¦
খালেদা জিয়ার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিল করে আদালত তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা গ্রেফতারের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আরও দুজনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এ দু’জন হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে হবে। অন্যথায় গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ হাতে পেলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করবেন। তবে খালেদা জিয়া এই গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে রিভিশন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানাতে পারেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
বুধবার রাজধানী ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জামাদার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারের আদেশ দেন। এদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে এলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে খালেদা জিয়ার হাজিরা প্রশ্নে তার পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। কিন্তু আদালত খালেদা জিয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়ে তিনিসহ আদালতে অনুপস্থিত আসামিদের প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পাশাপাশি মামলার অপর আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামী ৪ মার্চ আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওইদিনই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এই একই আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। আদালত আদেশে বলেন, ‘২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। এরপর ৬৩টি দিবস ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়া কেবল ৭ দিন উপস্থিত হয়েছেন। গত তারিখে বলা হয়েছিল খালেদা জিয়ার হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের প্রতি অনাস্থা আবেদন, মানবিক ও ধর্মীয় কারণে এক মাস সময় দেয়া হয়েছিল। তারপরও হাজির না হওয়ায় আজকের সময় আবেদন খারিজ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল।’
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কারণ ব্যাখ্যা করে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া উপস্থিত হতে না পারলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ ধারা মোতাবেক তার পক্ষে কোনো আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। যেমন তারেক রহমান বিদেশে গেছেন অসুস্থতার কথা বলে, তার পক্ষে আইনজীবী আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী প্রতিনিধিত্বও করবে না, আবার তারা আদালতে মামলাও হতে দেবে না। এর মূল কারণটা হচ্ছে সময়ক্ষেপণ করা। এ কারণে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে।’
অ্যাডভোকেট কাজল আরও বলেন, ‘ধরেন আপনি বিদেশ যাবেন, আপনি রাজনৈতিক নেত্রী, আপনি সব সময় আদালতে আসতে পারবেন না। আদালতও বলেছেন, তার (খালেদার) আদালতে আসার এত দরকার কী। কারণ সে এলে অনেক লোকজন আসে। তাকে না এনেও বিচার কাজ চলতে পারে যদি তার পক্ষে কোনো আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু তারা সেটাও করবে না। আবার মামলাও পরিচালনা করবে না। তারা তারেক রহমানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে কিন্তু খালেদার ব্যাপারে পারে না।’
অন্যদিকে আদালতের আদেশ সম্পর্কে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘গ্রেফতারের এই আদেশ বেআইনি। এই মামলাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা। এখানে কোনো অর্থ আত্মসাৎ হয়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এই মামলাটি করা হয়েছে।’ অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আদালতের বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিচারক খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচার করেছেন।’ তবে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও মির্জা আব্বাস।
রাত আটটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা রাজধানীর তিনটি থানার একটিতেও পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার আরিফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিচারকরা গ্রেফতারি পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই পরোয়ানা থানায় পৌঁছানো হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারবেন বলে জানান। কারণ পরোয়ানা পৌঁছানোর দায়িত্ব পুলিশের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত আদালতের কোনো কাগজ পাইনি। তিনি বলেন, আদালত সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানাতেও এ ধরনের আদেশ পৌঁছে দিতে পারেন। গুলশান থানার সেরেস্তা ইনচার্জ এসআই শহীদ বলেন, আমাদের কাছে গ্রেফতারি পরোয়ানা পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট মামলটি ২০০৮ সালে রমনা থানায় দায়ের করা হয়েছিল। সে কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা রমনা থানায় যাওয়ার কথা। মামলা দায়েরের সময় খালেদা জিয়ার ঠিকানা ছিল ক্যান্টনমেন্ট থানার অধীন। কাজেই ওই থানাতেও একটি পরোয়ানা যাবে। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন গুলশানের কার্যালয়ে অবস্থান করায় গুলশান থানাতেও গ্রেফতারি পরোয়ানার একটি কপি যাওয়ার কথা।
দুদকের পিপি মোশারফ হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, ‘গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব ডিসি প্রসিকিউশনের। আমাদের তো পুলিশ নেই। পুলিশের দায়িত্ব এটি। তাই এ ব্যাপারে ডিসি প্রসিকিউশনই ভালো বলতে পারবেন।’
এই দুর্নীতি মামলায় সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বকশিবাজার ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে এদিন ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এরপর আদালতের ধার্য তিনটি তারিখে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে খালেদার পক্ষে সময় চাওয়া হয়। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি আদালত প্রায় এক মাসের জন্য শুনানি মুলতবি করে ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যের দিন ধার্য করেন। বুধবার গ্রেফতারি পরোয়না জারির পর আদালত এ মামলার বাদী ও সাক্ষী দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশীদ সাক্ষ্য দেন।
বুধবার আদালতে বেগম জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া। তাদের সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সাক্ষ্য গ্রহণ চলাবস্থায় বেগম জিয়ার আইনজীবীরা গ্রেফতারের আদেশটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। শুনানি শেষে আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে গ্রেফতারের আদেশ বহাল রাখেন। এ পর্যায়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মামলার আসামি তারেক রহমানের অনুপস্থিতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এ বিষয়ে আদেশ দিতে অনুরোধ করেন। এ সময় কাজল বলেন, তারেক রহমান অসুস্থতার কথা বলে দেশের বাইরে গেছেন। কিন্তু তিনি বিদেশের মাটিতে বহাল তবিয়তে আছেন। সেখানে বসে রাজনীতি করছেন। তাকে আগামী তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে আদালতের কাছে আদেশ চাচ্ছি। আজ আবেদন দিচ্ছি তাই আগামী তারিখে হাজিরের নির্দেশ চাচ্ছি।
এ সময় বেগম জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনি যে আদেশ দিয়েছেন সে বিষয়ে আমরা রিভিশন আবেদন করব। আমরা মৌখিকভাবে বিষয়টি আপনাকে অবগত করছি। তাই আমাদের রিভিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে আবেদন করছি। এরপর আদালত বলেন, ‘আগামী ৪ মার্চ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হল এবং ওই তারিখ তারেক রহমানকে অবশ্যই আদালতে হাজির করতে হবে। যেহেতু গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে আগের আদেশ বহাল সে জন্য আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন অটোমেটিক নামঞ্জুর হয়ে গেছে।’
পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সুপ্রিমকোর্টে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এই আদালতের ওপর আমাদের আস্থা নেই। আমরা আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেছি। আমাদের মামলাটি উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় আছে। তিনি আরও বলেন, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে দীর্ঘ ৫১ দিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন, অভুক্ত আছেন, অসুস্থ আছেন। এসব কারণে তিনি আজ আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। আমরা আবেদনে এসব বিষয় উল্লেখ করেছি। আইনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে আমাদের সিনিয়র আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। আদালতের কাছে আমাদের শেষ আবেদন ছিল- আপনি যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সেটাকে প্রত্যাহার করে নিন। কারণ আজ মামলার শুনানি হয়নি এবং কোনো আসামিই উপস্থিত ছিল না। অন্তত আগামী তারিখ পর্যন্ত এই গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করে নেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন আরও বলেন, এই আদেশ যেটাকে আমরা মনে করি বেআইনি আদেশ। বারবার উনি (এজে মোহাম্মদ আলী) শুনানিতে বলেছেন, এটা বেআইনি আদেশ। এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ও নৈতিকভাবে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। এই আদেশ সঠিক হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করব। কিন্তু আদালত সেটাও নাকচ করে দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রাখলেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্বাস- এই আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব না। সেটা আবার প্রমাণ হয়েছে। দেশের বর্তমান অবস্থায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী অবরুদ্ধ ও আটক অবস্থায় আছেন। তার রাজনৈতিক কার্যালয়ের চারদিকে দলীয় সরকারের বিভিন্ন সংগঠন ঘেরাও করে রেখে তার জীবনের ওপর হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়। এটা বিবেচনাযোগ্য। এটা বিবেচনা করে আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তাও নাকচ করা হয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে যত রকম পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব সেটা নেয়া হবে বলেও জানান এই আইনজীবী।
গত বছরের ১৯ মার্চ দুই দুর্নীতি মামলায় (জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অন্য আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়। আসামিপক্ষের অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের সুপারিশে আইন মন্ত্রণালয় এ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়ের বদলে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদারকে। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ।
খালেদা ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অপর পাঁচ আসামি হচ্ছেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। এদের মধ্যে কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল এবং শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে ছিলেন। মামলার অপর আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে আছেন। অপর দুই আসামি ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতিমদের সহায়তার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আÍসাৎ করার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন একই তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলাটির অভিযোগে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ মামলায় অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’ও নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলার আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী শুরু থেকেই পলাতক।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close