¦
একুশে বাঙালি জাতিকে দিয়েছিল দিশা

রাহাত খান | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতিকে তার পথের দিশা দিয়েছিল। একুশের সেই আলোর পথ পেরিয়ে আমরা পৌঁছেছিলাম সার্বভৌম দেশে। স্বাধীন দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন সদ্য স্বাধীন জাতিকে গড়ে তোলার কাজে অপরিহার্য উপাদান তার সাহিত্য ও সংস্কৃতি। মেধাবী জাতি গঠনে সাহিত্য-সংস্কৃতির কোনো বিকল্প নেই। তাই স্বাধীনতার পরপরই দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। একুশের দিশাকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে বঙ্গবন্ধুর উপলব্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা এখনও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এবারের বইমেলা বড় পরিসরে হচ্ছে, বলার মতো সুন্দর হয়েছে মেলার আয়োজন। এবার মেলার সঙ্গে আয়োজন করা হয় আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের- সেটাও ভালো উদ্যোগ। স্বাধীনতা-উত্তর দেশে বাংলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্ট ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতায় আমি মনে করি, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশের শিল্প-সাহিত্যের জন্য যথেষ্ট উপকারী। শিল্প-সাহিত্যের আদান-প্রদানের জন্য এ জাতীয় আয়োজন খুবই গুরুত্ববহন করে, সেই গুরুত্বের কথা চিন্তা করলে এটা কেবল কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের অপশনাল কাজ হতে পারে না। প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল সব লেখক যোগ দিয়েছিলেন। বৃহৎ পরিবেশে মতবিনিময় ঘটেছিল তাদের। এবারের আয়োজনে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। দেশের লেখকদের অনেকটা শ্রোতাদর্শক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা এ সম্মেলনের আয়োজনকে সফল করেনি। এ কাজটি করার জন্য আলাদাভাবে সাহিত্য একাডেমি প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করার সময় এসেছে।
বইমেলা শুরু হয়েছিল শুধু বই বিক্রির জন্য নয়, দেশের শিল্প-সাহিত্যের প্রসারের লক্ষ্যে। বই বিক্রির মধ্য দিয়ে শিল্প-সাহিত্যের প্রসার ঘটবে। জাতির মনন সমৃদ্ধ হবে। জাতি গঠনে শিল্প-সাহিত্যের অবদানে গড়ে উঠবে সুস্থ জাতি, এটাই ছিল অভিপ্রায়। কিন্তু, স্থূলতা যেমন স্বাস্থ্য নয়, তেমন মেলার বর্তমান সুপ্রশস্ত পরিসর সত্ত্বেও বলা প্রয়োজন, মেলা এখন অস্বাস্থ্যকর, শুধুই বই বিক্রির বাণিজ্য মেলায় পরিণত হয়েছে- এটা অনাকাক্সিক্ষত। বর্তমান সময়ে বইয়ের জন্য ব্যবহৃত কাগজসহ মুদ্রণ শিল্পের বিভিন্ন উপকরণের চরম উৎকর্ষতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রকাশনার মান উন্নত হচ্ছে না। কারণ প্রকাশকরা যথেষ্ট মনোযোগী নন তাদের পেশার প্রতি, মননশীল নন মোটেই। অযত্নে, ভুলে ভর্তি বই তারা ছেপে বইমেলার বাজার ধরার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। বইমেলাকে কেন্দ্র করে তারা শত শত বই প্রকাশ করছেন- ফলে সেগুলো ‘যা ইচ্ছে তাই’ ধরনের ভুলে ভর্তি থাকছে। এটি একটি অশিষ্ট প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে। শেষ বিচারে ঠকছেন পাঠক। ঠকছে শিল্প-সাহিত্য, তারা আস্থা হারাচ্ছে গোটা বিষয়টির প্রতি। বইমেলা এলে দেখা যায় কোনো কোনো লেখক বিরাট ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন একশ’ দুইশ’ বই লিখে প্রকাশ করেছেন। একই কাণ্ড হচ্ছে প্রকাশনার ক্ষেত্রে। সারা বছর বই বের না করে শুধু মেলার সময় ঝাঁপিয়ে পড়ে শত শত বই বের করছেন প্রকাশকরা। এতে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি। ফলে দেখা যাচ্ছে- এখন বইমেলা, বই আছে কিন্তু লেখক নেই, শিল্প-সাহিত্য নেই দশায় উপনীত হয়েছে।
এবারের বইমেলা এখনও জমে ওঠেনি। বইয়ের দোকানদাররা ভাবছে, বাণিজ্য মেলা শেষ হলে ভিড় বাড়বে। অর্থাৎ, বইমেলা অন্যান্য মেলার সমার্থক হয়ে উঠেছে। বই যে তৈজষপত্রের মতো বস্তু নয়, সেটা ভাবা যাচ্ছে না। আমার মত হল, প্রকাশকরা সারা বছর ধরে বই বের করবেন। নির্ভুল বই যত্ন নিয়ে বের করবেন। তারা শুধু ফেব্রুয়ারির বাংলা একাডেমির মেলার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। বইকে তারা সারা দেশে বিপণনের সামগ্রী করবেন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র জেলায় জেলায় ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থমেলার আয়োজন করে, তারা সেই গ্রন্থমেলায় অংশ নিয়ে বইকে জীবনের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তাতে তারা যেমন ব্যবসায়িক আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনই প্রসার ঘটবে প্রকৃত শিল্প-সাহিত্যের। লাভবান হবে লেখকরাও। সস্তা জনপ্রিয়তার মতো সস্তা ব্যবসায় নয়, বনেদি ব্যবসায়ের ভিত্তি স্থাপনের কথা ভাবতে হবে তাদের। প্রকাশনার ব্যবসা এক প্রজন্মের ব্যবসা নয়। লেখককে, সাহিত্যকে প্রকাশকরাই পেশাগতভাবে স্বাধীন করেন- আমাদের দেশে তা ঘটছে না। প্রকাশকরা যদি ঠিকভাবে রয়্যালিটি না দেন, তাহলে লেখক বাঁচবে কীভাবে? লেখক না বাঁচলে সাহিত্য কীভাবে বাঁচবে, বিকশিত হবে? আমার মনে হয়, দেশের সাহিত্যকে বিকশিত করার জন্য এখন সাহিত্য একাডেমি প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। গ্রন্থনা : শুচি সৈয়দ
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close