¦
যাত্রাবাড়ীতে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

আমার স্বামী কোনো দল করত না। বিয়ের পর আমি ওকে এসব করতে দেহি নাই। ক্যান আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করল। ক্যান আমারে বিধবা কইরা দিল। আমার তো আর কেউ রইল না। আমারে কে দ্যাখবো! সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রাসেল সরদারের স্ত্রী শেফালি বেগম এভাবেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আহাজারি করেন। শেফালি বেগম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল তার স্বামী। একাধিক থানায় খোঁজ করে স্বামীর সংবাদ পাননি তিনি। চারদিন পর সোমবার মর্গে গিয়ে স্বামীর লাশ পেলেন তিনি। লাশ দেখেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পুলিশের দাবি সোমবার ভোর রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রাসেল সরদার। প্রথমে তার পরিচয় অজ্ঞাত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখে। দুপুরে নিহতের স্ত্রী শেফালি বেগম ও ভাই আকাশ সরদার মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের ভাই আকাশ জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগদায়। বাবা-মায়ের অমতে বিয়ে করায় রাসেলের সঙ্গে পরিবারের অন্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে ভাই আকাশের কেরানীগঞ্জের মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে কাজ করতেন তিনি। স্ত্রী শেফালিকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভাবীবাজার এলাকায় থাকতেন তিনি। আকাশের দাবি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাসায় যাওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে ২০ টাকা নিয়ে বের হন রাসেল। এরপর থেকেই তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহতের স্ত্রী শেফালি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে কেরানীগঞ্জে ভাইয়ের দোকানে যান রাসেল। দুপুর ১টার পর পর তিনি স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পান। এরপর আত্মীয়স্বজনদের বিষয়টি জানান তিনি। কেরানীগঞ্জসহ ৯টি থানায় স্বামীকে খোঁজাখুঁজি করেন। সোমবার টেলিভিশনের খবর দেখে তিনি মর্গে যান এবং স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী কাঠেরপুল এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে রাসেল জড়িত ছিল। তাকে পুলিশ খুঁজছিল। সোমবার ভোররাতে কাঠেরপুল এলাকায় ডিবির একটি টিম তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলে সে বোমা ছুড়ে মারে। এ সময় ডিবির সদস্যরা গুলি ছোড়ে।
জানা গেছে চলতি বছরের শুরু থেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাজধানীতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ ফেব্র“য়ারি যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন সাখাওয়াত হোসেন রাহাত ও মুজাহিদুল ইসলাম জিহাদ। তাদের মধ্যে সাখাওয়াত ১৫ দিন আগে থেকে এবং মুজাহেদুল প্রায় ১০ দিন আগে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ৪ ফেব্র“য়ারি দিনগত রাতে মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মনির হোসেন নামে এক ছাত্রদল কর্মী। ৮ ফেব্র“য়ারি ভোরে শিবির নেতা জসিম উদ্দিন শেরেবাংলা নগর এলাকার তালতলা নতুন রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ১৯ জানুয়ারি রাতে খিলগাঁও ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ৩১ জানুয়ারি রাতে ঢাকার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি এমদাদ উল্লাহ মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ২৫ জানুয়ারি বনশ্রী এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ২ জন। ১৮ জানুয়ারি ভোরে মতিঝিলে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা ইমরুল কায়েস।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close