¦
পাঁচ ছাত্রলীগ কর্মীর ফাঁসি ৬ জনের যাবজ্জীবন

কোর্ট রিপোর্টার | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার রায়ে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনকে যাবজ্জীবন ও দু’জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। আসামিরা সবাই জাবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রোববার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক জনাকীর্ণ এজলাসে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হল- প্রাণিবিদ্যা বিভাগের খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মো. রইছ ওরফে সোহান, জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। এরা সবাই পলাতক।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হল- প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ, ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ (পলাতক), প্রাণরসায়ন ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের নাজমুস সাকিব তপু, পরিসংখ্যান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম, শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি। দণ্ডের অতিরিক্ত এই আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মো. নাজমুল হোসেন প্লাবন ও মো. মাহমুদুল হাসান মাসুদকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
রায়ের আদেশে বলা হয়, ‘আদেশের সইমোহুরি নকলের কপি হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরা করা হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজার পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হোক।’
গত ৪ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য প্রথম দিন ধার্য থাকলেও হরতালের কারণে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করার কারণে রায় ঘোষণা করা হয়নি। তবে রোববার হরতাল-অবরোধ উপেক্ষা করেই কারাগারে থাকা আসামি নাজমুল হুসেইন প্লাবন, শফিউল আলম সেতু, অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, মো. মাহমুদুল হাসান মাসুদ, নাজমুস সাকিব তপু, মাজহারুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান সোহাগকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজার পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামির কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যায় খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মো. রইছ, ইসতিয়াক মেহবুব অরূপ ও মাহবুব আকরাম। আগে থেকেই গড়হাজির থাকায় একইদিনে আরও দুই আসামি- মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু ও জাহেদুল ইসলামের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের অনুপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করা হল। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা জানান, তারা সংক্ষুব্ধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
অন্যদিকে এ রায়ে সন্তুষ্ট বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা ইয়াসমিন দিপা। তিনি বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করা হয়। এ দিন জামিনে থেকে আদালতে হাজির থাকা সাত আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরা হল : প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ, প্রাণ রসায়ন ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের নাজমুস সাকিব তপু, পরিসংখ্যান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম, শফিউল আলম সেতু, অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, মো. নাজমুল হোসেন প্লাবন ও মো. মাহমুদল হাসান মাসুদ।
এর আগে ৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরপর তিনটি ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে ২২ জানুয়ারি আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তাদের আইনজীবীরা।
মামলার বিচার চলাকালে মামলায় ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। সাক্ষীদের মধ্যে জুবায়েরের ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম বদিয়ার রহমান, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন, পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক বর্তমান পিপলস ইউনির্ভাসিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরজু মিয়া, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কবিরুল বাসার ও সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম।
২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বর্তমান ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মীর শাহীন শাহ পারভেজ। ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল তিনি হত্যার ঘটানায় অভিযুক্ত করে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামিদের মধ্যে মাহবুব আকরাম ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি ও নাজমুস সাকিব ওরফে তপু ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামির কাঠগড়া থেকে চার আসামি- খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মো. রইছ, ইসতিয়াক মেহবুব অরূপ ও মাহবুব আকরাম পালিয়ে যায়। একইদিন আরও দুই আসামি- মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু ও জাহেদুল ইসলামের জামিন বাতিল করা হয়। কিন্তু তারাও আর আদালতে হাজির হয়নি।
২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি বিকালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর?দিন ভোরে জুবায়ের মারা যায়। সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের ছাত্র ছিল। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মদিনাবাগ নাবলাপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম তোফায়েল আহমেদ, মাতার নাম হাসিনা আহমেদ।
এ ঘটনায় পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, রাশেদুল ইসলাম ও খান মো. রইছের নাম এজাহারে উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় এ হত্যা মামলা করেন।
রায়ে খুশি তার বাবা-মা : কলাপাড়া প্রতিনিধি জানান, রায় শোনার পর খুশিতে জুবায়েরের বাবা এবং মা কেঁদে ফেলেন। অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানান তারা। যুবায়েরের বাবা-মা’র বলেন, ‘ছেলে আর ফিরে আসবে না, তবে অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর দেখতে চাই।’
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close