¦
আলোচনার তাগিদ মুনের

কূটনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর পথ খুঁজে বের করার পরামর্শও দেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতি বোঝার জন্য জাতিসংঘ সরকারের সঙ্গে আলাপ অব্যাহত রাখবে।
মহাসচিব বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। হোয়াইট হাউস কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম সামিটের বাইরে বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন মাহমুদ আলী।
এর আগে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে চিঠি দেন। দুই নেত্রী যখন চিঠির জবাব দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন, ঠিক তখনই মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করলেন মাহমুদ আলী। দুই নেত্রীকে চিঠি দেয়ার বিষয়টি জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশের চলমান সহিংস পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে বেশ কিছু দিন ধরেই বান কি মুন উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। সংকট উত্তরণে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করার জন্য জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে দায়িত্ব দেন বান কি মুন।
বৈঠকের পর জাতিসংঘের দেয়া এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার জন্য মহাসচিব বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করেন। তিনি ২০১৫ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে প্রাণহানি এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহাসচিব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জাতিসংঘের কাজে বিশেষ করে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান মহাসচিব। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতি দিয়েছে। বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ও উন্মুক্ত রেখেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে চলমান সহিংসতায় উদ্বেগের কথা জানান মহাসচিব। তিনি বলেন যে, সাধারণ জনগণকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব এবং সব রাজনৈতিক দলের উচিত গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ঊর্ধ্বে রেখে তাদের রাজনৈতিক অধিকার চর্চা করা।
এতে আরও বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে সবাইকে নিয়ে এবং অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের পদক্ষেপগুলো জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করেন। তিনি দুঃখের সঙ্গে বলেন, বিএনপি নেতারা সরকারের প্রস্তাব নিরবচ্ছিন্নভাবে নাকচ করে যাচ্ছে। তার পরিবর্তে নিরীহ জীবনের বিনিময়ে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। তিনি জোর দেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি বোঝার জন্য জাতিসংঘ সরকারের সঙ্গে আলাপ অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনারের সঙ্গে শিগগিরই ফের আলোচনা করতে আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। জাতিসংঘ মহাসচিব হোয়াইট হাউস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close