¦
২০ ঘণ্টা পর মান্না গ্রেফতার

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গুলশান থানায় করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ধানমণ্ডির সিটি কলেজ এলাকার একটি বাসা থেকে মান্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব-২ সংশ্লিষ্ট সূত্র। গ্রেফতারের পর মান্নাকে র‌্যাব হেফাজতে রাখা হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম রাত ১টা ২৫ মিনিটে  টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, র‌্যাব থেকে তাদের বলা হয়েছে, মান্না তাদের কাছে রয়েছে। রাতেই তাকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। এখন পর্যন্ত তাকে হস্তান্তর করা হয়নি। মঙ্গলবার রাত ৩টায় বনানীর এক বাসা থেকে মান্নাকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু  তাকে আটক কিংবা গ্রেফতারের খবর অস্বীকার করে আসছিল আইনশৃংখলা বাহিনী।
অন্যদিকে মান্নার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান যুগান্তরকে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে বিদ্রোহে উসকানির অভিযোগে করা মামলায় তাকে  রাত ১১টার দিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশান থানার অপারেশন অফিসার উপ-পরিদর্শক শেখ সোহেল রানা বাদী হয়ে মান্নাসহ অজ্ঞাত একজনকে আসামি করেন। পেনাল কোডের ১৩১ ধারায় এ মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৩২। তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি। মামলার এজাহারে মান্নার বিরুদ্ধে ‘সেনাবাহিনীকে উসকানিসহ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
মান্নার গ্রেফতারের খবর শোনার পরপরই তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বনানী থানা এবং পরে গুলশান থানায় যান। কিন্তু বনানী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য না দেয়ায় তারা বাসায় ফিরে যান। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মান্নাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা গুলশান থানায় যান। গুলশান থানা থেকে তাদের জানানো হয়, মান্নাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তারপর পরিবারের সদস্যরা ডিবি কার্যালয়ে ছোটেন। মান্নার স্ত্রী মেহের নিগারসহ পরিবারের সদস্যরা রাত ২টা ১৫ মিনিটে গুলশান থানায় ফিরে আসেন। তিনি সেখানে যুগান্তরকে বলেন, ডিবি কার্যালয়ে পৌনে ২ ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা ফিরে এসেছেন। সেখানে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। তার কেউ বলতে পারেননি মান্নাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে কিনা। এর কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, গুলশান থানার ওসি তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার স্বামী ডিবির হেফাজতে আছেন। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
এর আগে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বনানীর একটি বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে মঙ্গলবার সকালে অভিযোগ করেছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার ভোরে বনানীর ই-ব্লকের ১৭/এ নম্বর সড়কে মান্নার ভাতিজি শাহ্নামা শারমিনের বাসা (১২/সি বনানী) থেকে তাকে তুলে নেয়া হয় বলে তারা জানান।
তবে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিং করে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করার পর  দুপুরে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ‘নিখোঁজ’ উল্লেখ করে রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্নার ভাবী বেগম সুলতানা এ সাধারণ ডায়েরিটি করেন।
টেলিফোন কথোপকথনে সরকার উৎখাতে সামরিক হস্তক্ষেপে আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ চাওয়ার কথা মিডিয়ায় ফাঁস হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মাহমুদুর রহমান মান্না। এ কথোপকথনকে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনেকেই মান্নাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। কেউ কেউ মান্নাকে বিএনপির ‘পেইড এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই কথোপকথনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাহবাগ, পল্টন, গুলশান, রমনা ও মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ৩৩টি সাধারণ ডায়েরি হয়। এদিকে আজকের মধ্যে সরকার মাহমুদুর রহমান মান্নার অবস্থান জানাতে না পারলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে তার পরিবারেরর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
যেভাবে তুলে নেয়া হল মান্নাকে : মাহমুদুর রহমান মান্নার ভাতিজি শাহ্নামা শারমিন সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চাচা মাহমুদুর রহমান মান্না বনানীর ই-ব্লকে ১৭/এ নম্বর সড়কে তার বাসায় (বাসা নম্বর ১২/সি) আসেন। রাতের খাবার শেষে তার চাচা একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে বাসার প্রধান গেটে কে বা কারা নক করেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লোক বলে জানায়। শাহ্নামা শারমিন বলেন, ওই সময় তার স্বামী মোহাম্মদ আলী রুমি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষার জন্য বললে, ‘ডিবি পরিচয়’ দেয়া লোকগুলো দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে চায়। ততক্ষণে তার চাচা মাহমুদুর রহমান মান্না ঘুম থেকে উঠে বসেন। একপর্যায়ে দরজা খোলার পর গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দেয়া ব্যক্তিরা বাসার ভেতরে প্রবেশ করে তার চাচাকে ‘রেডি’ হতে বলেন।
শাহ্নামা শারমিন বলেন, তার স্বামী মোহাম্মদ আলী রুমি চাচার সঙ্গে যেতে চাইলে, ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়া লোকজন তাকেও গ্রেফতারের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তার চাচা প্রস্তুত হওয়ার জন্য ডিবি পুলিশের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেন। প্রায় ১৫ মিনিট ওই বাসায় অবস্থানের পর গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দেয়া লোকজন তার চাচাকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় তারা বাসার নিচে গিয়ে পাজেরো ও মাইক্রোবাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি দেখতে পান। এর মধ্যে সাদা একটি মাইক্রোবাসে তার চাচাকে তুলে নেয়া হয়। পরে গাড়িগুলো বনানী কবরস্থানের দিকে চলে যায়। শাহ্নামা শারমিন জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তারা বিষয়টি টেলিফোনে বনানী থানা পুলিশ এবং তার চাচি মেহের নিগারকে জানান। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার চাচি ও চাচাতো বোন নীলম মান্না তাদের বাসায় ছুটে আসেন।
মান্নার ভাবী বেগম সুলতানা জানান, তার দেবর মান্না সোমবার সারা দিন কলাবাগানে তার বাসায় (বেগম সুলতানা) ছিলেন। নানা কারণে আতংকে থাকা তার দেবর গুলশানের ১০২ নম্বর রোডে নিজের বাসায় না গিয়ে রাতে ভাতিজির বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, রাত ১১টার দিকে তিনি কলাবাগানের বাসা থেকে দেবর মান্নাকে নিয়ে বনানীতে মেয়ে (মান্নার ভাতিজি) শাহ্নামা শারমিনের বাসায় আসেন। এরপর গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তার দেবরকে ওই বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বনানীর ই-ব্লকে ১৭/এ নম্বর সড়কে সোমবার রাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী মুনসুর আলী যুগান্তরকে বলেন, রাত আড়াইটার দিকে পাজেরোসহ ৬-৭টি গাড়ি ওই বাসার সামনে এসে থামে। গাড়িগুলো থেকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক নেমে বাসার গেটে অবস্থান নেয়। ওই সময় তিনি বাসার সামনে যেতে চাইলে তারা নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলে।
মুনসুর আলী জানান, প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা পর গাড়িগুলো ওই বাসার সামনে থেকে কবরস্থান রোড ধরে উত্তর দিকে চলে যায়। তিনি বলেন, দীর্ঘ এ সময়ে ১৭/এ নম্বর সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। ওই গাড়িগুলো চলে যাওয়ার পর তিনি ওই বাসার সামনে গিয়ে ঘটনা জানতে পারেন।
গোয়েন্দা পুলিশের অস্বীকার : মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে আটকের খবর জানাজানি হলে ভোরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা মান্নার ভাতিজির বাসায় ছুটে যান। ওই সময় মান্নার ভাতিজি শাহ্নামা শারমিন, স্ত্রী মেহের নিগার ও মেয়ে নীলম মান্না সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটকের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হতে থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা নাকচ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তখন তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটক কিংবা গ্রেফতার কোনোটাই করা হয়নি। তার জানামতে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও তাকে আটক করেনি। তবে অন্য কোনো সংস্থা তাকে আটক করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এ সাধারণ ডায়েরিগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বনানী থানার ওসি ভূঁইয়া মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এত গাড়ি নিয়ে রাতে কোনো সংস্থা তার এলাকায় এলে পুলিশের খবর পাওয়ার কথা। এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ কিংবা অন্য কোনো সংস্থা অভিযান চালালে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। এক্ষেত্রে বনানী থানা পুলিশকে কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়নি বলে তিনি জানান।
থানায় জিডি : গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করার পর মান্নার বড় ভাইয়ের স্ত্রী বেগম সুলতানা মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সাধারণ ডায়েরি নম্বর-১০৮১। বেগম সুলতানা জিডিতে দাবি করেন, সোমবার রাত ৩টা-সাড়ে ৩টার দিকে ৬-৭ জন লোক গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে বনানীতে তার মেয়ের বাসা থেকেই মান্নাকে নিয়ে যায়। তিনি মান্নার সন্ধান চাওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
জিডিতে বলা হয়, ঘটনার আধা ঘণ্টা পর টিভির স্ক্রলে মান্নাকে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে বলে দেখতে পেয়ে তারা আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সকাল ৯টার দিকে টিভি স্ক্রলেই ডিবি পুলিশ গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করায় তারা শংকিত হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলে পুলিশ : সকাল ১০টার পর বনানী থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক দুটি দল বনানীর ই-ব্লকে ১৭/এ নম্বর সড়কে ঘটনার ওই বাড়িতে যায়। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকেও তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশের এ ভূমিকাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান মান্নার বড় ভাই দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সাংবাদিক এবিএম মোবায়েদুর রহমান বলেন, বাননীর মতো একটি স্থানে একটি বাড়ি থেকে মান্নার মতো একজন প্রখ্যাত (প্রমিনেন্ট) ব্যক্তিকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হল আর পুলিশ কিছু জানবে না এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা মাহমুদুর রহমান মান্না নাগরিক ঐক্য নামের একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির সঙ্গে মান্নার ফোনালাপের দুটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়ে যায়।
বিভিন্ন মিডিয়ায় ওই টেলিফোন আলাপ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পড়েন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ওই ফোনালাপের একটিতে সরকার উৎখাতে সামরিক হস্তক্ষেপে আগ্রহ প্রকাশ করেন নাগরিক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। অপরটিতে সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে ফোনালাপে বিএনপি জোটের আন্দোলন জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলার কথাও বলতে শোনা যায় মান্নাকে।
ওই অডিও ক্লিপের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পর ২৩ ফেব্র“য়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। সরকার উৎখাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দুই-তিনটা লাশ ফেলে দেয়ার’ কথা বলায় ষড়যন্ত্রের দায়ে মান্নাকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। মান্নাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাকে দেখামাত্রই ‘গণধোলাইয়ের’ ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close