¦
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আবদুল্লাহ আল মামুন/উবায়দুল্লাহ বাদল | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে এই নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিসিসি নির্বাচন দিন, আর কতদিন ঝুলিয়ে রাখবেন? বৈঠকের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা পাবেন। বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী যুগান্তরকে জানান, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) একটি উন্নয়ন কাজ নিয়ে আলোচনার সময় নির্বাচনের প্রসঙ্গ আসে। একজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ডিসিসি উত্তরে মেয়র প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে আমাদের প্রার্থী আছেন। তিনি ব্যবসায়ী নেতা, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক।
ওই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ হাসতে হাসতে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি নির্বাচন করতে চাই। আমাকে মনোনয়ন দেন। তারই সুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও একই কথা বলেন। তখন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমি কি দোষ করলাম? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার নামও বিবেচনায় নিয়েন। মেয়র প্রার্থিতা নিয়ে এই রসিকতার মধ্যেই এক মন্ত্রী জানতে চান, উত্তরে যদি আনিসুল হক হয়, তাহলে দক্ষিণে কি সাঈদ খোকন?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খোকনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ও (খোকন) নির্বাচন এলে চাঙ্গা হয়, অন্য সময় নিষ্ক্রিয় থাকে। তবে ডিসিসি নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে এ বৈঠকে সুশীল সমাজের সংলাপের উদ্যোগ নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন মন্ত্রী। ওই মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ নিয়ে কথা তোলেন। শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা দুই নেত্রীকে এক পাল্লায় মাপে কেন? বর্তমান অবস্থার জন্য কে দায়ী? তা তারা একটি সার্চ কমিটি গঠন করেও তো বের করতে পারে। প্রয়োজনে জনগণের সঙ্গে কথা বলুক। তারা কি বলেন।
বিএনপির অবরোধ ও হরতাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এই কর্মসূচি কেউ মানে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব শিগগির সারা দেশে জনজীবন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়ছে : সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা পাচ্ছেন তারা। তবে এই অর্থের পরিমাণ ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এ তথ্য জানান সাংবাদিকদের।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ এবং অনুন্নয়ন বাজেটের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ সংক্রান্ত পরিপত্র সংশোধনের এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। ফলে মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা আগের মতো রাখা হলেও অধিদফতর, সংস্থা, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা অথবা প্রকল্প পরিচালকদের অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ছে।
মোশাররাফ হোসাইন বলেন, সর্বশেষ ২০০৪ সালে উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও ২০০৫ সালে অনুন্নয়ন বাজেটের ক্ষমতা অর্পণ নিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত পরিপত্রগুলো সংশোধন করা হয়। এর মধ্যে সরকারের কাজ অনেক বেড়ে গেছে, বাজেট ও এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) আকার বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন অনুভব করেছে সরকার।
আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোর এ প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী অনুমোদন দিতে পারতেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তবে অর্থ বিভাগ এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করে মন্ত্রিসভার অবগতির জন্য এটি নিয়ে এসেছে। এছাড়া আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থাকার কারণেও এটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসেছে। তিনি আরও বলেন, পূর্তকাজ (উন্নয়নমূলক ব্যয়), মালামাল ক্রয় (অনুন্নয়ন ব্যয়) ও বুদ্ধিবৃত্তিক বা পরামর্শক কাজের (সেবামূলক ব্যয়) জন্য অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। কোনো মন্ত্রণালয় ৫০ কোটি টাকার বেশি পূর্তকাজ ও মালামাল কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হয়। অপরদিকে সেবামূলক কাজের ব্যয় ১০ কোটি টাকার বেশি হলে ক্রয় কমিটির অনুমোদন লাগে।
অর্থ বিভাগ মন্ত্রণালয়গুলোকে অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও মন্ত্রিসভা তা অনুমোদন করেনি। তাই ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আর্থিক ক্ষমতা আগের মতোই থাকবে বলেন তিনি।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বর্তমান অর্থ ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পূর্তকাজের জন্য বিভাগীয় প্রধানরা ১৪ কোটি টাকা, ক শ্রেণীর প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি) ৮ কোটি ও খ শ্রেণীর পিডিরা ৬ কোটি টাকা ও গ শ্রেণীর ৪ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারেন। পরিপত্র সংশোধনের পর এটা বাড়বে। মালামাল ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান ২০ লাখ টাকা, আঞ্চলিক কর্মকর্তা ৬ লাখ টাকা, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ৪ লাখ টাকা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ২ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন। এটা অপর্যাপ্ত, এটা বাড়বে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কতটুকু বাড়ছে মন্ত্রিসভা তা নির্ধারণ করেনি জানিয়ে মোশাররাফ বলেন, অর্থমন্ত্রী প্রকল্প বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত দেবেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ানো হলে মাঠ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে, উন্নয়ন কাজে গতি আসবে বলে মনে করছে মন্ত্রিসভা। অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত পরিপত্র সংশোধনের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী নিজেই অনুমোদন করতে পারেন। তবে গুরুত্ব বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় মন্ত্রিসভা কমিটিতে আসায় তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হয়েছে বলে জানান সচিব।
রেলওয়ে বোর্ড (রহিতকরণ) আইন বাতিল : মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া বাংলাদেশ রেলওয়ে বোর্ড (রহিতকরণ) আইন, ২০১৪ প্রয়োজন নেই। এজন্য এ আইনের বিষয়ে গত বছরের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এটি সামরিক শাসনামলের আইন। রেলওয়ে বোর্ড (রহিতকরণ) নিয়ে ১৯৭৬ ও ১৯৮৩ সালে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। নতুনভাবে এটি মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছিল। নীতিগত অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের সময় দেখা গেল এই আইনটির কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই আগের নেয়া সিদ্ধান্ত এখন বাতিল করা হয়েছে।
মুখ্য সচিবের অবসরে ধন্যবাদ প্রস্তাব : বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার রোববার পিআরএলে (অবসরোত্তর ছুটিতে) যাওয়ায় মন্ত্রিসভা বৈঠকে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, সোবহান সিকদার সাহেব একজন বিচক্ষণ, নিষ্ঠাবান ও চৌকস কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ৩৪ বছর বিভিন্ন পদে থেকে সরকার ও জাতিকে সেবা দিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে, তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছে। সোবহান সিকদার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close