¦
রেকর্ড গড়ে ফের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে | প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

কেন্দ্রফেরত সমীক্ষায় আম আদমি পার্টির (এএপি) জয়ের দিকেই ইঙ্গিত ছিল। মঙ্গলবার সকাল আটটায় ভোট গণনা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমীক্ষার আভাস সত্য করে নিশ্চিত হয়ে যায় কেজরিওয়ালের জয়। কিন্তু বিজেপিকে ধরাশায়ী করে এত বিশাল ব্যবধানে এএপির জয় হবে তা ভাবতে পারেননি রাজনীতি বিশ্লেষকরাও। দিল্লি বিধানসভা ভোটে ৯৫ শতাংশ আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল এএপি। এতে নতুন করে নির্ধারণ হল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংজ্ঞা। ফের ঝাড়ু চিহ্নের এএপির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ওপরেই ভরসা রাখলেন দিল্লিবাসী। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল সোনিয়ার কংগ্রেস। জয়ের সব কৃতিত্বই তিনি কর্মী ও সমর্থকদের দিয়েছেন। ১৪ ফেব্র“য়ারি সকালে রামলীলা ময়দানে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করবেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ৭০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এএপি পেয়েছে ৬৭টি আসন। এর আগে কেন্দ্রফেরত ভোটারদের ওপর চালানো সমীক্ষার সমন্বিত ফলে দেখা যায়,বিজেপি পেতে পারে ২৫ থেকে ৩০টি আসন। এএপি পেতে পারে কমপক্ষে ৪২টি আসন। আর কংগ্রেস পেতে পারে ৩ থেকে ৫টি আসন। ফল জানার পর দেখা গেল, নরেন্দ্র মোদি নিজে ১১টি জনসভা করে বিজেপিকে মাত্র তিনটি আসনে জেতাতে পেরেছেন। লোকসভা ভোটে দেয়া প্রতিশ্র“তির একটাও পূরণ না হওয়ায় মোদির এ হার বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। সোনিয়া-রাহুল গান্ধী রোডশো করেও দিল্লিতে একটি আসনে জেতাতে পারেননি কংগ্রেসকে। কৃষ্ণানগর কেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজার ভোটে হেরে গিয়েছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কিরণ বেদি। গ্রেটার কৈলাসে হেরে গেছেন কংগ্রেস প্রার্থী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়ে শর্মিষ্ঠা। সদর বাজারে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী অজয় মাকেন হারলেন এএপির সোম দত্তের কাছে। নয়াদিল্লি কেন্দ্রে বিজেপির নূপুর শর্মাকে হারিয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন কেজরিওয়াল। ভারতের রাজধানীতে এ বিশাল ব্যবধানে জয়ে স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের মেজাজে এএপি কর্মীরা। ‘পাঁচ সাল কেজরিওয়াল’- স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমেছেন দিল্লির নিুমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত থেকে হাই প্রোফাইল বাসিন্দারা।
সত্য ও সততার জয়- কেজরিওয়াল : নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর দিল্লির কেন্দ্রস্থলে এএপির কার্যালয়ের সামনে হাজারও সমর্থকের উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে কেজরিওয়াল বলেন, ‘এটা সত্য ও সততার জয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ জয় দিল্লিবাসীর। ধনী-গরিব সবার জয়। অহংকারের জন্য কংগ্রেস-বিজেপির এ দশা। আপনারা বিন্দুমাত্র অহংকার করবেন না। সবাই হাত জোড় করে কাজ করুন।’ বিজেপির ঝড়কে থমকে দিয়ে দিল্লিতে এএপির উত্থানের পরও মাটিতে পা রেখে চলার পরামর্শ দিয়েছেন কেজরি। প্রাথমিক ফল ঘোষণার পর এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দুর্নীতিবিরোধী এ নেতা বলেন, ‘আমার অগ্রাধিকার হবে ঘুষ বন্ধ করা।’
অরবিন্দকে পুরো নম্বর দিলাম- কিরণ বেদি : টুইটারে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী কিরণ বেদি লিখেছেন, ‘অরবিন্দকে পুরো নম্বর দিলাম। দিল্লিকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দাও। বিশ্বমানের শহর হিসেবে গড়ে তোল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ পরাজয়ে আমি কিছু হারাইনি, হারিয়েছে বিজেপি।’
কেন্দ্রের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি মোদির : কেজরিওয়ালের জয় স্পষ্ট হতেই মঙ্গলবার সকালে তাকে ফোন করে অভিনন্দন ও চায়ের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু’একদিনের মধ্যেই মোদির সঙ্গে কেজরিওয়াল দেখা করতে যাবেন বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। মোদি কেজরিকে বলেন, ‘জয়ের জন্য অভিনন্দন। এএপির মাধ্যমে দিল্লির উন্নতি চাই।’ দিল্লিকে কেন্দ্রের সব রকমের সাহায্যের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মোদি।
এ পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল- মমতা : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কেজরিকে টুইটারে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেন, ‘দিল্লি নির্বাচনের ফল বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক বড় টার্নিং পয়েন্ট। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো জায়গা নেই। দেশে এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। এই জয় মানুষের জয়। যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়াচ্ছে এবং ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে তাদের পরাজয় হল। দিল্লির ভোটার ও এএপি কর্মীদের আমার অভিনন্দন।’
ইস্তফা দিলেন অজয় মাকেন : কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের দায় ঘাড়ে নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তেফা দিলেন অজয় মাকেন। কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন দিল্লির রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অরবিন্দর সিং লাভলি।
‘প্রিয়াংকা লাও দেশ বাঁচাও’ : রাজধানীতে কংগ্রেসের একাধিক অফিসে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রিয়াংকা গান্ধীকে রাজনীতিতে আনার দাবি তুলে স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘প্রিয়াংকা লাও দেশ বাঁচাও’।
ভরসা রাখার কারণ কেজরির ক্ষমা চাওয়া- বিশ্লেষকরা : ২০১৩ সালে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন জিতে ক্ষমতায় আসার ৪৯ দিনের মাথায় সরকার ভেঙে দেয়ার পরেও যে এবার দিল্লিবাসী এএপির ওপর ভরসা রেখেছেন তার পেছনে ঘরে ঘরে গিয়ে কেজরির ক্ষমা চাওয়াকেই কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি নিুমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সঙ্গে এএপি এবার দিল্লিতে উচ্চবিত্তের ভোটও পেয়েছে। কংগ্রেসের পুরো ভোটটাই পেয়ে গেছে এএপি। এ প্রসঙ্গে এএপির কুমার বিশ্বাস বলেছেন, ‘আমরা ৪৫টির মতো আসন পাব বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু এটাই প্রমাণ করছে গণতন্ত্রে স্বীকারোক্তিতেই চলে।’
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সিনিয়র মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘বিজেপির পরাজয়ে দিল্লির মানুষ প্রতিহিংসার রাজনীতির যোগ্য জবাব দিয়েছেন। বিজেপির ঔদ্ধত্য মানুষ মেনে নেয়নি।’ নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন বলেছেন, ‘আমরা গত ছ’মাস ধরে এএপির সঙ্গে আছি। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এক সঙ্গে কাজ করছি। ওদের শুভেচ্ছা।
বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেয়ার চেষ্টা করছে সব জায়গায়।’ এদিন ভোটের ফলাফলের প্রবণতা বুঝে কেজরিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আন্না হাজারে তার বার্তায় বলেছেন, ‘আগের ভুল ফের করো না। সাধারণভাবে থাক।’
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close