¦
একুশে স্বপ্নদর্শী মানুষের জন্ম দেয়

মনজুরে মওলা | প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

১৯৪৮ সালে এবং তারপরে যখন ভাষা আন্দোলন হয়, তখন দেশের ভাষা-সামাজিক পরিস্থিতি এখনকার পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন ছিল। মাত্র এক বছর আগে ব্রিটিশরাজের অবসান ঘটেছে। কেউ কেউ তখন ভেবেছিলেন, ব্রিটিশরাজের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজি ভাষারও অবসান ঘটেছে। তখন যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা হিসেবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা হতো, কিংবা অন্যভাষার সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করা হতো, যেমনটি ক’বছর পরে করা হয়, তাহলে কোনো সমস্যাই দেখা দিত না। দ্বন্দ্বটি ছিল বাংলা ভাষা ও অন্য ভাষার মধ্যে, ভাষা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রভাষার স্থান লাভ করার জন্য।
বাংলা এবং ইংরেজি ভাষার মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব তখন ছিল না। এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে এবং একই সঙ্গে আর্থ-সামাজিক কারণে ইংরেজি ভাষা বিস্তৃতি লাভ করেছে। এখন ইংরেজি ভাষাকে আমরা পছন্দ করি বা না করি, উপেক্ষা করার কোনো পথ নেই। আমাদের অনেকেই বিদেশে যাচ্ছেন কাজ করার জন্য, অনেকে অস্থায়ী বিদেশে বাস করছে, তাদের সবাইকে ইংরেজি কম কিংবা বেশি ব্যবহার করতেই হচ্ছে। আমরা অবশ্যই বাংলাভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে চাই। এবং তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা নিশ্চয়ই করব। কিন্তু এখনকার বাস্তবতাকেও আমরা অস্বীকার করতে পারি না। এই দুয়ের মধ্যে যে ভারসাম্য রচনা করা প্রয়োজন, আমরা যেন তা করতে পারি।
গ্রন্থমেলা এখন বাংলা একাডেমি চত্বর থেকে সরিয়ে রাস্তার ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একসময় একজন মাত্র প্রকাশক সামান্য কয়েকটি বই নিয়ে বাংলা একাডেমির বটতলায় বসতেন। সেটিই ছিল বইমেলার সূচনা। আজকে বইমেলার যে বিস্তার ঘটেছে, সেদিন সেটি ভাবাই যেত না। কিন্তু যিনি বটতলায় বই নিয়ে বসতেন স্বপ্নদর্শী সেই মানুষটির কথা কি ভোলা যায়! একসময় বইমেলা ছিল বাংলা একাডেমি বইমেলা। পরে তা অমর একুশে গ্রন্থমেলায় রূপান্তরিত হয়। এই পরিবর্তনটি কেবল নামের ক্ষেত্রে নয়, চেতনা ও বোধের ক্ষেত্রেও। একুশে যে প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে, একুশে তো সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড়। এই কথাটিই আমাদের সব সময় মনে রাখা প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, বিন্দুতে সি›ধু রচনার সংকল্পে অটল স্বপ্নদর্শী সেই মানুষটির কথা। আর আমাদের দেশের সর্বক্ষেত্রে এ রকম স্বপ্নদর্শী মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন। একুশে সেই স্বপ্নেরই স্ফুরণ ঘটিয়েছিল।
এবারের বইমেলায় মধ্যাহ্ন থেকে বেরোচ্ছে মনজুরে মওলার কবিতার বই তুমি।
গ্রন্থনা : শুচি সৈয়দ
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close