¦
সংলাপই শেষ ভরসা

মাসুদ করিম | প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৫

দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সংলাপই শেষ ভরসা বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, কূটনীতিক, বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগীদের মতে রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান হওয়া উচিত। রাজনৈতিক সংকটের অরাজনৈতিক সমাধান অন্য সমস্যা টেনে আনবে। এজন্য সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। কাজেই তারা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারদের অবিলম্বে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। সব পক্ষ সম্মত হলে তারা সংলাপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার বিষয়ে সম্মত আছেন। একই সঙ্গে তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই সংলাপ ব্যর্থ হওয়া চলবে না।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে টানা অবরোধ কর্মসূচি চলছে। গত ২০ দিনের অবরোধে আর্থিক খাতের অবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুরো দেশের আর্থিক খাতের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি সহিংস ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ২০৮ জন। ৭২০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশকে পুরোপুরি অকার্যকরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিএনপি অনড় অবস্থানে চলে গেছে। কেউ ছাড় দিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। অবরোধ কর্মসূচির কারণে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই মূলত সংলাপের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা হচ্ছে। সব পক্ষের আলোচনা ছাড়া বর্তমান সমস্যা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি কাছে থেকে জানার জন্যে এরই মধ্যে বিদেশের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধি, বহুজাতিক সংস্থা ও বিদেশী সাংবাদিকরা ঢাকায় এসেছেন।
সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ এবং বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দেয়া চিঠিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ বলেছেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি মহাদুর্যোগপূর্ণ। রাজনীতিবিদরা অসুস্থ। তাদের চিকিৎসা দরকার। একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক রেষারেষি বাদ দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তা না হলে অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রোববার বারিধারায় এক সংবাদ সম্মেলনে বি চৌধুরী এ কথা বলেন।
রোববার প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে পাঁচ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। এতে সম্পাদকরা চলমান রাজনৈতিক সংকট আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। সবাই শান্তির সপক্ষে একমত হয়েছি। অশান্তি চাই না। দেশে যে বিশৃংখলা চলছে আমরা সবাই এর বিরুদ্ধে। আমরা সবাই মনে করি, এর রাজনৈতিক সমাধান হওয়া উচিত।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় চেম্বার নেতারা বর্তমান সংঘাতময় রাজনৈতিক সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত কয়েক দিন ধরে এফবিসিসিআই, ঢাকা চেম্বার, বিজিএমইএসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো লাগাতার হরতাল ও অবরোধের ফলে অর্থনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেছেন। তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ায় রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারদের মধ্যে সত্যিকার সংলাপের প্রতি জোর দিচ্ছেন বিদেশী কূটনীতিকরা। বিশেষ করে সহিংস পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন কূটনৈতিক মহল ঘটনা প্রবাহ নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করছেন তারা। তবে কূটনীতিকরা এটা মনে করেন যে, আইনশৃংখলাজনিত সংকট সৃষ্টি হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির মূলে রয়েছে রাজনৈতিক সংকট। ফলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে রাজনৈতিক সংলাপের কোনো বিকল্প নেই।
কূটনৈতিক মহলে পশ্চিমাদের মধ্যে কারও কারও এমন অভিমত যে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপযুক্ত মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে জাতিসংঘ। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংকট নিজেদের উদ্যোগে সমাধান হলেই সবচেয়ে টেকসই সমাধান হবে বলে তাদের অনেকেই মনে করেন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক কার্নেজ অ্যানডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস হল এই ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতি বিশ্লেষণের নামকরা এক বৈশ্বিক সংস্থা। এই সংস্থার দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক ফ্রেডরিক গ্রারে ঢাকায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ফ্রেডরিক সম্প্রতি যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, বর্তমান সমস্যা একটি রাজনৈতিক সংকট। এই রাজনৈতিক সংকটে অরাজনৈতিক সমাধান হলে অন্য সমস্যার সৃষ্টি করবে। আবার নতুন নির্বাচনও বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান নয়। নির্বাচন হলে বর্তমান অবস্থা থেকে ভিন্নতর এক সংকটের সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ সংকটের ধরন বদলাবে, সমস্যার সমাধান হবে না।
তিনি এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ব্যাপকভিত্তিক সংলাপের আয়োজন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তার মতে, নির্বাচন হলে এর ফলাফল মেনে না নিয়ে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলন শুরু হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথ রেখা আগেই আলাপ করে ঠিক করা প্রয়োজন। নির্বাচনের ফলাফল অবশ্যই মানতে হবে, কোনো অবস্থাতেই সহিংসতা করা যাবে না, সবকিছুতে একটা ভারসাম্য থাকতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উন্নত ব্যবস্থাপনাও জরুরি। এসব বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগে কোনো নির্বাচন সমস্যার সমাধান দেবে না।
ব্রিটিশ কূটনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমপিদের প্রায় অভিন্ন মত হল, প্রতি ৫ বছর পরপর নির্বাচন ঘিরে চক্রাকারে সহিংসতা ফিরে আসা বন্ধ করতে হবে। ফলে এখনই নির্বাচন তারা চান না। তারা এই বিষয়ে আগে একটি ফয়সালা চান। এজন্যে প্রয়োজন সব অংশীদারদের মধ্যে সংলাপ। শ্রীলংকার একজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে আগে তা চূড়ান্ত হওয়া জরুরি। এটা নিষ্পত্তির আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচনা নিরর্থক।
॥ৎবাংলাদেশ বিষয়ের প্রতি নজর রাখেন এমন একজন ভারতীয় বিশ্লেষকের মতে, তত্ত্বাবধায়ক কিংবা তত্ত্বাবধায়ক নয়, এই নিয়ে বাংলাদেশে যে বিতর্ক চলছে তা হাস্যকর। প্রকৃতপক্ষে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তার ওপর আলোচনা হওয়া উচিত ।
সম্প্রতি খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এটা নিয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ওই ঘটনা সম্পর্কে ব্যাপকভাবে খোঁজ-খবর নেন বিদেশী কূটনীতিকরা। কারা এই ঘটনা ঘটাল তা জানার জন্যে আইনশৃংখলা বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন কোনো কোনো দেশের কূটনীতিক। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গোয়েন্দা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রধানদের বৈঠকে এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে জানায় যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটই এই হামলা চালায়। এই বিষয়টি বিদেশীদের বলা হয়েছে এবং কূটনীতিকরা এই যুক্তি মেনে নিয়েছেন।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মালিক ও নির্বাহীদের সঙ্গে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়েও খোঁজ নিয়েছেন কূটনীতিকরা। সরকার মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে কিনা সে সম্পর্কেও তারা খোঁজ নেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সিএম শফি সামি বর্তমান পরিস্থিতিতে কোকোর মৃত্যুর ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তেমন কোনো হেরফের না হওয়ার কথাই বলেছেন। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একটা স্পেস থাকা জরুরি। কেননা উভয়ে অনড় থাকলে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনিও এই বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে একটা আপসরফা করার জন্যেই আহ্বান জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় যে, বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপের কোনো আশংকা নেই। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিন ল্যাম্বার্ট ১৬ জানুয়ারি দেয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ল্যাম্বার্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আছে অ্যামনেস্টিসহ সব মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে।
এদিকে, রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই রোববার ঢাকায় পৌঁছেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্ল–ম বার্নিকাট। তিনি খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সাধারণত বাংলাদেশে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক এবং অপরাপর বিষয়ে কথা বলা শুরু করেন। কিন্তু মার্সিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার আগে সংবাদ মাধ্যমে কোনো কথা বলবেন না বলে জানা গেছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও সংলাপ চায়।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশী কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব ব্রিফিংয়ের পর বিভিন্ন দেশ বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকেও কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ভারতের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হয়নি। ইতিপূর্বে দেশটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করবে না বলেই জানিয়েছিল। তবে ভারতের কূটনীতিকরা এই পরিস্থিতি অনেক নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। ভারতের হাইকমিশনারের বাসভবনে রাজনীতিবিদদের নৈশভোজ হয়েছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close