¦
আলীগ মাঠে কারাগারে বিএনপি

| প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৫

সক্রিয় নতুন উদ্যমে

আবদুল্লাহ আল মামুন

বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালে নাশকতা মোকাবেলায় মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অবরোধের শুরু থেকেই রাজধানীর মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছিল দলটির নেতাকর্মীদের। এরপর জ্বালাও-পোড়াও বেড়ে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়। তবে বুধবার থেকে নতুন উদ্যমে তারা মাঠে নেমেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা মাঠে সক্রিয় ছিল। হরতাল ও অবরোধবিরোধী মিছিল-সমাবেশ ও অবস্থান নিয়ে রাজপথে সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে তাদের। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোথাও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন হয়েছে, কোথাও গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে।
সহিংসতা দমনে প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরস্কার ঘোষণা, ১৪ দলের নেতৃত্বে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসী, বোমাবাজ ও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী গ্রেফতার, পেট্রলবোমার ব্যবহার কমে আসা এবং নাশকতার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হয়েছে। তারা বিপুল উদ্যমে পুনরায় রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সক্রিয় হয়ে ওঠাও এই উদ্দীপনা সঞ্চারের অন্যতম কারণ। দলটির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ গতরাতে যুগান্তরকে বলেন, ‘সম্প্রতি যেভাবে পেট্রলবোমা মেরে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তাতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করা যে কোনো সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। আমরা সেটাই করছি। দলের নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। তারা বিভিন্নভাবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন।’ তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে জোরালো প্রতিরোধ সৃষ্টি করায় ৮০ ভাগ নাশকতা বন্ধ হয়ে গেছে। আশা করছি, বাকিটুকু অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর অবধি যুব সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণ। সংগঠনের সভাপতি ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। অবরোধ-হরতালের নামে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও মহল্লার কয়েক হাজার নেতাকর্মী এতে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে নেতাকর্মীদের লোহার রড নিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ দেন যুবলীগের ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ হত্যা করছেন। আগে আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লাঠি মিছিল করতাম। এখন আর শুধু লাঠি নয়, প্রস্তুত থাকুন, লোহার রড নিয়ে মাঠে নামতে হবে। মানুষ হত্যা বন্ধ না করলে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। ওমর ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপি নেত্রীকে আর সন্ত্রাস করতে দেয়া হবে না। সন্ত্রাস প্রতিরোধে যুবলীগের নেতৃত্বে দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লায় ‘যুব ব্রিগেড’ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
যুবলীগের সমাবেশ চলার সময় গুলিস্তান এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী ওলামা লীগ হরতালবিরোধী খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে শহীদ নূর হোসেন স্কোয়ার, মতিঝিল এবং পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার আনন্দ সিনেমা হলের সামনে হরতালবিরোধী সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ। রাজধানীর ১৩টি স্থানে যুবলীগ উত্তরের নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিল বলে জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, মিরপুর-১ নম্বর, ১০ নম্বর গোলচত্বর, উত্তরার রাজলক্ষ্মী মোড়, শ্যামলী, খিলক্ষেত, গুলশান-২ নম্বর এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীরা হরতালবিরোধী অবস্থান নেয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও এলাকায় মহড়া দিতে দেখা গেছে। মহানগর উত্তরের অন্তর্গত ২৮টি পয়েন্টে গতকাল সতর্ক অবস্থানে ছিল ছাত্রলীগ। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মোড়ে মোড়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান চোখে পড়ে। দুপুরে মতিঝিল বলাকা চত্বরের সামনে সমাবেশ করে জাতীয় শ্রমিক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। এ সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আযম খসরু, নগর নেতা শাসছুল আলম বকুল প্রমুখ বক্তৃতা করেন। সমাবেশে অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি ব্যক্ত করা হয়।
অবরোধ তুলে নিতে খালেদা জিয়াকে আলটিমেটাম : অবরোধ তুলে নিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আলটিমেটাম দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, ঢাকা জেলা হিউম্যান হলার সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, ঢাকা জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কয়েক’শ কর্মী বিএনপি চেয়ারপরাসনের গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। অবশ্য গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
এছাড়া ঢাকার বাইরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতাকর্মীরা আগের চেয়ে সক্রিয় হয়েছেন। বুধবার থেকে তাদের নতুন চেহারায় দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারও অবরোধ-হরতালবিরোধী জোরালো অবস্থানে ছিলেন ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মিত্ররা। ঢাকার বাইরে থেকে এমনই তথ্য জানিয়েছেন যুগান্তরের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ শহরে মানববন্ধন করে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডে সক্রিয় ছিল ছাত্রলীগ। তারা লাঠি মিছিল করেছে। বগুড়া শহরেও অবরোধ ও হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো। যশোরে মাঠ দখল রাখার চেষ্টায় সক্রিয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার সভা-সমাবেশ করেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে সভা করেছে। সেখান থেকে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
যশোর : হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতার সৃষ্টিকারী ও মদদদাতাদের তালিকা তৈরিতে মাঠে নেমেছে যশোর অঞ্চলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতারা এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করছেন। একই সঙ্গে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথ দখলে রাখছে দলটির নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারির আগে থেকেই যশোরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথ দখলে রেখেছে।
বগুড়া : জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন জানান, কেন্দ্রের কোনো চিঠি এখনও হাতে না পেলেও টেলিভিশনে নির্দেশনা পেয়ে নাশকতাবিরোধী কমিটি গঠন শুরু করেছেন তারা। তাছাড়া প্রতিদিন শহর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হরতাল-অবরোধবিরোধী সভা-সভাবেশ করা হচ্ছে। পুরো জেলা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
বরিশাল : মহানগরীতে অবরোধ ও হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে। অবরোধের প্রথম দিন থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দিনের বেলা অবস্থান নেয় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাকে আহ্বায়ক, আওয়ামী লীগের আবদুল লতিফ বিশ্বাস, আবু মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া ও জাসদের আবদুল হাই তালুকদারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে জেলা নাশকতাবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হলেও ১৪-দলভুক্ত জেলা পর্যায়ের জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রধানদের প্রাথমিকভাবে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
খুলনা : বৃহস্পতিবার থেকে বিভাগসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সন্ত্রাস-নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠন শুরু করেছে ১৪ দল। ২০-২৫ জন নিয়ে এ কমিটি গঠিত হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ যুগান্তরকে জানান, বিএনপি সন্ত্রাস রুখতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে একজোট হয়ে প্রতিরোধে মাঠে নামতে হবে।
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় ১৪ দলের সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে এ কমিটির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
রাজশাহী : রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁতে প্রায় প্রতিদিনই হরতাল-অবরোধবিরোধী কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার মহানগর ছাত্রলীগ মানববন্ধনের আয়োজন করে। নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার নগরীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও রোববার যুবলীগ বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বলে জানা গেছে। এছাড়া সোমবার মহিলা লীগের উদ্যোগে হরতাল-অবরোধবিরোধী থালা-বাটি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরী, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সন্ত্রাস-নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃংলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে মাঠে নেমেছে।
মহানগরী ও বিভাগের প্রতিটি জেলায় ১৪ দলের নেতাকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, পেশাজীবী ও মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করে এ কমিটি গঠনের কাজ চলছে। অনেক আগে থেকেই মহানগরীতে প্রতিদিন হরতাল-অবরোধবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করে আসছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবারও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের উদ্যোগে লাঠি মিছিল হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, রবি-সোমবার মহানগরীর কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব।
ময়মনসিংহ ও ত্রিশাল : জেলা সদরে হরতাল-অবরোধ ও নাশকতা প্রতিরোধে মাঝে মধ্যেই সভা-সমাবেশ ও মিছিল করছে আওয়ামী লীগ।
গ্রেফতার দশ হাজার
হাবিবুর রহমান খান
আন্দোলন দমনে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর অভিযান। এ অভিযান শুরুর আগ থেকেই কারাগারে আছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী। গত ১ মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে পাঁচ শতাধিক মামলায় কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।
এই মুহূর্তে বিএনপিসহ জোটের যারা কারাগারের বাইরে আছেন, তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো মামলার আসামি। রাজপথে নামলেই নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে বলে জোট নেতাদের অভিযোগ। আর আটকের পরপরই পুরনো মামলা ছাড়াও নতুন করে গাড়ি পোড়ানোসহ অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি কথিত বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন নিহত হওয়ায় নেতাকর্মীরা আপাতত নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে গ্রেফতার আতংক। গ্রেফতার এড়াতে সক্রিয় নেতাকর্মীরা আগে থেকেই বাড়িছাড়া। যৌথ অভিযানের পর তারা আরও বেশি সতর্ক হচ্ছেন। সরকারের নেয়া কঠোর পদক্ষেপে জোটের নেতাকর্মীরা রাজধানীসহ অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে বের হতে পারছেন না। গত কয়েকদিনে মাঝারি থেকে নিচের সারির নেতাদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। মিছিলে চালানো হচ্ছে গুলি। গ্রেফতার আতংকের পাশাপাশি দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশের পর অনেকেই প্রকাশ্যে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। সঙ্গে যোগ হয়েছে কথিত বন্দুকযুদ্ধ। বিশেষ করে ছাত্রদল নেতা জনিকে হত্যা করার পর মাঠপর্যায়ের অনেকের মাঝেই ‘ক্রসফায়ার’ আতংক বেড়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা অনেক আগেই থেকেই আত্মগোপনে। ঢাকার বাইরেও অধিকাংশ এলাকাতে ঘরবাড়িতে যেতে পারছেন না বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা। আত্মগোপনে থেকে কোনোমতে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। গ্রেফতার হলেই নতুন নতুন মামলায় আসামি করা হচ্ছে তাদের। বিগত সময়ে রাজধানীর বাইরে প্রায় সব বিভাগ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর্মীদের নিয়ে অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করা হলেও পুলিশ সেখান থেকে তেমন কাউকে গ্রেফতার করেনি। কিন্তু গত কয়েকদিনের চিত্র পুরো উল্টো। মিছিল থেকেই এখন তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিরোধী রাজনীতি দমনে দেশজুড়ে চলছে গণগ্রেফতার ও নির্মম নির্যাতন। সরকারবিরোধী আন্দোলন থামিয়ে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। ঢালাও মিথ্যা মামলা, নির্বিচারে গ্রেফতার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করে রক্তের স্বাদ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে সরকার। পুরো দেশটাকে তারা কারাগারে পরিণত করেছে।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের দিয়ে বিরোধী দলের ওপর যে অমানবিক নারকীয় আক্রমণ করানো হচ্ছে তাতে জনগণের কাছে আপনারা পরিণত হয়েছেন ভয়াল আতংকের প্রতীক হিসেবে। আপনারা যদি বিরোধী দলের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন বন্ধ না করেন তাহলে আপনাদের পরিণতি সুখকর হবে না।’ এভাবে গ্রেফতার-নির্যাতন চালিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না বলেও হুশিয়ারি দেন বিএনপির এই নেতা।
জানা গেছে, ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করেই মূলত শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান। ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে এর গতি বাড়তে থাকে। ৫ জানুয়ারি দুই দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের মাত্রা আরও বাড়ে। গত কয়েকদিনে তা পাইকারি হারে রূপ নেয়। ৬ জানুয়ারি প্রেস ক্লাব থেকে আটক করা হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। আন্দোলন শুরুর আগেই গ্রেফতার করা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে। অবরোধ শুরু হওয়ার পর রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, জোটের শরিক লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ। এছাড়াও প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিএনপি-জামায়াতের শত শত নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে পুরাতন অনেক মামলায়ও সক্রিয় নেতা এমনকি জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র জিকে গউছকে (দু’জনেই বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। আগে থেকে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু, লুৎফুজ্জামানা বাবর প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, শুধু গ্রেফতার নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে একটি ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সবার মাঝে আতংক তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে এ ধরনের অভিযান আগে কখনও হয়নি। ক্রসফায়ারে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা, যৌথ বাহিনীর অভিযানে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনাও এর আগে কখনও হয়নি।
তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা অনেকদিন ধরেই বাড়িছাড়া। এসব করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। সরকার নমনীয় না হলে বা দাবি মেনে না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন আন্দোলন করতে হতে পারে। যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় বিএনপির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা গ্রেফতারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাড়ে তিনশ’ মামলায় অন্তত ৩ হাজার এজাহারভুক্ত আসামি থাকলেও মামলার ধরন ও প্রকৃতি অনুযায়ী কার্যত যারাই ২০ দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের সবাই আসামি। বিভাগের ১১টি কারাগারে ৬ হাজার ২৪ জনের ধারণক্ষমতার স্থলে বর্তমানে বন্দি রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার। কেবল নগরীর ১২ থানায় বিএনপি-জামায়াত জোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিনশ’ মামলা দায়ের করে পুলিশ। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত সুনির্দ্দিষ্ট অন্তত ৩ হাজার আসামি থাকলেও অধিকাংশ মামলাতেই অজ্ঞাতনামা আসামির কোনো সুনির্দ্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই। নগরীতে গোপন বৈঠকের সময় ৪ জামায়াত নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট : খুলনা বিভাগে গত ১৭ দিনে বিভিন্ন অভিযোগে ৪২৯৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের রয়েছে ১০৮২ জন। গ্রেফতার আতংকে ২০ দলের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন। ১৬ মামলায় ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় পুলিশি অভিযানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বিএনপি জামায়াত ও শিবির সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩শ’। অন্যরা বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামি। পুলিশ ১৭ দিনে বিএনপি-জামায়াতের প্রায় ৫০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
বরিশাল ও আগৈলঝড়া : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রায় ৬ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে পুলিশ। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে। পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে পরিবার-পরিজন ও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতাকর্মী। অবরোধ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এযাবৎকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় ঐক্যজোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, আগৈলঝড়ায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজশাহী : প্রায় আড়াইশ’ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি ভোরে বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলার সভাপতি পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফাকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশের হয়রানি ও গ্রেফতার আতংকে নিজ বাসাতেও রাতে থাকতে পারছেন না ২০ দলের নেতকর্মীরা। গোদাড়ীতে অস্ত্রসহ এক শিবির ক্যাডারকে আটক করেছে পুলিশ।
বগুড়া ও শেরপুর : বগুড়ায় ২০ দলীয় জোটের হরতাল ও অবরোধ চলাকালে ১৭ দিনে নাশকতা, গাড়িতে আগুন, ককটেলবাজি এবং ভাংচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৯টি মামলা হয়েছে। সাড়ে তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাতজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়। পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকায় শীর্ষ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে আছেন। এদিকে, শেরপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের চার কর্মীকে আটক করেছে। পুলিশের বিশেষ অভিযানে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হুসাইনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পিকেটাররা শহরতলির বারপুর এলাকায় মহাসড়কে পেট্রলবোমা মেরে একটি ফার্নিচার বোঝাই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। আগুনে ট্রাকচালক টিটেন, ফার্নিচার মালিক আবদুর রহিম ও হেলপার সাজু দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রহিমের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
যশোর : যশোরে বিএনপি ও জামায়াতের ৬৯৪ জন নেতাকর্মীর নামে ১৮টি মামলা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭৫ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ৫১৯ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে আছেন। যশোরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের হওয়া ১৮টি মামলায় ৬৯৪ জন আসামির মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামও রয়েছেন। মামলার আসামি হয়ে ইতিমধ্যে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন।
রংপুর : অবরোধের ১৭ দিনে রংপুরে বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের ১৫৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে বেশিরভাগ নেতাকর্মী গাঢাকা দিয়েছেন। রংপুর পুলিশের সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, গত ১৭ দিনে বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা ও ঘটনার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৯৮ ও বিএনপির ৪৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া নাশকতার ঘটনায় রংপুর কোতোয়ালি থানায় ১টি ও মিঠাপুকুর উপজেলায় ২টি মামলায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী এখন আসামি।
কিশোরগঞ্জ : অবরোধ-হরতালের গত ১৭ দিনে কিছু বিচ্ছিন্ন নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. শরিফুল আলম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসরাইল মিয়া, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুল হক টিটুসহ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা রুজু হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী। এ কারণে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেছেন।
ময়মনসিংহ, ফুলবাড়ীয়া ও ত্রিশাল : ১৭ দিনে অবরোধ চলাকালে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলায় পুলিশ ৯টি মামলা দায়ের করেছে এবং নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকশ’ বিএনপি-জামায়াতের কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নড়াইল : জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সদরে ১৩, লোহাগড়া ও কালিয়ায় ৬ জন করে এবং নড়াগাতিতে ৪ জন। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে ও মামলার এজাহারভুক্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
হবিগঞ্জ, বানিয়াচং ও বাহুবল : যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ১৬ জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
টাঙ্গাইল : হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করার প্রস্তুতিকালে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় পৌর উদ্দান থেকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবুসহ ১৬ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম পুলিশ বিএনপির ৩ কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করেছে।
গাইবান্ধা: আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে গত বুধবার গভীর রাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের ২২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চাপাইনবাবগঞ্জ : বুধবার রাতভর যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সিরাজগঞ্জ : নাশকতার অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করেছে। সিরাজগঞ্জে ১৭ দিনে ১১টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
জয়পুরহাট : নাশকতার অভিযোগে ২ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ২০ দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে জেলায় ৬ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নবাবগঞ্জ : বান্দুরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মজর আলীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘর ছাড়া।
ভোলা : ভোলায় ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে বাপ্তা গ্রাম থেকে বিজেপি নেতা শাহানশাহকে ৫টি ককটেলসহ আটক করেছে।
চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বিল্লাল হোসেন মিয়াজিকে আটক করেছে পুলিশ।
পাবনা ও সাঁথিয়া : পুলিশ বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১০ কর্মী-সমর্থকসহ আরও ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি একরামুল হকও রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের সময় গান পাউডার এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় ।
গাজীপুর ও কালিয়াকৈর : পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করেছে। হরতাল-অবরোধে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন অভিযোগে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১১ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে আটক করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ফজলুল হক চৌধুরী ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বুধবার রাতে বিএনপি ও জামায়াতের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close