¦
২ জনকে অবসরে ও সাময়িক বরখাস্ত ৭

উবায়দুল্লাহ বাদল | প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৫

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠককারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে দুজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে বৈঠকে নেতৃত্বদানকারী ওএসডি যুগ্ম সচিব একেএম জাহাঙ্গীরকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য। তবে এসব বিষয়ে চাকরিচ্যুত ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষ নাম প্রকাশ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী গত ৪ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রশাসনে কর্মরত এবং অবসরে যাওয়া কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈঠক করেন। এ ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে গত ১১ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচিতিসহ তালিকা পাঠানো হয়। যাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।
গত ১১ ডিসেম্বর বৈঠকের নেতৃত্বদানকারী ওএসডি যুগ্ম সচিব একেএম জাহাঙ্গীরকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। আদেশে বলা হয়, “জাহাঙ্গীরের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার জনস্বার্থে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ১৯৪৭ সালের চাকরিবিধি ক্ষমতাবলে তাকে এ অবসর দেয়া হয়েছে। তিনি বিধি মোতাবেক অবসরজনিত সুবিধা পাবেন।” পাশাপাশি বৈঠকে অংশ নেয়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী অবরোধ চলাকালে গত এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠককারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে দুজনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরও একজনের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম এবং আইএমইডির অফিস সহায়ক মো. মজিবুল হক। আর সাময়িক বরখাস্তকৃতরা হলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম মিয়াজী ও মো. তৌফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম হুমায়ুন কবির, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মো. বিল্লাল হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হাসনাত এবং ইমাম হোসেন।
গত ১৩ জানুয়ারি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো নুরুল ইসলামের বিষয়ে বলা হয়, “যেহেতু বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, সরকার জনস্বার্থে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন বলে বিবেচনা করেন; সেহেতু সরকারি কর্মচারী (অবসর) আইন ১৯৭৪-এর ৯(২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সরকার তাকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করলেন। তিনি বিধি মোতাবেক অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।”
গত ২০ জানুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত হওয়া স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম হুমায়ুন কবিরের অফিস আদেশে বলা হয়, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২২ ডিসেম্বর পাঠানো পত্রে দেখা যায় যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরিত তথ্য অনুযায়ী আপনি গত ৪ ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানস্থ তার কার্যালয়ে কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীর রাজনৈতিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ৩(বি) বিধির অধীনে অসদাচারণ-এর অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ১১(১)-এর বিধি অনুসারে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম হুমায়ুন কবিরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে বিধি মোতাবেক ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।”
সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অপর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের নাম গোয়েন্দা প্রতিবেদনে থাকলেও তার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ ঘটনার সময় তার বাবা অসুস্থ থাকায় নিজ বাড়ি বগুড়ায় অবস্থান করছিলেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর রাতে বেসরকারি চ্যানেল ৭১ টিভির স্ক্রলে নিজের নাম দেখে তিনি তার পরিচিত একাধিক গণমাধ্যম কর্মীকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। এবং ৭১ টিভির একজন বার্তা সম্পাদকের নম্বর সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিজের অবস্থানও জানান। পরে ৭১ টিভি স্ক্রল থেকে তার নাম তুলেও দেয়া হয় বলে ওই সময় আবদুল মান্নান যুগান্তরকে জানান। তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অবহিত বলে জানা গেছে। তবে তার বাড়ি বগুড়া হওয়ায় তার বিষয়ে মুখ খুলছে না মন্ত্রণালয়ের কেউ।
প্রসঙ্গত, গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকের বিষয়ে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে পৃথক প্রতিবেদন দেয়া হয়। একটিতে পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত, একজন চাকরিচ্যুত ও ১৮ জন কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন বলে জানানো হয়। অপর প্রতিবেদনে বলা হয়, আটজন অবসরপ্রাপ্ত, একজন চাকরিচ্যুত ও ১৩ জন কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close