¦
রাত ৯টার পর বাস চলবে না মহাসড়কে

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মহাসড়কে রাত ৯টার পর যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল অব্যাহত থাকবে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দু-একটি জায়গায় নিরাপত্তা সমস্যা রয়েছে। সেসব স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই আগের মতো যানবাহন চলবে। শিগগিরই এসব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, উত্তরাঞ্চল ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় সমস্যা আছে। আশা করি, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে। তার আগ পর্যন্ত রাত ৯টা থেকে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পণ্যবাহী গাড়ি দিনে-রাতে চলবে। এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহীদুল হক শনিবার বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে রাত ৯টার পর গাড়ি চলাচল বন্ধের অনুরোধ করেছিলেন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধের ৩৫ দিন পর রাতে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হল। এতদিন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর পাহারায় রাতে সীমিত আকারে গাড়ি চলাচল করেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রংপুর, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, গাইবান্ধা, বরিশালসহ কয়েকটি জেলায় রাতে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় অনেক মানুষ দগ্ধ হয়ে মারা যান। অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক বাস মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়ক-মহাসড়কে আইনশৃংখলা বাহিনী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কয়েকজন বাস মালিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, একদিকে আমাদের গাড়ি চালাতে বলা হচ্ছে, অন্যদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর বহরে থাকা গাড়িতেও হামলা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সামনেই অগ্নিসংযোগ করা হলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছে। বাস মালিকরা বেশ কিছু এলাকার নাম উল্লেখ করে সেসব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধা, রংপুর, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
বাস মালিকরা বলেন, খোদ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মৎস্য ভবন, সংসদ ভবন এলাকাসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ বন্ধ করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আরও খারাপ। কোথাও কোথাও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করেই এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা সরকারের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দাবি করে বলেন, হরতাল-অবরোধে নাশকতার আশংকায় যাত্রী কম হওয়ায় এমনিতেই ট্রিপ কমে গেছে। রাতে গাড়ি বন্ধ করে দেয়া হলে পরিবহন ব্যবসায়ীদের লোকসান আরও বাড়বে। অনেক মালিক পথে বসে পড়বেন। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃংখলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবুও চোরাগোপ্তা হামলা রোধ করা যাচ্ছে না।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস মালিকরা দু-একটি স্থানের সমস্যার কথা বলেছেন। ওই সব সমস্যা শিগগিরই সমাধান করা হবে। সারা দেশে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ অন্যান্য বাহিনী সজাগ রয়েছে। তিন দিন আগের চেয়ে পরিস্থিতি ভালো হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, রাত ৯টার মধ্যে যানবাহন নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবে। রাতে রাজনৈতিক নেতারা রাস্তায় থাকেন না, সে সুযোগে দু-একটি হামলার ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা খেয়াল রাখছেন। তবে কী উপায়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটান হবে তা খোলাসা করেননি প্রতিমন্ত্রী।
বড় একটি বাস কোম্পানির মালিক বলেন, যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রাতে গাড়ি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে চলাচলকারী একটি বাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। তবে গৌরনদীসহ কয়েকটি এলাকায় পেট্রলবোমা হামলার ঘটনায় ওই রুটে যাত্রী কমে গেছে। আগে আমার কোম্পানির বাসে ৫০-৬০টি ট্রিপ হলেও বর্তমানে ৫-৬টি ট্রিপ হচ্ছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close