¦
মাসে ১০ হাজার কর্মী যাবে সৌদি আরবে

কূটনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

গৃহস্থালি কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার কর্মী নিতে চায় সৌদি আরব। সোমবার সফররত সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক উপমন্ত্রী আহমেদ আল-ফাহাইদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এ খাতে মূলত নারী কর্মী নিয়োগ করবে সৌদি আরব।
সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর জন্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে সরকার। আজ এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। এর আওতায় সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো হবে। তবে চুক্তিতে কর্মীদের নিুতম মজুরি নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে বেতন নির্ধারণ করা হবে। কর্মীর বিমান ভাড়া, ভিসা ও লেভি খরচ বহন করবে নিয়োগকারী।
প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশটি সম্প্রতি বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি উপমন্ত্রী আহমেদ আল ফাহাইদের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রোববার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসে। এ দলে সৌদি বেসরকারি খাতের নিয়োগকারীদের সংস্থা সানারকমের ১০ জন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সানারকমের সদস্যরা বিদেশ থেকে কর্মী নিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করে থাকে। সৌদি প্রতিনিধি দল সোমবার সকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকের পর সৌদি উপমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, গত বছর তারা গোটা বিশ্ব থেকে প্রায় ১৩ লাখ বিদেশী কর্মী নিয়োগ করেছেন। এ বছরও প্রায় সমপরিমাণ কর্মী নিয়োগের চাহিদা রয়েছে। এবার বাংলাদেশ থেকে নিয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০০৮ সাল থেকে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া প্রায় বন্ধ রেখেছে। যদিও এই দেশটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশী কর্মরত আছেন। তাদের একটা বড় সমস্যা ছিল, দেশটির নিয়মের কারণে যে কোম্পানিতে চাকরির জন্য সৌদি আরব গেছেন, ওই কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানিতে চাকরির জন্য কর্মস্থল বদল করতে পারছিলেন না। সৌদি সরকার বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য স্থানীয়ভাবে ইকামা নামে পরিচিত এই স্পন্সর বদলের নিয়ম চালু করায় এই প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ১৭ থেকে ২৪ জানুয়ারি সৌদি আরব সফর করে। তখন সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা আবারও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করবে। সৌদি আরব গত সপ্তাহে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ অনুমোদন গ্রহণের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে এই প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে।
বৈশ্বিক মন্দাসহ অন্যান্য কারণে বিশ্বের প্রধান শ্রমবাজারগুলো বাংলাদেশ থেকে অনেক ক্যাটাগরির কর্মী নিয়োগ বন্ধ রাখলেও নারীকর্মী নিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গৃহস্থালি কাজে নারী কর্মীর চাহিদা এত বেশি যে, বাংলাদেশ পর্যাপ্ত নারী কর্মী পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিদেশে নারী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রায় সব দেশের নিয়োগকারীরা অভিবাসন ব্যয় বহন করে থাকে। সৌদি আরবও সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। নারী কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের ২৯টি রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধি দল বলেছে, তাদের চাহিদামতো নারী কর্মী সরবরাহ দেয়ার জন্য বাংলাদেশে অন্তত ২০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকা প্রয়োজন হবে। রিক্রুটিং এজেন্সি লোক পাঠানোর জন্য প্রতি কর্মীর কাছ থেকে কত টাকা সার্ভিস চার্জ নেবে সেটাও নির্ধারণ করেনি সরকার। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, কর্মীদের কোনো টাকা লাগবে না। তবে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির জন্য প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হবে।
গৃহস্থালি কাজের জন্য পাঠালেও সবাই নারী কর্মী নয় বলে উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, কর্মীরা ডমেস্টিক হেলপার হিসেবে সেখানে যাচ্ছেন। তার মধ্যে ১০টি ক্যাটাগরি আছে। গাড়িচালক, বাড়ির গৃহস্থালি কাজের ম্যানেজার, বাগান পরিচর্যাসহ অন্যান্য কাজও আছে।
তিনি বলেন, শতভাগ বেসরকারি খাতে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীরা যাবেন। রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে আলাপ করে তাদের সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করতে হবে। তবে এ কাজে আকাশচুম্বী কোনো চার্জ নেয়া যাবে না। গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া কঠোরভাবে তদারক করবে সরকার।
অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ না হলেও প্রত্যেক কর্মীর বেতন মাসে ১২শ থেকে ১৫শ রিয়ালের (২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা) নিচে হলে তাকে পাঠানো হবে না বলে জানান মন্ত্রী। তবে নারী কর্মীদের যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনা থেকে মুক্ত রাখার জন্য কোনো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে মন্ত্রী কিছু বলেননি।
এদিকে সফররত সৌদি প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কর্মীর অতীত রেকর্ড যাচাইয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কার্যক্রম পরিদর্শন করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ : সৌদি আরব দুই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরবের সফররত আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. আহমেদ ফাহাদ আল-ফাহাইদ সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি উপমন্ত্রী বলেছেন, অল্পসংখ্যক বাংলাদেশী সৌদি আরবে কাজ করছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নিতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রমী এবং বিশ্বস্ত। তারা সৌদি অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।
বাংলাদেশ থেকে পুনরায় শ্রমিক নিয়োগ শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আইন-কানুন ও ভাষার ওপর আমরা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। যাতে তারা সেখানে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হয়। শেখ হাসিনা উপমন্ত্রীর মাধ্যমে সৌদি আরবের নতুন বাদশাহকে আবারও অভিনন্দন জানান।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close