jugantor
ছাত্রলীগের অপকর্মে জিম্মি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

  আবু বকর রাহাত, চবি থেকে  

১১ নভেম্বর ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নানা অপকর্মে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, শাটল ট্রেন অবরোধ, ফটক অবরোধ, নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ভাংচুর, দোকানে ফাও খাওয়া, পুলিশের ওপর হামলা, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর, অভ্যন্তরীণ গ্র“পিং, দিবালোকে অস্ত্রপ্রদর্শন, শিক্ষক বাসে হামলা এবং ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করছে না।

এসব অভিযোগের সবই মহানগরী আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত ছাত্রলীগের গ্র“পগুলোর বিরুদ্ধে। এসব সমস্যায় বিভিন্ন সময়ে একশ’ দিনেরও বেশি কার্যদিবসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতেই ঘুরছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ হাজার শিক্ষার্থীর ভাগ্য।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি ধারায় রাজনীতি চলছে। একটি মহানগরী আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত, অন্যটি সাধারণ সম্পাদক আজম নাসির সমর্থিত। এর মধ্যে মহিউদ্দিন চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্র“প ও সুমন মামুন গ্র“প। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অন্তর্কোন্দল, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ থেকে শুরু করে আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিভিন্ন সময়ে হামলা ও সংঘর্ষের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার সিংহভাগই সংঘটিত হয়েছে এ গ্র“প দুটির মধ্যে। দুটি গ্র“পের প্রত্যেকটি নিজেদের মহিউদ্দিন চৌধুরীর একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে আসছে। এ গ্র“পের নেতাকর্মীরা তুচ্ছ ঘটনায় অবরোধ করছে শাটল ট্রেন। বন্ধ করে দিচ্ছে শিক্ষক বাস চলাচল। হামলার ঘটনা ঘটছে এক গ্র“পের ওপর প্রতিপক্ষ গ্র“পের। অন্যদিকে নাসির সমর্থিত ৬টি গ্র“পের মধ্যেও অন্তর্কোন্দলের শেষ নেই। গ্র“পগুলোর বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড়সম অভিযোগ। গত তিন বছরে ছাত্রলীগের সঙ্গে অন্য সংগঠন ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ৭৫টি। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে একশ’ দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকে। এ সময়ের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬ শিক্ষার্থী।

শাটল ট্রেন অবরোধ : ‘শাটল ট্রেন অবরোধ মানেই চবি অবরোধ’ এ কথাটি সবার জানা। আর এ বিষয়কে পুঁজি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে নিজেদের স্বার্থ আদায় করছে ছাত্রলীগ। প্রায় দুই মাস পর চবিতে সোমবার ক্লাস পরীক্ষা চালু হয়েছে। আর এ সময়ে অবরোধের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে অবরোধ ডাকে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুমন মামুন ও অমিত কুমার বসু সমর্থিত নেতাকর্মীরা। এর আগেও এ গ্রুপটি ৭ মে থেকে ১৪ মে এক সপ্তাহ শাটল ট্রেন অবরোধ করে। আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে অবরোধ ডাকে তারা। শুধু এ কয়েকটি অবরোধ নয়, গত তিন বছরে একশ’ বারেরও বেশি শাটল ট্রেন অবরোধ করে ছাত্রলীগ।

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি : চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজির হাজারো অভিযোগ। টেন্ডারবাজিতেও রয়েছে সমান দখল। চাঁদা না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হল ও বঙ্গবন্ধু হলের কাজ বন্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ। শুধু হলের নির্মাণাধীন কাজই নয়, বিভিন্ন সময়ে চাঁদার দাবিতে দোকানদারকে মারধর ও দোকান বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও ঘটে এ সময়ে। এসব চাঁদাবাজির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার হয় ছাত্রলীগের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী। এ সময় সাবেক এক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও কাজ না করেও বিল তোলার অভিযোগ আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সাবেক হলেও নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজির জন্য এ নেতা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

নিয়োগ বাণিজ্য : ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে শতাধিক নিয়োগে এ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ফাইন্যান্স, ইসলামের ইতিহাস, চারুকলা ইন্সটিটিউট ও মাইক্রোবায়োলজিসহ কয়েকটি বিভাগে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে সভাপতি মামুনুল হককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার গ্র“পের নেতাকর্মীরা। শুধু মামুনুল হকই নয়, সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেদ, যুগ্ম সম্পাদক তানজিম হোসেনের বিরুদ্ধেও আসে এসব অভিযোগ।

সংঘর্ষ ও হামলা : ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে গত চার বছরে ৭৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে বরাবরেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। আহত হয়েছে দু’শতাধিক। ২০১৩ সালের ১৪ মে সভাপতি মামুন ও সহ-সভাপতি অমিত কুমার বসুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দু’ছাত্রলীগকর্মী আহত হয়। ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি মামুন গ্র“পের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর টিপুর গ্র“পের সংঘর্ষে ৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়। ২০১২ সালের ১২ মার্চ ছাত্রলীগের অন্যায় আচরণে পদত্যাগ করেন প্রক্টর ড. আখতার হোসেন।

এছাড়া গত ৩ বছরে শিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের অন্তত ১০ বার সংঘর্ষ হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে প্রকাশ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে ছাত্রলীগ। এতে উভয় গ্র“পের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এর আগে ১২ জানুয়ারি শাহ আমানত হলে হামলা করে ছাত্রলীগ। এতে শিবিরের শাহ আমানত হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মামুন হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হয় ৩০ জন। ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের হাতে নিহত হয় শিবির নেতা মাসুদ বিন হাবিব ও মুজাহিদুল ইসলাম। ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল হল থেকে ৪২ জন শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিজ গ্র“পের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আমার নাম ভাঙিয়ে কোথায় কে কি করছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি কোনো ধরনের গ্র“পিং আর দলাদলির মধ্যে কখনও ছিলাম না আর এটা সমর্থনও করি না। আর শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে বরাবরেই আমি সচেষ্ট ছিলাম। যারা অবরোধ করে শিক্ষাঙ্গন অচল করে রাখে তারা আমার অনুসারী হতে পারে না।’

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘চবি ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিষয়ে আমাদের হাতে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আগামী দিনে সংগঠনের নেতৃত্বে এদের স্থান দেয়া হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ জানান, ‘ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন রাজনৈতিক নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।’


 

সাবমিট

ছাত্রলীগের অপকর্মে জিম্মি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 আবু বকর রাহাত, চবি থেকে 
১১ নভেম্বর ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নানা অপকর্মে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, শাটল ট্রেন অবরোধ, ফটক অবরোধ, নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ভাংচুর, দোকানে ফাও খাওয়া, পুলিশের ওপর হামলা, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর, অভ্যন্তরীণ গ্র“পিং, দিবালোকে অস্ত্রপ্রদর্শন, শিক্ষক বাসে হামলা এবং ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করছে না।

এসব অভিযোগের সবই মহানগরী আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত ছাত্রলীগের গ্র“পগুলোর বিরুদ্ধে। এসব সমস্যায় বিভিন্ন সময়ে একশ’ দিনেরও বেশি কার্যদিবসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতেই ঘুরছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ হাজার শিক্ষার্থীর ভাগ্য।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি ধারায় রাজনীতি চলছে। একটি মহানগরী আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থিত, অন্যটি সাধারণ সম্পাদক আজম নাসির সমর্থিত। এর মধ্যে মহিউদ্দিন চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ছাত্রলীগের ভিএক্স গ্র“প ও সুমন মামুন গ্র“প। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অন্তর্কোন্দল, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ থেকে শুরু করে আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিভিন্ন সময়ে হামলা ও সংঘর্ষের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার সিংহভাগই সংঘটিত হয়েছে এ গ্র“প দুটির মধ্যে। দুটি গ্র“পের প্রত্যেকটি নিজেদের মহিউদ্দিন চৌধুরীর একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে আসছে। এ গ্র“পের নেতাকর্মীরা তুচ্ছ ঘটনায় অবরোধ করছে শাটল ট্রেন। বন্ধ করে দিচ্ছে শিক্ষক বাস চলাচল। হামলার ঘটনা ঘটছে এক গ্র“পের ওপর প্রতিপক্ষ গ্র“পের। অন্যদিকে নাসির সমর্থিত ৬টি গ্র“পের মধ্যেও অন্তর্কোন্দলের শেষ নেই। গ্র“পগুলোর বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড়সম অভিযোগ। গত তিন বছরে ছাত্রলীগের সঙ্গে অন্য সংগঠন ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ৭৫টি। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে একশ’ দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকে। এ সময়ের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬ শিক্ষার্থী।

শাটল ট্রেন অবরোধ : ‘শাটল ট্রেন অবরোধ মানেই চবি অবরোধ’ এ কথাটি সবার জানা। আর এ বিষয়কে পুঁজি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে নিজেদের স্বার্থ আদায় করছে ছাত্রলীগ। প্রায় দুই মাস পর চবিতে সোমবার ক্লাস পরীক্ষা চালু হয়েছে। আর এ সময়ে অবরোধের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে অবরোধ ডাকে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুমন মামুন ও অমিত কুমার বসু সমর্থিত নেতাকর্মীরা। এর আগেও এ গ্রুপটি ৭ মে থেকে ১৪ মে এক সপ্তাহ শাটল ট্রেন অবরোধ করে। আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে অবরোধ ডাকে তারা। শুধু এ কয়েকটি অবরোধ নয়, গত তিন বছরে একশ’ বারেরও বেশি শাটল ট্রেন অবরোধ করে ছাত্রলীগ।

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি : চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজির হাজারো অভিযোগ। টেন্ডারবাজিতেও রয়েছে সমান দখল। চাঁদা না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হল ও বঙ্গবন্ধু হলের কাজ বন্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ। শুধু হলের নির্মাণাধীন কাজই নয়, বিভিন্ন সময়ে চাঁদার দাবিতে দোকানদারকে মারধর ও দোকান বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও ঘটে এ সময়ে। এসব চাঁদাবাজির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার হয় ছাত্রলীগের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী। এ সময় সাবেক এক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও কাজ না করেও বিল তোলার অভিযোগ আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সাবেক হলেও নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজির জন্য এ নেতা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

নিয়োগ বাণিজ্য : ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে শতাধিক নিয়োগে এ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ফাইন্যান্স, ইসলামের ইতিহাস, চারুকলা ইন্সটিটিউট ও মাইক্রোবায়োলজিসহ কয়েকটি বিভাগে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে সভাপতি মামুনুল হককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার গ্র“পের নেতাকর্মীরা। শুধু মামুনুল হকই নয়, সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেদ, যুগ্ম সম্পাদক তানজিম হোসেনের বিরুদ্ধেও আসে এসব অভিযোগ।

সংঘর্ষ ও হামলা : ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে গত চার বছরে ৭৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে বরাবরেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। আহত হয়েছে দু’শতাধিক। ২০১৩ সালের ১৪ মে সভাপতি মামুন ও সহ-সভাপতি অমিত কুমার বসুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দু’ছাত্রলীগকর্মী আহত হয়। ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি মামুন গ্র“পের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর টিপুর গ্র“পের সংঘর্ষে ৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়। ২০১২ সালের ১২ মার্চ ছাত্রলীগের অন্যায় আচরণে পদত্যাগ করেন প্রক্টর ড. আখতার হোসেন।

এছাড়া গত ৩ বছরে শিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের অন্তত ১০ বার সংঘর্ষ হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে প্রকাশ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে ছাত্রলীগ। এতে উভয় গ্র“পের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এর আগে ১২ জানুয়ারি শাহ আমানত হলে হামলা করে ছাত্রলীগ। এতে শিবিরের শাহ আমানত হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মামুন হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হয় ৩০ জন। ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের হাতে নিহত হয় শিবির নেতা মাসুদ বিন হাবিব ও মুজাহিদুল ইসলাম। ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল হল থেকে ৪২ জন শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিজ গ্র“পের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আমার নাম ভাঙিয়ে কোথায় কে কি করছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি কোনো ধরনের গ্র“পিং আর দলাদলির মধ্যে কখনও ছিলাম না আর এটা সমর্থনও করি না। আর শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে বরাবরেই আমি সচেষ্ট ছিলাম। যারা অবরোধ করে শিক্ষাঙ্গন অচল করে রাখে তারা আমার অনুসারী হতে পারে না।’

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘চবি ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিষয়ে আমাদের হাতে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আগামী দিনে সংগঠনের নেতৃত্বে এদের স্থান দেয়া হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ জানান, ‘ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন রাজনৈতিক নেতারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।’


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র