¦
হরতালে পেছাল এসএসসির প্রথম দিনের পরীক্ষা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

এসএসসি ও সমমানের আজকের প্রথম দিনের পরীক্ষা নেয়া হবে শুক্রবার। বুধবার নির্ধারিত দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা আগের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবারই নেয়া হবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধের মধ্যেই ডাকা হরতালের কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রথম দিনে মোট ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষা পেছানোর কথা জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সামনের দিনেও হরতাল ডাকা হলে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হবে। শুক্রবার পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ৯টায়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, জুমার দিন হওয়ায় পরীক্ষা ১০টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। এবার ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন ছাত্রছাত্রী এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা দেবে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এসএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষা পেছানো বা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা ১১ দিন পেছাতে হয়েছিল। ২৮ মার্চ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেটি পিছিয়ে ৭ এপ্রিল শুরু করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর হরতালে পরীক্ষা পেছাতে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের হরতালের কারণে ২০১৩ সালের এসএসসির ৩৭টি বিষয় এবং এইচএসসির ৪১টি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নিতে হয়েছে। একই বছরের জেএসসি-জেডিসির ১৭টি বিষয় এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীর দুটি বিষয়ের পরীক্ষা হরতালের কারণে পিছিয়ে দেয়া হয়। গত বছরও বিএনপির হরতালের কারণে জেএসসি-জেডিসির ৯টি পরীক্ষা পিছিয়ে যায়।
পরীক্ষা পেছানোর কারণে মাধ্যমিকের এ পরীক্ষা মূলত বুধবার শুরু হচ্ছে। ওইদিন যদিও কোনো হরতাল নেই বিরোধী জোটের, এরপরও এ পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছেন অভিভাবকরা। এ নিয়ে উদ্বেগেরও শেষ নেই। কেননা হরতাল না থাকলেও অবরোধ কর্মসূচি বহাল থাকা অবস্থায়ও যাতায়াত নিরাপদ নয়। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রশ্ন- কেউ যদি কোনোরকম দুর্ঘটনার শিকার হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে?
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘তাদের (২০ দলীয় জোট) অবরোধে কিছু হয় না বলেই তারা হরতাল দিয়েছে। তারা ধরেই নিয়েছে যে এটা কার্যকরী নয়। তাই তারা হরতাল দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আশা করছি পরীক্ষার দিন হরতাল তো হবে না, অবরোধও থাকবে না। এটা না করলে তারা মানুষের কাছে কীভাবে মুখ দেখাবেন, রাজনীতি করবেন? যারা দিনের পর দিন হরতাল দিয়েছেন তাদের বলেন, হরতাল তুলে নেয়াটাই এর স্থায়ী সমাধান।’ এ সময় তিনি পরীক্ষার মধ্যে আর হরতাল না দেয়ারও আহ্বান জানান।
জানা গেছে, রোববার সংবাদ সম্মেলনের আগে পরীক্ষা নিয়ে সকাল ১০টার দিকে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব এএস মাহমুদ, স্বপন কুমার সরকার, যুগ্ম সচিব জাকির হোসেন ভূঁইয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলন। এতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দিনের পর দিন হরতালের নামে বোমাবাজি ও মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। এ পর্যন্ত যত শিশু পুড়ে মরেছে, তারা কোনো না কোনোভাবে আমাদের শিক্ষার্থী। আমাদের অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং অচিন্তনীয় অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, এ পরীক্ষার সময় ৬ বছর আগে নির্ধারণ করা। তারা এটা জানেন। তারপরও এ সময়ে তারা কর্মসূচি ডেকেছেন। আমরা অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বারবার আবেদন করে আসছি। আশা করেছিলাম, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে তাদের (২০ দলীয় জোট) কাছে মানবিক সাড়া পাব। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। বরং দেশবাসী সাড়া দিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে, খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। তারপরও তাদের মন গলেনি।’
তিনি এ সময় গত শনিবার বিবিসি সংলাপ অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, পরীক্ষা দিয়ে কী হবে? তাদের এ ধরনের বক্তব্যের পর আমরা বুঝে নিয়েছি যে, আমাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করতে হবে। কেননা এ অবস্থার মধ্যে অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? তারা দায়িত্ব না নিতে পারেন, কিন্তু আমরা দায়িত্বে অবহেলা করতে পারি না। ছেলেমেয়েদের অমানবিক কর্মকাণ্ড ও হিংস্রতার মুখে ঠেলে দিতে পারি না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা-জীবন আমাদের কাছে বড়। তাই শিক্ষার্থীদের জীবন এবং নিরাপত্তার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা হরতালের দিন পরীক্ষা পরিবর্তন করে দিয়েছি। এ পরীক্ষা ৬ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার নেব। তবে অন্য পরীক্ষা যথাসময়ে শুরু হবে।
তিনি এ সময় বলেন, গত এক মাসের অবরোধ-হরতালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারেনি। এ কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তাতে পরীক্ষা অনিশ্চয়তায় পড়বে। শিক্ষার্থীরা এর প্রভাবে আগামী ৩০ বছর ভোগান্তি পোহাবে।
উল্লেখ্য, রুটিন অনুযায়ী ২ ফেব্র“য়ারি লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়ে ব্যবহারিকসহ ১৯ মার্চ এবারের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close