¦
মোদির বাজিমাত

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরের প্রথম দিনই বাজিমাত করলেন নরেন্দ্র মোদি। রোববার হায়দরাবাদ হাউসে ওবামার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি, প্রতিরক্ষা ও পরিবেশসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সফল বৈঠক করেন তিনি। বিশেষ করে পরমাণু চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল তার অবসান ঘটালেন মোদি। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ওবামা বলেন, ‘বেসামরিক পরমাণু চুক্তি দু’দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণে সকালে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত পৌঁছেন ওবামা। এ সফরকে কেন্দ্র করে দিল্লিজুড়ে নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। আজ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ওবামা। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রথম ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।
সকাল পৌনে ১০টায় নীল-সাদা জাম্বো ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ দিল্লির পালম বিমানবন্দরে পৌঁছে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরজুড়ে ব্যস্ত বিভিন্ন বাহিনীর চৌকস সদস্যরা নড়েচড়ে দাঁড়ান। ৫ মিনিট পর বিমান থেকে নেমে আসেন বারাক ওবামা। পরনে গাঢ় নীল স্যুট। সঙ্গে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। সেখানে তাদের দুজনকে স্বাগত জানান মোদি। এ সময় প্রটোকল ভেঙে ওবামাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। কুশলাদির পর ওবামার কনভয় সোজা চলে যায় মৌর্য শেরাটন হোটেলে।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ৪০-৫০টি গাড়িবহর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে যান ওবামা। রাইসিনা হিলসের ফোরকোর্টে ওবামার গাড়ি ঢুকতেই ২১টি তোপধ্বনি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। দেয়া হয় গার্ড অব অনারও। সেখানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান ওবামা। সেখানে তিনি বৃক্ষ রোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর ওবামা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হায়দরাবাদ হাউসে চলে যান। সেখানে মধ্যাহ্ন ভোজের পর বাসভবনের সামনের বাগানে দুজন একান্তে হাঁটতে হাঁটতে অনেকক্ষণ কথা বলেন।
বেলা সোয়া ৩টার দিকে হায়দরাবাদ হাউসে ওবামা-মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে দুই সরকার প্রধান বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি (টু থাউজেন্ড এইট সিভিল নিউক্লিয়ার কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) সই করেন। একে মোদির বিরাট সফলতা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ২০০৮ সালে পরমাণু বিষয়ে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু ২০১০ সালে পরামাণু দায়বদ্ধতা আইনের জটে গোটা বিষয়টিই থমকে যায়। ওই আইনে বলা হয়েছিল, কোনোরকম দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় নিয়ে বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইউরেনিয়াম সরবরাহকারী মার্কিন সংস্থাগুলোকে। এ শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি আমেরিকা। আইনের পরিবর্তন না হওয়ার কারণে গোটা বিষয়টিই থমকে থাকে গত ৬ বছর ধরে।
‘মেরা পেয়ার ভারা নমস্কার’ : বিকাল সোয়া ৪টার দিকে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসে ওবামা বলেন, ‘নামাস্তে, মেরা পেয়ার ভারা নমস্কার।’ তারপর মোদির উদ্দেশে বলেন, ‘চলে সাথ সাথ’ (চলুন একসঙ্গে চলি)। পরমাণু চুক্তির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দু’দেশ বেসামরিক পরমাণু জ্বালানি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পথেই এগোচ্ছে। এ সময় ওবামা মজা করে বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয়ে কথা বলেছি তার সব তো আপনাদের বলতে পারব না, তবে আমরা অবশ্যই ঘুম নিয়ে কথা বলেছি। মোদি আমার চেয়ে কম ঘুমান।’
তখন মোদি বলেন, ‘বারাক এবং আমি বন্ধু। আমরা ফোনে কথা বলি, কৌতুুক করি। আমাদের বন্ধুত্বই আমাদের দেশ ও জনগণকে একে অপরের কাছে নিয়ে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওবামা আমাকে আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে আশ্বাস দিয়েছেন।’
ওবামা বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন ৬০ শতাংশ বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের বাতাস আরও বিশুদ্ধ করার লক্ষ্যে আমরা যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। জঙ্গিবিরোধী তৎপরতার ব্যাপারেও আমরা একমত হয়েছি।’
পরমাণু চুক্তি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছেন ওবামা ও মোদি। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক কিছু চুক্তি।
সন্ধ্যায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওবামা। রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি আয়োজিত নৈশভোজ যোগ দেন তিনি।
আজ প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ওবামা : আজ দিল্লির রাজপথে আয়োজিত ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হবেন ওবামা। পরে প্রেসিডেন্ট প্রণবের পারিবারিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। বিকালে ওবামা ও মোদি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ব্যবসায়িক সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন এবং ভাষণ দেবেন। আগামীকাল ওবামার সিরি ফোর্ট অডিটোরিয়ামে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। এদিকে প্রয়াত সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা ও নতুন বাদশাহ সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ভারত সফর কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে ওবামা সৌদি আরবে যাবেন। হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই সফরে আগ্রা (তাজমহল) যেতে পারবেন না বলে প্রেসিডেন্ট দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
নজিরবিহীন নিরাপত্তা : ওবামার ভারত সফর ঘিরে নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। ওবামার বিভিন্ন চলার পথে প্রায় ১৫ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসনো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে এগুলোতে নজর রাখছে দিল্লি পুলিশ, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস এবং গোয়েন্দা সংস্থার অফিসারদের যৌথ বাহিনী।
প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ওবামার উপস্থিতি উপলক্ষে দিল্লিকে পরিণত করা হয়েছে দুর্ভেদ্য দুর্গে। প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল প্যারেড চত্বর দিল্লির ঐতিহাসিক ‘রাজপথ’ এর চারপাশকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে বিমানবিধ্বংসী কামান। এছাড়া কুচকাওয়াজের সময় ‘রাজপথ’ এলাকার চারপাশে প্রহরায় থাকবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জঙ্গি বিমান ও হেলিকপ্টার গানশিপ। সতর্ক অবস্থায় থাকছে প্রায় ৪০ হাজার পুলিশ। এছাড়া আছে বিপুলসংখ্যক আর্মড পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য।
৩ দিনের সফরে দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে অবস্থান করছেন ওবামা। এক সপ্তাহ আগে থেকেই এ হোটেল ও সংলগ্ন এলাকার দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close