¦
মানবাধিকার সংস্থা ও বিদেশী দূতাবাসকে তালিকা দিল বিএনপি

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গত এক মাসে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম-খুনের একটি তালিকা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ঢাকায় বিদেশী দূতাবাসগুলোতে পাঠিয়েছে বিএনপি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে তাদের সরেজমিনে তদন্ত করার অনুরোধও জানিয়েছে দলটি। আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি দেখতে ঢাকায় আসছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষ থেকে এ তালিকা দেয়া হয় বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে যৌথ অভিযানের নামে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি কথিত বন্দুকযুদ্ধের সাজানো নাটকের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সরকারের কঠোর সেন্সরশিপের মধ্যেও এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গত এক মাসে আইনশৃংখলা বাহিনী, র‌্যাব, পুলিশসহ সাদা পোশাকে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হাতে ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীর সংখ্যা ৪৩ জন বলে দাবি করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রংপুর, কুড়িগ্রাম, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বরিশালের উজিরপুর, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রয়েছে। এ ছাড়া গত এক মাসে ১৮ হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে সাত লাখের বেশি নেতাকর্মীকে।
৫ জানুয়ারির পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কথিত ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ও ট্রাকের নিচে ফেলে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতে নেতাকর্মীদের পায়ে গুলি করে পঙ্গু করার কথাও উল্লেখ করেন শিমুল বিশ্বাস।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত গত এক মাসে বিরোধী দলের নেতাকর্মী-সমর্থক যারা হত্যার শিকার হয়েছেন তারা হলেন : নাটোরের তেবাড়িয়ার রাকিব মুন্সি (বিবিএ-সম্মান), রায়হান আলী (ছাত্রদল), রাজশাহী মহানগরের আইনুর রহমান মুক্ত (বিএনপি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহাবুদ্দিন (ছাত্রশিবির), বানেশ্বরের মজিরউদ্দীন (বিএনপি), গোদাগাড়ীর মো. এসলাম (যুবদল), বিনোদপুরের নুরুল ইসলাম শাহিন (কলেজশিক্ষক), চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটের জমসেদ আলী (বিএনপি), নবাবগঞ্জের আসাদুল্লাহ তুহিন (ছাত্রশিবির), শিবগঞ্জের মতিউর রহমান (ছাত্রদল), নোয়াখালীর চৌমুহনীর মিজানুর রহমান (যুবদল), মহসিন উদ্দিন (ছাত্রদল), বেগমগঞ্জের মো. সোহেল (যুবদল), সোনাইমুড়ীর মোরশেদ আলম পারভেজ (ছাত্রদল), চুয়াডাঙ্গার শংকরচন্দ্রপুরের সিরাজুল ইসলাম (বিএনপি), নড়াইলের পৌর কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস (জামায়াত), ঢাকার খিলগাঁওয়ের নুরুজ্জামান জনি (ছাত্রদল), ঢাকা কলেজের এমদাদ উল্লাহ (ছাত্রশিবির), আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা ক্যাম্পাসের ছাত্র আরিফুল ইসলাম মুকুল (ছাত্রদল), মাতুয়াইলের সাখাওয়াত হোসেন রাহাত (ছাত্রদল), মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ভাসানটেকের আল আমীন, আগারগাঁওয়ের জসিমউদ্দিন (ছাত্রশিবির), সদর উপজেলার সোলাইমান উদ্দিন (ছাত্রদল), চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সাকিবুল ইসলাম (ছাত্রশিবির), রাঙ্গুনিয়ার জিল্লুর রহমান ভাণ্ডারী (যুবদল), ভোলা সদরের আবুল কালাম (শ্রমিক), ঝিনাইদহের শৈলকুপার সুলতান আলী বিশ্বাস (শ্রমিক), চরফ্যাশনের হারুন অর রশীদ (ছাত্রদল), সাতক্ষীরার তালার রফিকুল ইসলাম (সাধারণ মানুষ), রামনগরের শহীদুল ইসলাম (জামায়াত), ময়মনসিংহের নান্দাইলের আসিফ পারভেজ টুকুন (ছাত্রদল), যশোরের চৌগাছার আবদুস সামাদ মোল্লা (বিএনপি), মনিরামপুরের মো. ইউসুফ (যুবদল), দুর্গাপুরের মো. লিটন (যুবদল), ও সদরের রাজু (বিএনপি), সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সাইদুল ইসলাম (জামায়াত), কুমিল্লা সদর দক্ষিণের কালা স্বপন (বিএনপি), চৌদ্দগ্রামের সাহাবুদ্দিন পাটোয়ারি (ছাত্রশিবির), পিরোজপুরের বাচ্চু মিয়া (জামায়াত) প্রমুখ। এ তালিকায় নাম ও ঠিকানার পাশাপাশি হত্যার বিবরণও দেয়া হয়েছে।
অপহরণ ও গুমের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতাকর্মীরই সন্ধান মিলছে না। তাদের পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। কিন্তু নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় রেখে ওই তালিকা দেয়া হয়নি।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close