¦
ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামবেন ৮ ফেব্রুয়ারি

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

টানা হরতাল, অবরোধ আর চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভয়াবহ সংকটে দেশের ব্যবসায়ীরা। অব্যাহত লোকসানে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এখন প্রতিবাদমুখর। এ অবস্থায় দেশ বাঁচাও, অর্থনীতি বাঁচাও এমন স্লোগান নিয়ে আগামী ৮ ফেব্র“য়ারি রোববার দেশব্যাপী ব্যবসায়ীরা রাজপথে অবস্থান নিয়ে মৌন প্রতিবাদ জানাবেন। এ দিন দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা যার যার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সংগঠন, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের সামনে রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সামনেও এদিন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতারা অবস্থান নেবেন। কর্মসূচি চলাকালে জাতীয় সংগীত বাজানো হবে। ব্যবসায়ীরা গেয়ে উঠবেন জাতীয় সংগীত। এ সময় তারা ঐক্য, শান্তি ও প্রগতির পক্ষে স্লোগান দিয়ে জাতীয় পতাকাও প্রদর্শন করবেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ স্মারকলিপি পড়ে শোনাবেন। পরে এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ২০ দলীয় জোটের প্রধান খালেদা জিয়ার কাছে জমা দেয়া হবে।
রোববার সন্ধ্যায় ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি, আইসিসিআই, এমসিসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, বিকেএমইএ ও রিহ্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে এ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, মীর নাসির হোসেইন, আনিসুল হক, একে আজাদ, এমসিসিআইয়ের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সাবেক সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ, বারভিডার সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ ডন ও রিহ্যাবের সহ-সভাপতি মো. লিয়াকত আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার দুপুরে এফবিসিসিআই পর্ষদের জরুরি বৈঠকে ওই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে রাতে অন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের পর্ষদ আবার বৈঠক করে এটি চূড়ান্ত করে।
প্রসঙ্গত, এর আগে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য এফবিসিসিআইয়ের বোর্ড সভায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে অব্যাহত হরতাল-অবরোধ, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও চোরাগোপ্তা হামলার ভয়াবহতা থেকে ব্যবসায়ীদের জানমাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা করার জন্য সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর এ সিদ্ধান্তের দিনক্ষণ নির্ধারণ করতেই এদিন এফবিসিসিআই সভাকক্ষে এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন চেম্বারের বর্তমান ও সাবেক সভাপতিদের নিয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এফবিসিসিআইয়ের জরুরি বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা জানান সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ। এর মাধ্যমে তিনি সারা দেশের ব্যবসায়ীদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে যার যার অবস্থান থেকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করার দাবিতে দেশের প্রধান দুই দলের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে। আমাদের দাবি হচ্ছে- রাজনৈতিক সমস্যা রাজপথে নয়, আলোচনার টেবিলেই সমাধান করতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে অব্যাহত হরতাল-অবরোধ, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও চোরাগোপ্তা হামলার ভয়াবহতা থেকে নিজেদের জানমাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা করা নিয়ে তারা গভীরভাবে শংকিত। এ জন্য প্রথমে তারা রাস্তায় নেমে মৌন প্রতিবাদ করবেন। এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের হাজার হাজার ব্যবসায়ী অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন। কর্মসূচিতে ব্যবসায়ীরা হাতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন ও জাতীয় সংগীত গাইবেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, পরিচালক আবু আলম, আবদুল হক, শাহেদ রেজা শিমুল, জালাল উদ্দিন, আবু মোতালেব, ইঞ্জিনিয়ার মহাব্বত উল্লাহসহ প্রায় সব পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সংগঠন চট্টগ্রাম শিল্প ও বণিক সমিতির নেতারা শনিবার রাতে এক বৈঠকে বসে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার কর্মসূচি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বলেছেন, রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। এ সমস্যার জন্য দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাবে না। বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক কর্মসূূচির নামে যা চলছে তাতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close