¦
শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

মোজাম্মেল হক চঞ্চল | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

হতাশ বাংলাদেশ, হতাশ ১৬ কোটি মানুষ। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা অধরাই থেকে গেল। দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরছে মালয়েশিয়া। হাজারও কণ্ঠের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ হর্ষধ্বনি হঠাৎ যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ফাইজাতের গোলে বৃথা গেল বাংলাদেশের দুর্দান্ত এক লড়াই। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অভিযান শেষ হল। তবে সান্ত্বনা হল, বাংলাদেশের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়ার ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার। অবশ্য ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার জিতেছেন মালয়েশিয়ার হিরো ফাইজাত।
কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের প্রায় ১২ লাক্সের আলোর ফোয়ারাও যেন বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের অন্ধকারাচ্ছন্ন মুখকে উজ্জ্বল করতে পারেনি। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মামুনুলদের মুখ লুকানোর প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ফুটবলারদের পতাকা নিয়ে উচ্ছ্বাস বড্ড বেমানান ঠেকেছে। শুধু মামুনুলদের নয়, পরাজয়ের হতাশা ছুঁয়ে গেছে প্রতিটি দর্শককে। হতবিহ্বল দর্শকদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরস্কারমঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললেন, ‘আমি অভিনন্দন জানাই মালয়েশিয়াকে। অভিনন্দন জানাই বাংলাদেশকে। আমরা আজ পারিনি। তবে আগামীতে আমরা এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হব ইনশাআল্লাহ। এখন থেকে প্রতি বছর বঙ্গবন্ধু কাপ হবে। মৃত ফুটবল জেগে উঠেছে। পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে ফুটবল আবার ছড়িয়ে পড়বে- এ প্রত্যাশাই করি আমি।’
ম্যাচের ৮ মিনিটেই বাংলাদেশ আক্রমণে যায়। রায়হানের থ্রোতে বল পেয়ে এমিলি বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু তার ডান-পায়ের শট সাইডবার ঘেঁষে বাইরে যায়। ১৫ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপরই মামুনুলদের ওপর চেপে বসে মালয়রা। মুহুর্মুহু আক্রমণ করে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তছনছ করে দেয়। ২০ মিনিটে বাঁপ্রান্ত থেকে নাজিরুলের ফ্রিকিক রুখে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশ গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলের। ৩১ মিনিটে হার মানেন শহিদুল। ইয়াসিনের ফাউলে ফ্রিকিক পায় সফরকারীরা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে মালয়েশিয়ান অধিনায়ক নাজিরুল নাইমের দুর্দান্ত ফ্রিকিক জড়ায় বাংলাদেশের জালে (১-০)। বলা যায়, টুর্নামেন্টের সেরা গোল ছিল এটি। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের এলোমেলো পাস দৃষ্টি কটু ঠেকেছে। সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে গতিময় খেলা দেখিয়েছিলেন এমিলি, মামুনুলরা, তা ফাইনালে ছিল অনুপস্থিত। এক গোলে পিছিয়ে পরলেও গ্যালারিভর্তি দর্শকরা উৎসাহ জুগিয়েছেন মামুনুলদের। ৩৮ মিনিটে রায়হানের লম্বা থ্রো ডিফেন্ডার নাজিরুল গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিলে হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের। উল্টো মিনিটদুয়েক পর দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন কুমাহরান। বল নিয়ে দু’ডিফেন্ডার রায়হান ও নাসিরকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন কুমাহরান। আগোয়ান গোলকিপার শহিদুলকে হার মানাতে কষ্টই করতে হয়নি এই মালয় ফরোয়ার্ডকে (২-০)। ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল বাংলাদেশের। আরও দুটি নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় মালয়েশিয়া। আজরুল নিজামের ফ্রিকিক অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন গোলরক্ষক শহিদুল। ফিরতি বলে আরিফ ফারহানের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তে বাঁদিক থেকে আজরুল নিজামের মাইনাসে আরিফ ফারহানের দুর্দান্ত গতির শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন শহিদুল। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া স্বাগতিকরা দ্বিতীয়ার্ধেই দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে। ৮ মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরান মামুনুলরা। ৪৮ মিনিটে এমিলির হেড উৎসবের রং ছড়ায় গ্যালারিতে (২-১)। ৫৩ মিনিটে অধিনায়ক মামুনুলের কর্নারে ইয়াসিনের হেড জালে জড়ায় (২-২)। দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে গর্জে ওঠে গ্যালারি। উপস্থিত হাজার পঁচিশেক দর্শকের কণ্ঠে একই স্লোগান- ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।’ ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করে পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ডানপ্রান্ত থেকে সিজুয়ানের কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে দেন ফরোয়ার্ড ফাইজাত (৩-২)।
ম্যাচ শেষে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে যখন মালয়েশিয়া দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করে, তখন ট্রফির দিকে হতাশ নয়নে তাকিয়ে ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মামুনুল। অবশ্য কোচ ক্রুইফ সান্ত্বনা দিয়েছেন তার শিষ্যদের। সান্ত্বনা দিয়েছেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়েজেদ জয়, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, হা-মিম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদসহ স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তারা।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close