¦
দশ হাজার কৃষকের বিরুদ্ধে দুই লাখ মামলা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংক কৃষকদের কাছ থেকে ৫৭০ কোটি টাকা আদায়ে ২ লাখ মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় ১০ হাজার কৃষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে এসব কৃষক এখন ফেরারি আসামি হয়ে ঘুরছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, কৃষকের বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনো মামলা করা যাবে না। এখন পর্যন্ত যেসব মামলা করা আছে সেগুলো প্রত্যাহার করে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ আদায় করতে হবে। যেসব মামলায় কৃষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে সেগুলো আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যেসব মামলায় রায় হয়েছে সেগুলোর বিপরীতে ঋণ আদায়ে কোনো বল প্রয়োগ করা যাবে না। কৃষকরা যাতে নতুন ঋণ পায় সে জন্য খেলাপি ঋণ নবায়ণ করে নতুন ঋণ দিতে হবে।
সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ঋণ আদায়ের নামে কৃষকদের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামে কৃষি ঋণ বিতরণ কমে গেছে। মামলার ফাঁদে পড়ে কৃষকরাও ক্ষুব্ধ। এছাড়া টানা হরতাল ও অবরোধের ফলে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। ফলে তারা ঋণও পরিশোধ করতে পারছেন না। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামীতে কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীদের বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা দেয়ারও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, গত দেড় মাস ধরে চলা হরতাল-অবরোধের কারণে পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বড় শিল্পসহ সবখাতই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যদি কোনো ঋণ নীতিমালা শিথিল করার প্রয়োজন হয়, তবে সময়মতো সেসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের বিরুদ্ধে প্রচুর সার্টিফিকেট মামলা হচ্ছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হচ্ছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ জন্য সরকারি ব্যাংকগুলোকে এমন পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, যাতে সার্টিফিকেট মামলা না করতে হয়, আর করলেও তার সংখ্যা যেন কম থাকে। এজন্য ঋণ আদায় জোরদার, কৃষকদের মধ্যে ঋণ ফেরতের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঋণ বিতরণের আগে যাচাই-বাছাই বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ নবায়ণ করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাবলিক ডিম্যান্ড অ্যান্ড রিকভারি (পিডিআর) অ্যাক্ট অনুসারে কোনো ঋণ তিন বছর ধরে বকেয়া থাকলে ওই ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্য খাতের ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণের ছয় মাস পরেই খেলাপি হয়, তবে কৃষি ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণের এক বছর পর খেলাপি হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে এসকে সুর চৌধুরী বলেন, আইনে সার্টিফিকেট মামলা করার বাধ্যবাধকতা আছে। তবে এই আইন সংশোধন বা সময়োপোযোগী করার দায়িত্ব আইন প্রণেতাদের। শাখা ব্যবস্থাপকরা পারফরম্যান্স দেখানোর জন্য অনেক সময় অতি উৎসাহী হয়ে ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা না করে মামলা করে দেয়। এ বিষয়ে এখন থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যারা ভালো গ্রাহক তাদের সুদে বিশেষ ছাড়ের পাশাপাশি পুরস্কৃত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close