¦
ব্যাংকের সব শাখায় সতর্ক বার্তা পাঠানোর নির্দেশ

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানান্তর করা অর্থ যাতে কোনোক্রমেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা না যায় সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানোর জন্য আজকের মধ্যে ব্যাংকগুলোর সব শাখায় বিশেষ সতর্ক বার্তা পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য (কেওয়াইসি) ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোনো অর্থ স্থানান্তর না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর সন্দেহজনক গ্রাহকদের গত ছয় মাসের লেনদেন তদন্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে।
মঙ্গলবার সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি এক বৈঠকে এসব নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অপর এক বৈঠকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগানদাতা ও জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ধরনের কোনো লেনদেন শনাক্ত করা গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইউনিটকে (বিএফআইইউ) এবং গোয়েন্দা সংস্থা স্পেশাল ব্র্যাঞ্চকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্যাংকের মাধ্যমে যাতে কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থ লেনদেন হতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর এমডিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার কথা বলেছিলেন। তার আলোকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে এসব নির্দেশনা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এস আসলাম আলম যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে সরকারি খাতের ৬টি ব্যাংকের এমডিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান যুগান্তরকে বলেন, কয়েকটি সংস্থা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য এসেছে, সহিংসতায় অর্থায়ন হচ্ছে ব্যাংকের মাধ্যমে, এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রচলিত নীতিমালা মেনে চলার জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। নিবন্ধনহীন মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে যাতে অর্থ লেনদেন না হয় এজন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের উদ্দেশে আরও বলা হয়েছে, দেশের যেসব জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে সেসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলোকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ওইসব অঞ্চলের গ্রাহকদের গত ছয় মাসের লেনদেন বিশেষভাবে তদারকি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। ব্যাংকের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধি-বিধানগুলোর প্রধান পরিপালন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। কোনো গ্রাহকের হিসাবের মাধ্যমে যাতে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন করতে না পারে সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে গ্রাহক ও জনগণের মধ্যে প্রচার চালাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (এফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এমডিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে বলা হয়, এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ স্থানান্তর হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংক ও এজেন্টগুলোকে বেশ সতর্ক থাকতে হবে। মোবাইল ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহকের পরিচয় জানতে হবে বা তার কেওয়াইসি পরিপূর্ণভাবে রাখতে হবে। কেওয়াইসি ছাড়া কোনো লেনদেন করা যাবে না। বৈঠকে ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মাঝে মধ্যে এসব বিষয় পরিদর্শন করে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৈঠকে প্রচলিত আইনের উল্লেখ করে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক সন্ত্রাসী কার্যে জড়িত লেনদেন প্রতিরোধ ও শনাক্ত করার লক্ষ্যে সব ব্যাংক যথাযথ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করবে। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ বা পরিচালনা পরিষদের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাহী তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কিত নির্দেশনা জারি করবে এবং বিএফআইইউ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে। কোনো ব্যাংক উক্ত বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হলে বিএফআইইউ অনধিক ২৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা, সেবা কেন্দ্র, বুথ বা এজেন্টের লাইসেন্স স্থগিত করতে পারবে। কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্পিত দায়িত্ব পালন না করলে চেয়ারম্যান বা ক্ষেত্রমত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীকে অনধিক ২৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং তার পদ থেকে অপসারণ করার বিধানও উক্ত আইনে রয়েছে।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে সন্দেহজনক ৯৮ হাজার ২৮৩টি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব চিহ্নিত করে তা বন্ধ করতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), মোবাইল অপারেটর ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে। অন্যের হিসাব বা এজেন্টের হিসাব ব্যবহার করে কোনো লেনদেন করা যাবে না। এ নির্দেশনা না মানলে বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের অনুমোদন বাতিল করা হবে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close