¦
খালেদা জিয়াকে বন্দির হুমকি

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে তিন দফায় ৪টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এ কর্মসূচি উপলক্ষে গুলশান এলাকায় নেয়া কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই এ হামলায় ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্যে আল আমিন নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ এ কর্মসূচি পালন করে।
বোমা হামলার ঘটনায় কর্মসূচিতে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। গুলশান-২ এ মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজার ছাদ থেকে বোমা হামলা হয়েছে- এমন সন্দেহে ওই মার্কেটে হামলা চালায় সমন্বয় পরিষদের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ পুরো মার্কেটের দখল নিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। এছাড়া বনানী, কাকলি ও মহাখালীতে কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের পৃথক মিছিলেও ককটেল হামলা হয়েছে।
এ ঘেরাও কর্মসূচিতে মহাজোটের দুই সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান ও শিরীন আখতারসহ আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, প্রজন্ম লীগসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ এবং খাবার ঢোকা বন্ধের হুমকির পর খালেদা জিয়াকে বন্দি করার হুমকি দিয়েছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।
বোমা হামলার চার ঘণ্টা পর বিকালে সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করেছেন নৌমন্ত্রী। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। হামলার প্রতিবাদে আজ বিকাল সাড়ে তিনটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া পূর্বঘোষিত ১৮ ও ১৯ ফেব্র“য়ারি রাজধানীতে মিছিল কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার লুৎফুল কবির বলেন, গুলশান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ। হাতবোমা হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধারণা করছি মার্কেটের ওপর থেকে ছোড়া হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কিভাবে হামলা হল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণে মোট ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আল আমিন নামে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পায়ের কিছু মাংস ও হাড় টুকরো হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে ওসি জানান। গুলশান থানার ওসি (তদন্ত) ফিরোজ কবির জানান, মিছিলের ওপর হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে সমাবেশ ও খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে সমন্বয় পরিষদ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে গুলশানের সেন্ট্রাল পার্কের খালি মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেখান থেকে মিছিল সহকারে গুলশান কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন সমন্বয় পরিষদের নেতাকর্মীরা। পুলিশ গুলশান কার্যালয়ের সামনের ৮৬ নম্বর সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে রাখায় দক্ষিণমাথায় ৮৬ ও ৯০ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে সমাবেশ করেন তারা।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিএমএ ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সমন্বয় পরিষদের জাতীয় কনভেনশনে ঘোষিত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। বোমা হামলার আগে সমাবেশে খালেদা জিয়াকে ‘দানব’ আখ্যায়িত করে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সরকারের উদ্দেশে বলেন, যে দানব মানুষ হত্যা করে তাকে আটক করে অবিলম্বে খাঁচায় বন্দি করুন। দেশ ও মানুষকে বাঁচান। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার না করলে জনগণই তাকে কোলে করে আদরযত্নে কাশিমপুর কারাগারে দিয়ে আসবে।
তিন দফায় হাতবোমা হামলা : শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ করে তিন দফায় ৪টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর মধ্যে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরে মিছিলের মাঝামাঝি অংশে ছুড়ে মারা হাতবোমায় অন্তত ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মিছিল ও সমাবেশস্থলের কাছাকাছি বাকি দুই দফায় বোমা হামলা হলেও কেউ হতাহত হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে সমাবেশ শেষে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে মিছিল সহকারে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের উদ্দেশে মিছিল সহকারে রওনা দেন সমন্বয় পরিষদের নেতাকর্মীরা। মিছিলের সামনের ভাগে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান ও শিরীন আখতারসহ সমন্বয় পরিষদের নেতারা ছিলেন। তাদের পেছনে বিভিন্ন ব্যানারে অন্যরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। মিছিলের সামনের অংশ প্রধান সড়কে উঠে গেলেও পেছনে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ছোট ছোট অংশে পার্কের ভেতরে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন মুহূর্তে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে পার্কের এক কোনায় প্রথম হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট আওয়াজ পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে দ্রুত ছুটে যায়। তবে কাউকে আটক করতে দেখা যায়নি।
সমন্বয় পরিষদের সিনিয়র নেতারা মিছিল সহকারে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর পার হয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলে মিছিলের মাঝ বরাবর বেলা সোয়া ১২টার দিকে একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিকট শব্দে পুরো এলাকা কম্পিত হয়ে ওঠে। দিগি¦দিক ছুটে পালান নেতাকর্মীরা। পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় বসে চিৎকার করতে দেখা গেছে। মিছিলকারীরা তাদের রিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান। মার্কেটের সামনের খোলা অংশে আল আমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাখা হয়। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মিছিলকারীদের কেউ কেউ উচ্চ স্বরে বলতে থাকেন, এই মার্কেটের (মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজা) ছাদ থেকে জামায়াত-শিবির-বিএনপি বোমা মেরেছে। এরপরই মার্কেট লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে মিছিলকারীরা। হাতে থাকা ফেস্টুনের লাঠি দিয়ে ভাংচুর করে। ভয়ে বেশির ভাগ দোকানের সাটার ও গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। সামনের অংশের কয়েকটি দোকানের গ্লাস ও সাইনবোর্ড ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় একটি রিকশায় ইব্রাহিম খলিল ও শামীম নামের দু’জনকে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে। এ দু’জন বলেন, ‘উপর থেকে বোমা মারছে। অনেক মানুষ আহত হইছে।’
ঘটনাস্থল মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজার সামনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপর তিন জায়গায় রক্তজমাট বেঁধে আছে। এক জায়গায় কয়েকটি ছোট টুকরো হাড় ও মাংস প্লাকার্ড দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তার পাশে কয়েকটি জুতা ও সেন্ডেল পড়ে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল। পরে তাকে মার্কেটটির বারান্দায় নেয়া হয়। ১৩ নম্বর দোকানের সামনের বারান্দায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়।
ঘটনাস্থলের কাছেই দায়িত্বরত পুলিশের একজন সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফোর্স নিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ করেই বোমার আওয়াজ শুনে এগিয়ে যাই। তখন মিছিলকারীরা দিগি¦দিগ ছুটাছুটি করছিলেন। কেউ কেউ মার্কেটে ঢিল মারছিলেন। আমরা আহতদের হাসপাতালে যেতে সহযোগিতা করেছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কেটের একজন দোকানদার বলেন, হঠাৎ বোমার আওয়াজ এবং পরক্ষণে মিছিলকারীদের হামলায় আমরাও আতংকে দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ি। কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। মিছিলকারীরাই তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেছে। মার্কেটের সাঁটার বন্ধ থাকায় দোকানিরা বের হতে পারেননি। ওই মার্কেটে একটি ব্যাংকের শাখাও রয়েছে। হামলায় মার্কেট বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরে আটকা পড়েন গ্রাহকরা।
ঘটনাস্থলে আরও দেখা গেছে, মিছিলকারীদের হামলার পরপরই পুরো মার্কেট ঘিরে ফেলেন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা মার্কেটে ঢুকে দোকান ও শোরুমগুলোতে তল্লাশি চালান। পাশাপাশি ছাদ থেকে হামলার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেন। গেট বন্ধ থাকায় মার্কেটের ভেতরে গণমাধ্যমকর্মীসহ বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
তৃতীয় দফা হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটে বেলা ১টা ১০ মিনিটে। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের কাছে অবস্থান নিয়ে শাজাহান খান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন গুলশান-২ নম্বর ও নতুন বাজার রাস্তার মাঝামাঝি স্থানে বিএফসি ক্রসিংয়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘেরাও কর্মসূচিতে আসা নেতাকর্মীরা ক্রসিং সংলগ্ন (৯২ নম্বর সড়কের) শিখারা ডেভেলপমেন্টের নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করে এবং একইসঙ্গে ভবনের পাশে টিনের বেড়া ভাংচুর করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলশান থানার পেট্রল ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন বলেন, কে বা কারা কোথা থেকে ককটেল নিক্ষেপ করেছে তা জানা যায়নি।
আহত ১৭ জন : গুলশান-২ নম্বর সংলগ্ন মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজার সামনে বোমায় ১৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও পুলিশ দাবি করেছে আহতের সংখ্যা ১২। আর সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব সোনাগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান জেডএম কামরুল আনাম দাবি করেছেন, হামলায় তাদের ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
গুলশান থানার এসআই মাহবুব জানান, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা হলেন- সোহেল (৪২), শামীম (১৮), মোস্তফা (৪১) ও ইব্রাহিম (২৬)। ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ওই হাসপাতালে (ইউনাউটেড) সাতজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন আলামিন নামে একজন। তার অবস্থা গুরুতর। তার একটি পায়ের কিছু অংশের মাংস ও হাড় বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বাবুল আহমেদ (৫৪), মোতালেব (২২) ও উবায়দুল (২১)। তাদের মাথায় ও পায়ে আঘাত লেগেছে। বাবুল আহমেদ বলেন, তিনি ফকিরাপুলের একটি প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারী। তিনি জাতীয় শ্রমিক জোটের সদস্য। তাই ওই মিছিলে ছিলেন। আহত মোতালেব ও উবায়দুল হক মীরহাজিরবাগের বাসিন্দা। তারা হকারি করেন। ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের গেণ্ডারিয়া থানার সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, হামলায় আমার বাম পা মচকে গেছে।
ঘেরাও কর্মসূচি : ঘেরাও কর্মসূচির অংশ হিসেবে গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল ও গাড়ির বহর নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানারে সমাবেশে হাজির হন। এ সময় গুলশান-২ নম্বর এলাকায় যানজট দেখা দেয়। সমাবেশে সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান খান, সংসদ সদস্য শিরীন আখতার ও ডা. এনামুর রহমান, হেলাল মোর্শেদ খান, ইসমত কাদির গামা, এমদাদ হোসেন মতিন, সদস্য সচিব জেডএম কামরুল আনাম, মোখলেসুর রহমান, ইসমাইল হোসেন বাচ্চু, শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, আলাউদ্দিন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে নৌমন্ত্রী আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করতে এবং মানুষ হত্যা ও বোমাবাজি বন্ধ করতে খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুনির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কার্যালয় গুলশান থেকে অবিলম্বে অন্যত্র স্থানান্তরে সরকারের দাবি জানিয়ে বলেন, তার কারণে গুলশানে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার ঘুম ভাঙাতে এসেছি। তিনি (খালেদা জিয়া) হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ খুন করে চলছেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠক বাদ দিয়ে খালেদা জিয়াকে ঘেরাও করলেন নৌমন্ত্রী : মন্ত্রিসভার বৈঠক বাদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। আর এ কারণে মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে নিজ মন্ত্রণালয়ের আলোচ্যসূচি (এজেন্ডা) ‘বন্দর আইন (সংশোধন)-২০১৫’ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শাজাহান খান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে গুলশানে খালেদার কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। শ্রমিকনেতা ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ওই পরিষদের আহ্বায়ক। গুলশান ৮৬ নম্বর সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে শাজাহান খানের নেতৃত্বে যখন কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল, তখন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে তিনটি এজেন্ডা থাকলেও নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি এজেন্ডা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। ‘১৯০৮ সালের পোর্টস অ্যাক্ট আছে এটা সংশোধন করতে হবে। মাননীয় মন্ত্রী (নৌমন্ত্রী) আজকে ছিলেন না, তাই এটা (এজেন্ডা) আলোচনা হয়নি,’ বলেন সচিব। ৫ জানুয়ারি থেকে চলমান হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে পরিবহনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান সোমবার নিজেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close