক্রবার নিহত সাদের বড় ভাই মোয়াজ ইবনে মমতাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, হাসপাতালে যাওয়ার পর হতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২ বার কথা হয় সাদের সঙ্গে। সোমবার রাত ২টার দিকে প্রথমবার হাসপাতালের এক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোনে সে কথাগুলো বলে। এরপরই ফোন কেটে যায়। আমি বাসায় এবং ময়মনসিংহে তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। এরপর সাদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাদকে প্রথমে ৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার পাশের বেডে থাকা রোগীর আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই দিন রাত ৯টার দিকে সাদকে যখন ৮নং ওয়ার্ডে আনা হয় তখন সাদের পাশে কেউ ছিল না। ওয়ার্ডের ৫নং বেডের নিচে কাঁথা পেতে শুইয়ে রাখে ওয়ার্ড বয়। এ সময় সাদের দুই হাত, কোমর এবং পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এমনভাবে মেরেছিল যে সে ব্যথায় নড়তে পারছিল না। সেখানে সে সারা রাত শুয়ে থাকলেও কোনো ডাক্তার আসেনি। ব্যথায় সারা রাত কাতরিয়েছে সাদ। এ সময় সাদ আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন চায়। আমি তার বাবার ফোন নম্বর চাইলে সে না দিয়ে তার ভাইয়ের নম্বর দেয়। পরে সে তার ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে। এরপর সে তার এক বন্ধুকে রাতে বারবার ফোন দিতে থাকলেও বন্ধুর কাছ থেকে কোনো উত্তর পায়নি। এরপর সাদ আমাকে ফেসবুকে ঢুকতে বলে। ফেসবুকে সে তার এক বন্ধুর কাছে মেসেজ পাঠায়।

সাদের সঙ্গে শেষ কখন দেখা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত আমি ওয়ার্ডেই ছিলাম। সকাল ৭টার দিকে একজন লোক সাদকে দেখতে আসে। তখন সাদ তাকে ব্যাকুল কণ্ঠে বলে, ‘ভাই আপনি এত পরে আসলেন? আমার অবস্থা খুব খারাপ।’

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাম্বুলেন্স ইস্যুকারী মিজানুর রহমান বলেন, আমি শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার সময় সাদের ওইরকম অবস্থা দেখে অ্যাম্বুলেন্সে উঠে পড়ি। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার সাদের অবস্থা আশংকামুক্ত জানালে আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।

গণসাক্ষর কর্মসূচি : বাকৃবিতে সাদ হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-৭১ প্রাঙ্গণে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গণস্বাক্ষর কর্মসূচির প্রথম দিনেই প্রায় সাত শতাধিক ছাত্রী বিচারের দাবিতে স্বাক্ষর করে।

ছাত্রলীগের আলাদা কর্মসূচি : শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সাদ হত্যার বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। মিছিলে ছাত্রলীগের প্রায় চার শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে। মিছিলটি আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে গেলেও তারা ওই কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুর রহমান খান বলেন, ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করলেও সবার দাবি একটাই- সাদ হত্যার বিচার।



সাবমিট

ছাত্রলীগের ছেলেরাই আমাকে মেরেছে

সাদ হত্যাকাণ্ড
 বাকৃবি প্রতিনিধি 
০৫ এপ্রিল ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সাদ ইবনে মমতাজকে কি খুন করা হয়েছে নাকি চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে? যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সাদ হত্যায় অভিযুক্ত মূল আসামি সুজয় কুমার কুণ্ডু ও রোকনোজ্জামান রোকন। এদিকে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আলাদা কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

‘ভাইয়া আমাকে ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা মেরেছে। আমি হাসপাতালে ভর্তি। আমার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এখানে কোনো চিকিৎসাও হচ্ছে না। তোমরা তাড়াতাড়ি আমার এখানে এসো। আমাকে প্রচণ্ড মেরেছে। পাঁচটা স্ট্যাম্প দিয়ে মেরেছে। সারা শরীরে মেরেছে’। হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে নিজের ভাইকে মোবাইলে এভাবে কথাগুলো বলছিল বাকৃবি ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সাদ ইবনে মমতাজ। শুক্রবার নিহত সাদের বড় ভাই মোয়াজ ইবনে মমতাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, হাসপাতালে যাওয়ার পর হতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২ বার কথা হয় সাদের সঙ্গে। সোমবার রাত ২টার দিকে প্রথমবার হাসপাতালের এক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোনে সে কথাগুলো বলে। এরপরই ফোন কেটে যায়। আমি বাসায় এবং ময়মনসিংহে তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। এরপর সাদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাদকে প্রথমে ৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার পাশের বেডে থাকা রোগীর আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই দিন রাত ৯টার দিকে সাদকে যখন ৮নং ওয়ার্ডে আনা হয় তখন সাদের পাশে কেউ ছিল না। ওয়ার্ডের ৫নং বেডের নিচে কাঁথা পেতে শুইয়ে রাখে ওয়ার্ড বয়। এ সময় সাদের দুই হাত, কোমর এবং পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এমনভাবে মেরেছিল যে সে ব্যথায় নড়তে পারছিল না। সেখানে সে সারা রাত শুয়ে থাকলেও কোনো ডাক্তার আসেনি। ব্যথায় সারা রাত কাতরিয়েছে সাদ। এ সময় সাদ আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন চায়। আমি তার বাবার ফোন নম্বর চাইলে সে না দিয়ে তার ভাইয়ের নম্বর দেয়। পরে সে তার ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে। এরপর সে তার এক বন্ধুকে রাতে বারবার ফোন দিতে থাকলেও বন্ধুর কাছ থেকে কোনো উত্তর পায়নি। এরপর সাদ আমাকে ফেসবুকে ঢুকতে বলে। ফেসবুকে সে তার এক বন্ধুর কাছে মেসেজ পাঠায়।

সাদের সঙ্গে শেষ কখন দেখা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত আমি ওয়ার্ডেই ছিলাম। সকাল ৭টার দিকে একজন লোক সাদকে দেখতে আসে। তখন সাদ তাকে ব্যাকুল কণ্ঠে বলে, ‘ভাই আপনি এত পরে আসলেন? আমার অবস্থা খুব খারাপ।’

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাম্বুলেন্স ইস্যুকারী মিজানুর রহমান বলেন, আমি শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার সময় সাদের ওইরকম অবস্থা দেখে অ্যাম্বুলেন্সে উঠে পড়ি। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার সাদের অবস্থা আশংকামুক্ত জানালে আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।

গণসাক্ষর কর্মসূচি : বাকৃবিতে সাদ হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-৭১ প্রাঙ্গণে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গণস্বাক্ষর কর্মসূচির প্রথম দিনেই প্রায় সাত শতাধিক ছাত্রী বিচারের দাবিতে স্বাক্ষর করে।

ছাত্রলীগের আলাদা কর্মসূচি : শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সাদ হত্যার বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। মিছিলে ছাত্রলীগের প্রায় চার শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে। মিছিলটি আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে গেলেও তারা ওই কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুর রহমান খান বলেন, ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করলেও সবার দাবি একটাই- সাদ হত্যার বিচার।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র