¦
নিরাপত্তার জন্য যা করা দরকার তাই করব

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

দেশজুড়ে চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে কঠোর হুশিয়ারি ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সেটাই নেব। এ জন্য তিনি দেশবাসীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পেট্রলবোমা হামলাকারীদের অশুভ শক্তি আখ্যায়িত করে এদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বৈঠকস্থল ব্যাংকুয়েট হলে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালে ওঠার সুসংবাদ এবং দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর অসুস্থ হওয়ার দুঃসংবাদ সহকর্মীদের জানান শেখ হাসিনা।
বৈঠকে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এসএসসি ও সমমানের ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে এবার একটু ক্ষান্ত দেন। পরীক্ষার পর আবার শুরু (আন্দোলন) করেন। এক মাস ধরে চলা সহিংসতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বাংলাদেশকে জল্লাদখানা বানাচ্ছে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণকে সোচ্চার থাকতে হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পেট্রলবোমা হামলা করে মানুষ মেরে বিএনপি চেয়ারপারসন কী পাবেন? মানুষ মারা কি আন্দোলন? কত লাশ তার চাই?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের সঙ্গে তাদের তুলনা করা চলে। তিনি বলেন, জর্ডানের পাইলটকে খাঁচায় পুরে যেভাবে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে আইএস, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষকে পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে মারছে বিএনপি-জামায়াত।
বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচির মধ্যেই শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বিঘিœত করছেন। তার ছেলে মারা গেল, আমি সহানুভূতি জানাতে গেলাম। তিনি তার কার্যালয়ে তালা মেরে দিলেন। এরকম অভদ্রতা কেউ করেছে কিনা জানা নেই।
বিএনপি নেত্রী দেশ ও মানুষের ভালো দেখতে পারেন না অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দেখে তাদের সহ্য হচ্ছে না। আর সেজন্য দেশের মানুষ পুড়িয়ে মারছে। আইএসের মতো জঙ্গি কায়দায় মানুষ মারছে। দেশের মানুষের প্রতি জিঘাংসা থেকেই খালেদা জিয়া পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া অবরোধ ডেকে বসেই আছেন। পুত্রবিয়োগের শোকও তাকে টলাতে পারল না। ছেলের লাশ বাড়িতে নিলেন না। কফিন আসার ১৫ মিনিট পর নিচে নামলেন। এ পর্যন্ত ছেলের কবরটা জিয়ারত করতে গেলেন না। কতটা নিষ্ঠুর তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া হিরোইনের মতো কার্যালয়ে বসে আছেন। ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদরা শোক জানাতে গেলেন। শোক জানানোর চিত্রটা দেখুন। রঙিন শাড়ি পরে আঁচল ছেড়ে বসে আছেন। যেন নায়িকা বসে আছেন। শাড়ির নাম গঙ্গা, যমুনা। প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, যার নিজের ছেলের শোকই নেই, যাকে পুত্রশোকও ছুঁয়ে যায় না, তাকে অবরোধ-সহিংসতায় মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু টলাবে কী করে? তার আবার বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তা কি। তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে দেবেন না। তাই জামায়াতকে নিয়ে দেশে গৃহযুদ্ধ চালাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছেন। আর মানুষ পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি-জামায়াত হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিসের আবার পরীক্ষা এ কথা কোনো নেতাই বলতে পারেন না। আসলে মানুষের রক্তই বিএনপি-জামায়াত জোটের কামনা।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে ফোন করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংলাপের জন্য নিজে টেলিফোন করেছি। করে কী পেয়েছি, কী অপমানিত হয়েছি, মানুষ জানে। আঁতেলরা, যারা এত কথা বলেন, টকশোতে কথা বলেন, তাদের নিজের সঙ্গে এমন আচরণ করলে বুঝতেন। ৭৫-এ আমার বাবা-মা হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান, ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট আমাকে হত্যায় খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ও তার ছেলে জড়িত, তা তো জানি। আমি তো নিজের মা-বাবা হারিয়েছি। সব জেনেও দেশের স্বার্থে আমি ফোন করেছি। ফোন করে যা শুনেছি, তা তো মানুষ জানে, আমরা তো এগুলো শুনতে অভ্যস্ত না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর খবরে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গেলাম শোক জানাতে। কিন্তু গেট বন্ধ করে আমাকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হল না। ওনাকে (খালেদা) ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়েছে, কিন্তু সেখানে কি একটা ভদ্র মানুষও ছিল না যারা গেট খুলে দিতে পারতেন?
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close