¦
ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

ব্যাংকিং খাতে গত বছরে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৯ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকায়। ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ খেলাপি। ২০১৩ সালে মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯ শতাংশ। এক বছরের হিসাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেসিক ব্যাংকের। এক বছরে তাদের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৭২ কোটি টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খেলাপি ঋণ নবায়নে বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ওই সুযোগের আওতায় বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। তারপরও গত বছর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশংকাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হয়, যে কোনোভাবে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামানোর জন্য। এ সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো গত ডিসেম্বরের শেষদিকে ব্যাপক হারে খেলাপি ঋণ নবায়ন করেছে। এমনকি আগাম চেক নিয়ে বেআইনিভাবে খেলাপি ঋণ নবায়নের নজিরও রয়েছে। এরপরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়নি। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে ব্যাংকগুলোতে পরিমাণে যেমন খেলাপি ঋণ বেড়েছে, তেমনি শতকরা হিসাবেও এর হার বেড়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ৯ মাসে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। ওই সময়ে বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছিল। ওই সময় পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে এসে খেলাপি ঋণ ও হার দুইই কমেছে। গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৭ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে কমেছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঋণ পরিশোধ না করার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশ পাচ্ছেন কম, ঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। ফলে নতুন ও ভালো উদ্যোক্তাদের বাড়তি সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বেড়েছে ১০ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা এবং জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে বেড়েছে ১৬ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। গত বছরের জুন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার মন্দ ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। খেলাপির সঙ্গে অবলোপনের পরিমাণ যোগ করলে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ আরও বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
সরকারি চারটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সরকারি চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলো ব্যাপক হারে খেলাপি ঋণ নবায়ন করে এর পরিমাণ কমাতে সক্ষম হয়েছে। গত ডিসেম্বরে সোনালীর ৮ হাজার ২২৪ কোটি, জনতার ৩ হাজার ২৮৪ কোটি, অগ্রণীর ৩ হাজার ৭০৬ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা।
এক বছরে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৭২ কোটি টাকা। ২০১৩ সাল শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। গত বছর ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। জালিয়াতির সব টাকাই এখন খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে গেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশী ব্যাংকগুলোতে মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ৩২ দশমিক ৮১ শতাংশ ঋণ খেলাপি।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close