¦
সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সন্ত্রাস, নাশকতা ও মানুষ পুড়িয়ে মারা বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। রোববার বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত নাশকতার বিরুদ্ধে ও শান্তির সপক্ষে দেশব্যাপী মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান তারা।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশহিসেবে ঢাকার গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত মানবপ্রাচীর গড়ে তোলা হয়। ১৪ দল, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ লাখো জনতা এতে অংশ নেয়। মানববন্ধন চলাকালে দেয়া বক্তৃতায় ১৪ দলের নেতারা দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। মানুষ হত্যার জন্য প্রতি ফোঁটা রক্তের হিসেব নেয়া হবে। তারা যা করছে এটা রাজনীতি নয়, নাশকতা। এ নাশকতার দায়ে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের দাবিও জানান ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা। তারা চলমান নাশকতা রোধে নতুন আইন প্রণয়ন, নতুন আদালত এবং নতুন বাহিনী গড়ে তোলার দাবি ও দেশবাসীকে নাশকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা করেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে ও শাহ আলম মুরাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, আওয়ামী লীগের মাহবুবউল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, গণতান্ত্রিক পার্টির নুরুল রহমান সেলিম, ডা. সহিদুল্লাহ শিকদার, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুর রহমান মাইজভাণ্ডারী, এমএ আউয়াল, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এটা বিচ্ছিন্নতাবাদ, জঙ্গিবাদী সংকট। গণতন্ত্র ও শান্তির বিরুদ্ধে এ সংকট সাধারণ আইন, আদালত ও আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে মোকাবেলা সম্ভব নয়। নতুন আইন-আদালত ও প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী তৈরি করে তাদের দমন করা হবে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া দেখে যান শান্তির পক্ষে সারা দেশে লাখ লাখ মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। আপনি নিজেই অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। আপনি সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমাদের শক্তি জনগণ। তাদের নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীকে পরাজিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে। শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়ে না। প্রতি ফোঁটা রক্তের প্রতিশোধ নেয়া হবে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, সব হত্যার জন্য খালেদা জিয়াকে দায় নিতে হবে। তিনি এখন পোড়ামাটির নীতি গ্রহণ করেছেন। মনে রাখবেন আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, সন্ত্রাসকে প্রশাসনিকভাবেই মোকাবেলা করা হবে। রাজনীতিতে সংবিধান, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা সম্ভব। তবে তার আগে নাশকতা-জঙ্গিবাদ বন্ধ করতে হবে। দানবের সঙ্গে মানবের কোনো সংলাপ হতে পারে না। আগুন-সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্থন না করলে তাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।
মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি নেত্রী এখন যা করছেন তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। সন্ত্রাসীদের দমনে প্রশাসনকে বলব, আপনারা আরও কঠোর হন। জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে যা যা করা দরকার তাই করুন।
রাজধানীর রাসেল স্কোয়ারে মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধ। প্রচলিত আইনে যদি এ আইনের মৃত্যুদণ্ড না হয়, তাহলে আইন সংশোধন করে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হোক। এখানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শিল্প সম্পাদক আবদুস সাত্তার, অসীম উকিল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মৎস্য ভবন থেকে কদমফুল ফোয়ারা, প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টন মোড় পর্যন্ত সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মান্নান খান, সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আয়েশা খানম, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, বাসদের রেজাউর রহমান খান প্রমুখ অংশ নেন।
গাবতলীতে অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, আসলামুল হক আসলাম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির কামরুল হাসান প্রমুখ। শ্যামলী থেকে আসাদ গেট এলাকায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, কেএম রহমতউল্লাহ, জুনায়েদ আহমেদ পলক, ন্যাপের পার্থ চক্রবর্তী, জহির হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির মাহমুদুল হাসান মানিক প্রমুখ। দারুস সালাম থেকে শাহআলী মাজার পর্যন্ত মানববন্ধনে ছিলেন যুব মহিলা নেত্রী সাবিনা আক্তার।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close