¦
সংলাপ ছাড়া পিছু হঠবে না বিএনপি

হাবিবুর রহমান খান | প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

আন্দোলনের চাপে এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়াকে নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। একই সঙ্গে দাবির মুখে ২৪ ঘণ্টার আগেই খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ দেয়াকেও আন্দোলনে বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী করে তুলছে নেতাকর্মীদের। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সংকট নিরসনে আলোচনায় বসতে দেশী-বিদেশী চাপ। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের অনড় মনোভাবের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা ভাব। সব মিলে চলমান আন্দোলনের গতি আরও বাড়িয়ে সরকারকে সংলাপে বসতে বাধ্য করা সম্ভব বলে মনে করছেন জোটের হাইকমান্ড। কাজেই জোটের নেতারা টানা অবরোধের সঙ্গে বিরামহীন হরতালের কথাও ভাবছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। জানা গেছে, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনের বর্তমান পর্যায় থেকে ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই জোট নেতাদের। তবে এভাবে আন্দোলন কতদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। হুমকি-ধমকির পর সরকার যে জোটের বিষয়ে ভেতরে ভেতরে কিছুটা নমনীয় তা গত দুদিনের কার্যকলাপে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নেতাদের মতে, সরকারের নমনীয় ভাব আন্দোলনের ভয়েই হোক আর গণতান্ত্রিক মানসিকতার জন্যই হোক এটা তাদের কাছে প্রকাশ্যে বড় কোনো বিষয় নয়। তারা যে কোনো ভাবেই আন্দোলনের সফল্য ঘরে তুলতে চান। এক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোটও সরকারের প্রতি কিছুটা নমনীয় ভাব দেখাতে চায়। এর অংশ হিসেবে তারা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডার ভিত্তিতে এবং এজেন্ডা ছাড়া উভয় ভাবেই সংলাপে বসতে রাজি। সেক্ষেত্রে এজেন্ডা ছাড়া সংলাপের পাশাপাশি তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
সূত্র জানায়, চলমান আন্দোলন নিয়ে সরকারের মনোভাব সার্বক্ষণিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এখন পর্যন্ত সরাসরি দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। তবে একাধিক পদক্ষেপে জোটের প্রতি সরকারের নমনীয় মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রূপ দেয়ারও চেষ্টা করছে সরকার। সে লক্ষ্যে সন্ত্রাসের নামে পাইকারি হারে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাসা-বাড়িতে তল্লাশির নামে চালানো হচ্ছে নির্যাতন। সরকার চলমান আন্দোলনকে আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে দমন করতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে দাবি আদায়ে ২০ দলীয় জোট যে রাজপথে নামতে পারবে না এটা তাদের নেতাকর্মীরা জানেন। তাই যে কোনো মূল্যে তারা চলমান আন্দোলনের মাধ্যমে ইতিবাচক সাফল্য আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তারা আন্দোলনের যে পর্যায়ে রয়েছেন, সেখান থেকে পিছু হটার কোনো কারণ দেখছেন না। তাদের দাবি স্পষ্ট, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। সে লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সংলাপ।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকট উত্তরণের জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সব দলের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সংলাপে বসতে চায় তবেই আমরা আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করব। এদিকে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বিদ্যুৎসহ সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় নেতাকর্মীরা আরও বেশি উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। গত কয়েকদিনে সারা দেশে আন্দোলন কিছুটা স্থিমিত হয়ে এসেছে। কিন্তু শুক্রবার গভীর রাতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় নেতাকর্মীরা ফুঁসে উঠেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী ও মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলনে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক হচ্ছে বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডকেও ভাবিয়ে তুলছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। পরিবহন, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সব সেক্টরে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এমন বাস্তবতার পরও তারা কর্মসূচি থেকে পিছু হটতে পারছেন না। কারণ, এই অবস্থায় পিছু হটলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। কর্মসূচি স্থগিত করা হলে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের নামে বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত রায় হতে পারে। খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হতে পারে বলেও তাদের আশংকা। একই সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপর নেমে আসতে পারে ব্যাপক নির্যাতন। এমন পরিস্থিতিতে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই কিছু না পেয়ে আন্দোলন স্থগিতের পক্ষে নন। তারা চাচ্ছেন সংকটের দ্রুত একটি সমাধান। যার প্রমাণ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যেও স্পষ্ট। সবশেষ ১৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দ্রুত সংকট নিরসনে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া বিএনপি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিদিনের বিবৃতিতেও একই দাবি জানানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুর পর মানসিকভাবে এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি খালেদা জিয়া। তবে বড় ছেলে তারেক রহমান আন্দোলনের সার্বিক বিষয়ে শুরু থেকেই মনিটর করছেন। কোকোর মৃত্যুর পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে তিনিই সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। কোকোর শোক কাটিয়ে ওঠে খালেদা জিয়া আবারও আন্দোলনে নজর দিয়েছেন।
২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম যুগান্তরকে বলেন, আন্দোলন শুরুর আগ থেকেই ২০ দলের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে সংলাপের আহ্বান জানানো হচ্ছে। গত এক বছরে সরকারকে সুযোগও দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার তাদের দাবিকে পাত্তাই দেয়নি।
তিনি বলেন, এখনও তারা চাচ্ছেন সংলাপ। তবে সেই উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপে বসার আহ্বান জানায় তবে চলমান আন্দোলন স্থগিত করার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা হতে পারে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close