jugantor
ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

  বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার  

১২ এপ্রিল ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী হলে তল্লাশি চালিয়ে ২০টি ককটেল, ৬০-৭০টি জিআই

পাইপসহ প্রচুর পরিমাণে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া তিন ঘণ্টার এ সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- বেলাল (অর্থনীতি, ১ম বর্ষ), নাহিদ (ফিন্যান্স, ১ম বর্ষ), নাঈম, শাহজাদ, আবু সাঈদ, মনির হোসেন, রাব্বি।

হলের প্রাধ্যক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজের আগে হলের সভাপতি মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আরেফিন সিদ্দিক সুজনের গ্র“পের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা গোসল করতে যান। এ সময় গোসলখানা থেকে দেরি করে বের হওয়া নিয়ে দুই গ্র“পের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষ হওয়ার পর সূর্যসেন হলের ক্যাফেটেরিয়ায় খেতে যান সভাপতি গ্র“পের নাহিদ। এ সময় সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের ১০-১২ জন তাকে মারধর করেন। পরে হলে এসে ঘটনার কথা জানান হলের ছাত্রলীগ নেতা চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সরোয়ারকে। বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে তিনি তার গ্র“পের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন। কিন্তু তার বাধা উপেক্ষা করে সভাপতি গ্র“পের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সাধারণ সম্পাদক গ্র“পকে মারতে যান।

খবর পেয়ে সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের কর্মীরা জসীম উদ্দিন হলে চলে যান। পরে সভাপতির গ্র“প জসীম উদ্দিন হলে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান এবং হলে ফিরে আসেন।

এ সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে ‘জসীম উদ্দিন হল ও সূর্যসেন হলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে’। যে কারণে জসীম উদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরাও ঘটনাস্থলে থাকা সূর্যসেন হলের সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের কর্মীদের মারধর করেন। পরে সাধারণ সম্পাদক সুজন গিয়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হলে ফিরে আসেন।

হলে আসার পর শুরু হয় দুই গ্র“পের দফায় দফায় সংঘর্ষ। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সভাপতি গ্র“পের কর্মীরা হলের রিডিং রুমের সামনে এবং সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের কর্মীরা গেমস রুমের সামনে অবস্থান নেন। চলে টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে হলের উত্তর-পশ্চিম কোণে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণে। অবস্থা বেগতিক দেখে সাড়ে ৩টার দিকে সূর্যসেন হলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী, হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ। তারা এসে হলের কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেন এবং উভয় গ্র“পকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর পরেও সংঘর্ষ না থামলে আনা হয় ছয় প্লাটুন পুলিশ।

পরে পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। হলে ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্রের মজুদ আছে এমন ধারণা থেকে হলের ছয়টি ব্লকেই করা হয় তল্লাশি। এ সময় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাহেব আলীর নেতৃত্বে থাকা টিমটি হলের ৪৫৪ নম্বর তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে হল প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০টি ককটেল উদ্ধার করে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্লাটুন, ৬০-৭০টি জিআই পাইপ, ১টি হাতুড়ি, ১টি ছোরা, ২৫টি রড, ১টি চাপাতি, ২টি রামদা, ১টি বটি, ১টি শেকল, ১টি সাইকলের প্যাডেল এবং বেশকিছু স্টাম্প এবং কাঠের লাঠি উদ্ধার করে।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল জানান, হল থেকে এতগুলো ককটেল উদ্ধারের ঘটনা সহজভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ককটেল উদ্ধারকৃত ৪৫৪ নম্বর রুম এবং ব্যাপক পরিমাণে জিআই পাইপ উদ্ধার হওয়া ২৪০ নম্বর রুমটি তৎক্ষণাৎ সিলগালা করেছি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শাহবাগ থানার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ডাকে আমরা হলে যাই এবং তল্লাশি চালাই। এ সময় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী জানান, সামান্য ব্যাপার নিয়ে এ ধরনের ঘটনা খুবই অনাকাক্সিক্ষত।



সাবমিট

ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ

 বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার 
১২ এপ্রিল ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী হলে তল্লাশি চালিয়ে ২০টি ককটেল, ৬০-৭০টি জিআই

পাইপসহ প্রচুর পরিমাণে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া তিন ঘণ্টার এ সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- বেলাল (অর্থনীতি, ১ম বর্ষ), নাহিদ (ফিন্যান্স, ১ম বর্ষ), নাঈম, শাহজাদ, আবু সাঈদ, মনির হোসেন, রাব্বি।

হলের প্রাধ্যক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজের আগে হলের সভাপতি মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আরেফিন সিদ্দিক সুজনের গ্র“পের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা গোসল করতে যান। এ সময় গোসলখানা থেকে দেরি করে বের হওয়া নিয়ে দুই গ্র“পের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষ হওয়ার পর সূর্যসেন হলের ক্যাফেটেরিয়ায় খেতে যান সভাপতি গ্র“পের নাহিদ। এ সময় সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের ১০-১২ জন তাকে মারধর করেন। পরে হলে এসে ঘটনার কথা জানান হলের ছাত্রলীগ নেতা চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সরোয়ারকে। বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে তিনি তার গ্র“পের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন। কিন্তু তার বাধা উপেক্ষা করে সভাপতি গ্র“পের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সাধারণ সম্পাদক গ্র“পকে মারতে যান।

খবর পেয়ে সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের কর্মীরা জসীম উদ্দিন হলে চলে যান। পরে সভাপতির গ্র“প জসীম উদ্দিন হলে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান এবং হলে ফিরে আসেন।

এ সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে ‘জসীম উদ্দিন হল ও সূর্যসেন হলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে’। যে কারণে জসীম উদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরাও ঘটনাস্থলে থাকা সূর্যসেন হলের সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের কর্মীদের মারধর করেন। পরে সাধারণ সম্পাদক সুজন গিয়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হলে ফিরে আসেন।

হলে আসার পর শুরু হয় দুই গ্র“পের দফায় দফায় সংঘর্ষ। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সভাপতি গ্র“পের কর্মীরা হলের রিডিং রুমের সামনে এবং সাধারণ সম্পাদক গ্র“পের কর্মীরা গেমস রুমের সামনে অবস্থান নেন। চলে টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে হলের উত্তর-পশ্চিম কোণে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণে। অবস্থা বেগতিক দেখে সাড়ে ৩টার দিকে সূর্যসেন হলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী, হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ। তারা এসে হলের কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেন এবং উভয় গ্র“পকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর পরেও সংঘর্ষ না থামলে আনা হয় ছয় প্লাটুন পুলিশ।

পরে পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। হলে ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্রের মজুদ আছে এমন ধারণা থেকে হলের ছয়টি ব্লকেই করা হয় তল্লাশি। এ সময় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাহেব আলীর নেতৃত্বে থাকা টিমটি হলের ৪৫৪ নম্বর তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে হল প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০টি ককটেল উদ্ধার করে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্লাটুন, ৬০-৭০টি জিআই পাইপ, ১টি হাতুড়ি, ১টি ছোরা, ২৫টি রড, ১টি চাপাতি, ২টি রামদা, ১টি বটি, ১টি শেকল, ১টি সাইকলের প্যাডেল এবং বেশকিছু স্টাম্প এবং কাঠের লাঠি উদ্ধার করে।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল জানান, হল থেকে এতগুলো ককটেল উদ্ধারের ঘটনা সহজভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ককটেল উদ্ধারকৃত ৪৫৪ নম্বর রুম এবং ব্যাপক পরিমাণে জিআই পাইপ উদ্ধার হওয়া ২৪০ নম্বর রুমটি তৎক্ষণাৎ সিলগালা করেছি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শাহবাগ থানার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ডাকে আমরা হলে যাই এবং তল্লাশি চালাই। এ সময় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী জানান, সামান্য ব্যাপার নিয়ে এ ধরনের ঘটনা খুবই অনাকাক্সিক্ষত।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র