¦
নাশকতা ছাড়লেই সংলাপ

মাহবুব হাসান | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বিদেশী কূটনীতিকরা উদ্যোগ নিলেও চলমান পরিস্থিতিতে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে না আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি যদি সহিংসতা ও নাশকতার পথ ছেড়ে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে, তাহলেই এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবে ক্ষমতাসীনরা।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বিএনপি এখন আর গণতান্ত্রিক দল নয়, খালেদা জিয়াও কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নন। বিএনপি এখন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের দল, আর এই দলের নেতা খালেদা জিয়া। তাই কোনো সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী দলের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না। আর বিএনপি যদি জ্বালাও-পোড়াও এবং পেট্রলবোমা হামলা অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে তা দমনে যা যা প্রয়োজন তাই করবে সরকার। এক্ষেত্রে যৌথ অভিযানের পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর আইনটি যুগোপযোগী করে সেটি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাসীন দল ও ১৪ দলীয় জোটের নেতারা গত কয়েক মাস ধরে অভিযোগ করে আসছেন, বোমা বা ককটেল ছুড়ে অরাজকতা তৈরি করা, রেল লাইনের ফিস প্লেট খুলে ফেলে দুর্ঘটনা ঘটানো, যানবাহনে আগুন দেয়া এবং পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা কোনো আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। এটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম। রাজনৈতিক কর্মসূচি বা আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত নাশকতা করছে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের বাসায় বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যুগান্তরকে বলেন, সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আলোচনার সময় বিদেশী কূটনীতিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে সমাঝোতার পথ জানতে চান। তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়, পেট্রলবোমা ছুড়ে মানুষ পোড়ানো ও হত্যা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রম বন্ধ করে বিএনপি গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এলেই শুধু আলোচনা হতে পারে। ওই বৈঠকে উপস্থিত আরেক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তারা কূটনীতিকদের বলেছেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাংলাদেশ সরকার তা সমাধান করতে সক্ষম এবং দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে সরকার।
এদিকে শুক্রবার সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রাজধানী ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর আইনটি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের প্রায় সবাই একই সুরে বলেছেন, দেশে আন্দোলনের নামে যা চলছে তা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড। এটা সহিংসতা, কোনোক্রমেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়। তারা প্রত্যেকেই একাধিকবার সংলাপের আহ্বান স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গী জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন এবং জনসমাবেশের বক্তব্যেও এসব কর্মসূচিকে সন্ত্রাসী, সহিংসতা এবং জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনিও বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংলাপ নাকচ করেন।
সহিংসতা শুরুর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিকবার তার বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে নাশকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। শুক্রবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেন, যারা বোমা মারছে, যানবাহনে আগুন দিচ্ছে এবং পেট্রলবোমা মেরে মানুষ মারছে তাদের থামাতে যা দরকার সরকার তাই করবে।
শুক্রবার রাজধানীতে একটি হোটেলে সন্ত্রাসবাদ : রাজনীতি শীর্ষক একটি সেমিনারে যারা সংলাপের কথা বলেন, তাদের পাগল বলে আখ্যায়িত করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, কোনো যুক্তি দিয়েই বলা যায় না যে, সংলাপ করলে চলমান সহিংসতা থেমে যাবে। তারা বর্তমানে সহিংসতার পথে রয়েছে। মানুষ পুড়িয়ে মারছে। তারা যখন সহিংসতার পথেই নেমেছে তবে তাদের সঙ্গে কিসের সংলাপ। সংলাপে সংঘর্ষ কোনোদিন থামবে না। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়া ঘরে প্রবেশ করতে দেননি। তার দরজা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরে আসতে হয়েছে। তাদের সঙ্গে আবার সংলাপ হবে! একজন পাগল ছাড়া কি কেউ বলতে পারেন যে খালেদার সঙ্গে সংলাপে বসতে। যারা পাগল তারাই সংলাপে বসতে বলছেন।
শুক্রবার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিদেশীদের নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আর বিএনপির সঙ্গে সংলাপের কোনো প্রশ্নই আসে না। কিসের সংলাপ? ওদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close