¦

এইমাত্র পাওয়া

  • সমাবেদনা জানাতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া || প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে কার্যালয়ের কেউ এগিয়ে আসেননি: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল
ঝলসে গেল ৪৪ বাসযাত্রী

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০১৫

এত রক্ত, লাশ আর পুড়ে যাওয়া মানুষের বুকফাটা কান্না- কিছুতেই থামছে না সহিংসতা। রাজধানীর ডেমরা ও রাজশাহীর তানোরে চলমান অবরোধের নৃশংসতম নাশকতার ঘটনা ঘটল শুক্রবার। পেট্রলবোমায় এদিন দগ্ধ হলেন নারী ও শিশুসহ ৪৪ জন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর ডেমরার কাঠের পুলের মোল্লা ব্রিজের কাছাকাছি একটি যাত্রীবোঝাই বাসে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হন ২৯ জন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশংকাজনক। পুলিশ বলছে, পেট্রলবোমার সঙ্গে সঙ্গে বাসটি লক্ষ্য করে ককটেলও নিক্ষেপ করা হয়। আক্রান্ত মানুষগুলোর, ‘আমাকে বাঁচান। আমার সারা শরীর পুড়ে যাচ্ছে। কী অপরাধ ছিল আমার?’ এমন সব আর্তচিৎকারে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। অন্যদিকে তানোরে সন্ধ্যায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে দগ্ধ হন আরও ১৫ জন। এর আগে একদিনে এত মানুষ দগ্ধ হননি।
ঢাকায় দগ্ধরা হলেন- তাকদিরুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিন, ইশতিয়াক মো. বাবর, সালাহউদ্দিন পলাশ, মোহম্মদ সালমান, নাজমুল হোসেন, আফরোজা আক্তার, শরিফ খান, মোহাম্মদ রাশেদ, শাহিদা আক্তার ফাতিমা ও তার স্বামী ইয়াসির আরাফাত, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ হৃদয়, ওসমান গনি, মো. খোকন, হারিস উদ্দিন, নূর আলম, ফারুক হোসেন, সুমন, রুবেল, আবুল হোসেন, শাহজাহান সর্দার, মোজাফফর মোল্লা, জাবের আলী, শহীদুল ইসলাম ও আবদুল মোমেন।
এদের মধ্যে তাকদিরুলের হাত, নাক ও মাথার চুল পুড়ে গেছে। ককটেলের আঘাত লেগেছে তার নাকে ও মুখে। আর আফরোজার গলায় ও মুখে লেগেছে ককটেলের আঘাত। তিনি বলেন, জীবনটা যে এভাবে তছনছ হবে তা জানা ছিল না। দগ্ধরা দু-একটি কথা ছাড়া আর কিছু বলতে পারছিলেন না। দগ্ধ এসব মানুষ যেন রাজনীতির অভিশাপ হিসেবেই সমাজে বেঁচে থাকবেন, এটাই তাদের নিয়তি। শুক্রবার রাতে এ নাশকতার পর রাজধানীতে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে।
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন যুগান্তরকে জানান, সাড়ে ৯টার দিকে গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ দগ্ধদের উদ্ধার করে বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায়। এসআই ইকবাল জানান, তিনি একটি গাড়িতে করে দগ্ধ আট ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেন। পথে তাদের প্রত্যেকের মুখে ছিল একটাই কথা ‘হাসপাতাল আর কতদূর, শরীর পুড়ে যাচ্ছে।’
দগ্ধ ব্যক্তিদের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হলে তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘বাঁচাও বাঁচাও’। এমনিভাবে আহাজারি করতে করতে খোকন নামে একজন বলতে থাকেন, ‘কেউ কি আমার মাকে খবর দিতে পারবেন। মাগো তুমি কি টের পাওনি। তোমার ছেলে পুড়ে গেছে।’
তাকদিরুলের তকদিরে কি এমনটাই ছিল যে পেট্রলবোমায় সে পুড়ে যাবে। তার হাতের তালু ও মাথার চুল পুড়ে গেছে। নাকের উপরে ককটেলের আঘাত। তার মুখে যে আর্তনাদ শোনা গেল তা হচ্ছে, ‘কী হচ্ছে এসব। আমি কী অপরাধ করেছি।’
পলাশ, নাজমুল, শরিফ আর রাশেদ যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে বলেন, ‘ভাই গায়ে পানি ঢালেন।’ স্বামী-স্ত্রী ফাতিমা ও ইয়াসির আগুনে পুড়ে গেছেন। ফাতিমা বলেন, ইয়াসির কোথায়? অন্যদিকে স্ত্রীর জন্য কাঁদতে থাকেন ইয়াসির। ওই বাসে নাকি তারা উঠতে চাননি। আফরোজার গলা আর মুখে ককটেলের আঘাত। তার কথা বলার ভাষা নেই। হাতটা বাড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন, দ্রুত তাকে সুস্থ করা হোক।
ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই ছুটে যান অসংখ্য মানুষ। পুলিশের কয়েকটি গাড়ি আর সিএনজিতে নেয়া হয় দগ্ধ ব্যক্তিদের। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে বার্তা পাঠানো হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকেই প্রস্তুত থাকে বার্ন ইউনিট। আগেই হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে খালি করা হয়। প্রয়োজনীয় গাড়ি ও লোক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি তখন। পেট্রলবোমায় যাদের শরীর বা মুখাবয়ব ঝলসে গেছে তাদের অনেকেই বেঁচে থাকবেন কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এর মধ্যে অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
ডেমরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্লোরি পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪৮৮৩) গুলিস্তান থেকে ছেড়ে রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় যাচ্ছিল। বাসটিতে যাত্রী ভর্তি ছিল। কোনাপাড়া এলাকায় কয়েক যুবক বাসের সামনে এসে দাঁড়ালে বাসটি থেমে যায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। বাসের যাত্রীরা হুড়াহুড়ি করে নামতে থাকেন। এরই মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। দগ্ধ হন যাত্রীরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই বাসের যাত্রী রংমিস্ত্রি আল আমিন জানান, তিনি বাসের দরজার পাশে বসেছিলেন। অল্পবয়সী দুই যুবক গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। এরপর তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। গাড়িতে ৪০ জনের অধিক যাত্রী ছিল। আর ওই যুবকের সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন তারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী লিটন জানান, দুটি মোটরসাইকেলে তিন-চারজন যুবক দেখেছেন। তারা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। একই রাতে ডেমরা এলাকায় আরও তিনটি গাড়িতে পেট্রলবোমা ও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তিনি জানান, ঘটনাস্থল মাতুয়াইল মোল্লা ব্রিজ, মাত্র ২০০ গজ দূরে ছিল পুলিশের টহল গাড়ি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাস্তায় পুলিশের টহল দুর্বলতার কারণে, আরোহীসহ মোটরসাইকেল নিয়ে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের সুযোগ পায় দুর্বৃত্তরা।
ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্তলাল সেন জানান, দগ্ধদের মধ্যে তিনজন নারী। আহতদের অনেকের শ্বাসনালীসহ মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। আহতদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশংকাজনক।
এদিকে দগ্ধদের স্বজনরা রাতে একে একে বার্ন ইউনিটে আসতে থাকেন। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট। দগ্ধ নাজমুলের মা নাছিমা বেগম জানান, তার ছেলে কলেজে পড়ালেখা করছে। আর এর ফাঁকে সে মোবাইলের টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করে। সে তার চাচাতো বোনের বিয়ে খেয়ে গাউছিয়া যাচ্ছিল। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ছেলেই সংসারের হাল ধরেছিল। এখন আমাদের কী হবে?’
রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া : মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভাগের সহযোগী আধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, দেশে একের পর এক যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আমরা বড় ধরনের একটা দুর্যোগের দিকে যাচ্ছি। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা যায়, সোশ্যাল ডিজঅরগানাইজেশন ডিউ টু পলিটিক্যাল ফ্রিকশন। অর্থাৎ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বড় ধরনের সামাজিক অরাজকতা তৈরি হওয়া। কার্যত আমাদের সামাজিক শৃংখলা ভেে    ঙ পড়েছে। এ জন্য সামাজিক ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিটাও অনেক বড় আকারে ঘটে থাকবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এক কথায় সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে এমন পরিস্থিতিতে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। এ জন্য সরকার প্রধানত জনগণের চাহিদার দিকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। জনগণ কী চাচ্ছে সে হিসেবে তার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন কিংবা অন্য যেকোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।
একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অপরাধবিজ্ঞানী মো. আজিজুর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বে গাড়িতে আগুন দেয়া অত্যন্ত হিংস্র কাজ এটাকে ভায়োলেন্ট একটিভিটিজ বলা হয়। এমন অপরাধ পলিটিক্যাল ক্রাইমের মধ্যেও ফেলা যায় না। আমাদের দেশে যেখানে চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে সেখানে-তো এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা সাধারণত আফ্রিকার গণতন্ত্রপ্রত্যাশী দেশগুলোতে ঘটে থাকে। আমরা কেন এমন করছি? এখানে সেনাশাসন নেই, স্বৈরশাসনও নেই। তবে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হল সেটাই খুঁজে বের করতে হবে আগে। দু’দলকেই আলোচনায় বসে একটা গঠনমূলক সমাধানের দিকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তাই রাজনীতিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
রাজশাহী ব্যুরো : সন্ধ্যার পর ইয়া রাব্বি নামে (ঝিনাইদহ-জ-০৪-০০০৮) বাসটি ২০ জন যাত্রী নিয়ে তানোর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসটি উপজেলা সদরের ব্র্যাক অফিসের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা গাড়িতে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। এতে শিশু ও নারীসহ ১৫ যাত্রী ঝলসে যান। দগ্ধ যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রথমে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। অল্প আহতরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শহীদুল ইসলাম রবিন যুগান্তরকে বলেন, উচ্চ দাহ্যক্ষমতার কোনো পদার্থ দিয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের প্রত্যেকেরই শরীরের কিছু কিছু অংশ দগ্ধ হয়েছে।
অগ্নিদগ্ধ বাসযাত্রী মোকবুল হোসেন জানান, সামনে একটি গরুর গাড়ি পড়লে বাসটির গতি কমিয়ে দেন চালক। এ সময় ৬-৭ দুর্বৃত্ত রাস্তার বাঁ-দিক থেকে তিনটি পেট্রলবোমা বাসের সামনে ও ভেতরে ছুড়ে মারে। বাসচালক নজরুল ইসলাম দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানো শুরু করে।
বাসচালক নজরুল ইসলাম জানান, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাসটির সামনের দিক ভস্মীভূত হয়ে যায়। যাত্রীদের অনেকেই জানালা ভেঙে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন। তিনি নিজেও আঘাত পেয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন, পেট্রলবোমা মেরে দুর্বৃত্তরা রাস্তার পূর্বদিকে বিলের দিকে দৌড়ে চলে যায়। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে। তাদের ঘাড়ে কালো ব্যাগ ছিল। হাতে ছিল বানর-টুপি। হামলার সময় সবার মুখই ছিল খোলা। অগ্নিদগ্ধ যাত্রী মোকবুল ও তার স্ত্রী জানান, তারা হামলাকারীদের দেখলে চিনতে পারবেন।
অগ্নিদগ্ধ যাত্রীদের তালিকা থেকে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার মোকবুল হোসেন ছাড়াও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাসের ভেতরেই পেট্রলবোমায় ঝলসে যান। এ ছাড়া তানোরের দেবীপুর গ্রামের অজুফা খাতুন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তার বাবার নাম ইয়াসিন আলী। এ ছাড়া রমজান আলী নামের আরেক যাত্রী পেট্রলের আগুনে পুড়েছেন। তিনি আজিজপুর গ্রামের রিয়াজুদ্দিনের ছেলে।
গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন- তানোরের ইলামদহী গ্রামের জুলেখা বিবি ও তার ৪ বছরের শিশুকন্যা ফারাজানা খাতুন। ফারজানার মুখমণ্ডল পেট্রলবোমায় ঝলসে গেছে।
এ ছাড়া আশরাফ আলী, আয়েন উদ্দিন ও আসিয়া নামে ৫ বছরের আরেক শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। চালকের সহকারী মুরাদ আলীও গুরুতর আহত হয়েছেন। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবীর। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত বোমা হামলা। দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।
পবায় আরও একটি বাসে আগুন, শিবিরের ২ কর্মীকে গণপিটুনি : একই সময় পবার বাগধানীর তেঘর এলাকায় অন্য একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় শিবিরের তিন কর্মী।
স্থানীয়রা জানান, যাত্রীবেশে তিন যুবক বাসে ওঠে। পরে গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এলাকাবাসী তাদের মধ্যে দু’জনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। তবে পিটুনিতে অবস্থা খারাপ হওয়ার তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close