¦
মান্না ১০ দিনের রিমান্ডে

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সেনাবাহিনীকে উসকানি দেয়ার মামলায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার গুলশান থানা পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তা মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মান্নার পক্ষে করা জামিন আবেদন নাকচ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় মান্নাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মান্নার পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোররাত ৩টার দিকে বনানীর এক বাসা থেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন। প্রায় ২০ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মাহমুদুর রহমান মান্নাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয় মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে। বুধবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতের উদ্দেশে নেয়া হয় মান্নাকে বহনকারী একটি প্রিজনভ্যান।
আদালত সূত্র জানায়, বেলা ৩টার দিকে মান্নাকে বহনকারী প্রিজনভ্যানটি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। সেখানে থাকা নাগরিক ঐক্যের কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি। ওই সময় কর্মীরা ‘মান্না ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে, জেলের তালা ভাঙবো, মান্না ভাইকে আনবো, মুক্তি চাই মুক্তি চাই, মান্না ভাইয়ের মুক্তি চাই’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। মান্না হাত নেড়ে তাদের শান্ত থাকতে বলেন। আদালতে নেয়ার সময় মান্নার মুখে হাসি লেগেই ছিল। তিনি বিচলিত ছিলেন না। তিনি আদালতে পৌঁছার আগেই তার স্ত্রী মেহের নিগার, মেয়ে নীলম মান্না, ছেলে নিলয় মান্না, মেজো ভাই সাংবাদিক মোবায়দুর রহমান ও তার স্ত্রী বেগম সুলতানা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।
মাহমদুর রহমান মান্নাকে সিএমএম কোর্টের দ্বিতীয় তলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ১০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান এসআই আবদুল বাকির। তার করা রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সরকারকে অবৈধ উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করার বিষয়ে টেলিফোন ভাইবারের মাধ্যমে কথোপকথন গণমাধমে প্রকাশিত হয়েছে। মান্না সরকারকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উৎখাতের পরিকল্পনা করেছেন। মান্নার সঙ্গে সহযোগী প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারী আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও তাদের গ্রেফতারের জন্য এবং ষড়যন্ত্রের ধরন উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
রিমান্ড শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি শাহ আলম তালুকদার ও প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারী কমিশনার মিরাস উদ্দিন। মহানগর পিপি আদালতকে বলেন, অভিযুক্ত আসামি বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উৎসাহী করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি অপরপ্রান্তে যে ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন তার নাম-ঠিকানা এখানও জানা যায়নি। তাই তার নাম-ঠিকানা জানার জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন।
রিমান্ড শুনানিতে মান্নার পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন আইনজীবী খন্দকার আবদুল মান্নান, সানাউল্লাহ মিয়া, মোহসীন মিয়া, শাহজামান তুহিন হাওলাদার। শুনানিতে মান্নার আইনজীবীরা বলেন, তিনি প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটা তিনি (মান্না) নিজেই স্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করে এই মামলা সৃজন করা হয়েছে। আসল কারণ হল, তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশেনের নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণ করার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করায় সরকার ভয়ে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
‘আমাকে রিমান্ডে নিয়ে কী হবে’ : আইনজীবীদের বক্তব্য শেষে মান্না নিজে কিছু বলার অনুমতি চান আদালতের কাছে। আদালত অনুমতি দিলে তিনি বলেন, ‘আমি আইনজীবী নই, তাই উনাদের মতো গুছিয়ে কথা বলতে পারব না। ওনারা রিমান্ড চেয়েছেন, যদি রিমান্ড চাওয়া এই কারণে হয়, মামলার তদন্তের স্বার্থে; তবে আমি বলব, আমি ওইদিন অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, শুধু ওই দু’জনের সঙ্গে নয়। আমি যে কথা বলেছি সেটি কাটাছেঁড়া করে প্রকাশ করা হয়েছে। হ্যাঁ, আমি বলেছি, সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কেউ যদি কথা বলতে চায়; আমি বলতে পারি। এটা দোষের কী? রিমান্ডে দিয়ে কী হবে। আমি জানি না; যারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তারাইবা বিষয়টি বুঝবে কিনা? আমি গণতান্ত্রিক অন্দোলনে বিশ্বাস করি। পেট্রলবোমার বিপক্ষে আমি কথা বলেছি। আমি বলেছি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন হওয়া উচিত, নাশকতা হওয়া উচিত নয়।’ আমি বলেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গণতান্ত্রিক অন্দোলন শুরু করতে। বলেছি ছাত্রদের সংঘটিত করতে। লাশ ফেলার কথা কোথাও বলিনি।’ তিনি আরও বলেন, গত বছর ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে; তা ছিল একটি বিতর্কিত অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কোথাও এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিবাদে চিৎকার করে ওঠেন। তারা বক্তব্য বাতিলের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চান। আদালতের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফের বলা শুরু করেন মান্না। তিনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা অন্দোলন করছি। আমি অসুস্থ। প্রয়োজন হলে তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। আমি বিচার প্রক্রিয়া এড়াতে চাই না।’ দীর্ঘ শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান জামিন আবেদন বাতিল করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দু’পক্ষের আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া : শুনানি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুল মান্নান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের দেয়া আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়ে মান্নার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন। তিনি আরও বলেন, ‘দণ্ডবিধির ১৩১ ধারায় মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে সেনা বিদ্রোহ উসসে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা আদালতকে তার রিমান্ড বাতিল ও মাহমুদুর রহমান মান্না অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা দেয়ার আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত রিমান্ড বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে তাকে চিকিৎসা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। প্রবাসী একজন বাংলাদেশীর সঙ্গে তার (মান্না) কথোপকথনে কোথাও সেনাবাহিনীকে উসকে দেয়ার কথা বলেননি।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘গুলশান থানার একটি মামলায় আদালত মাহমুদুর রহমান মান্নার ১০ দিন রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তিনি টেলিফোন ভাইবারের মাধ্যমে কথা বলে সেনাবাহিনীকে একটি নির্বাচিত, গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়েছেন। বর্তমানে যে সহিংসতা চলছে, সেটা বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। এটা জঘন্য অপরাধ। আমরা রিমান্ড বাতিলের আবেদনের বিরোধিতা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না আদালতে প্রবাসী একজনের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে আলাপচারিতার কিছু কিছু প্রসঙ্গ তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি যদি সেসব কথা না বলে থাকেন, তবে অব্যাহতি পাবেন।’
ডিবি কার্যালয়ে ১৩ ঘণ্টা : মাহমুদুর রহমান মান্নাকে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে কালো কাচে ঘেরা একটি গাড়িতে করে ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে তাকে আদালতে হাজির
করার উদ্দেশ্যে বের করা হয়েছে। আদালতে নেয়ার আগে তিনি ১৩ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি ঘুমিয়ে, পত্রিকা পড়ে ও ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কাটিয়েছেন। তিনি নফল নামাজ ও ফজরের নামাজও আদায় করেছেন বলে ডিবির একটি সূত্রে জানা গেছে। তিনি সকালের নাস্তা করেছেন রুটি, সবজি ও মাংস দিয়ে। দুপুরের খাবারে ছিল ডাল ও মাছ।
ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, মান্নাকে বুধবার সকালে প্রাথমিক কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, প্রবাসী ওই ব্যক্তি ছিলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। মান্না আরও বলেন, ইউটিউবে তার যে বক্তব্য এসেছে সেটা তারই ছিল। বক্তব্যটি এডিট করা এবং কিছুটা বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর শেষে বেলা সাড়ে ৫টার দিকে পুনরায় মান্নাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
ডিবির ব্রিফিং : মান্না ডিবি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক অনির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার মান্নার বিরুদ্ধে সেনাবিদ্রোহে উসকানি ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। মান্নাকে কখন আটক করা হয়েছে এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ধানমণ্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে র‌্যাব-২ তাকে আটক করেছে।’ জিজ্ঞাসাবাদে কোনো বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, ‘মামলায় যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে তার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ আইসিটি আইনে মামলা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি তদন্তকারী কর্মকর্তার বিষয়। তদন্তে যদি মনে হয় তবে এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা চিন্তা করবেন।’ তিনি দেশের বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছেন- এ কারণে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হতে পারে বলে মনিরুল ইসলাম জানান।
এজহারে যা আছে : গুলশান থানার এসআই শেখ সোহেল রানা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে গুলশান থানায় মান্নার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৩২। পেনাল কোডের ১৩১ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এ মামলার এজহারে বলা হয়েছে, ‘নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না কর্তৃক জনৈক প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে অবৈধ উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করার বিষয়ে টেলিফোন ভাইবারের মাধ্যমে কথা বলেন। বিষয়টি ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দেশ টিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদে এবং পরদিন দৈনিক ইত্তেফাক, ভোরের কাগজ, যুগান্তরসহ বিভিন্ন প্রত্রিকায় প্রকাশিত ‘জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী মান্না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং ১৪৫৯) লিপিবদ্ধ করে আমাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আমি নির্দেশিত হয়ে এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করি। এতে প্রকাশ পায় আসামি মাহমুদুর রহমান মান্নান (৬৪), পিতা মরহুম আফসার উদ্দিন আহমেদ, গ্রাম চকলোকমান, থানা ও জেলা বগুড়া, বর্তমানে ফ্ল্যাট নং এ/১, বাড়ি নং ১৯, রোড নং ১০২, গুলশান-২, ঢাকা। তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার আগে যে কোনো সময় তার বর্তমান ঠিকানার বাসা থেকে ভাইবারের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা প্রবাসী বাংলাদেশীর সঙ্গে কথা বলেন। এতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের পেশাগত কর্তব্য কাজ থেকে বিচ্যুত করে বিপদগামী করার উদ্যোগ নেন। তারা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে অবৈধ উপায়ে উৎখাতের জন্য প্ররোচিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। আসামি মান্না ও অজ্ঞাত প্রবাসী ভাইবার কথোপকথনের মাধমে সরকাকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ও বর্তমানে কর্মরত সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা টেলিফোন কথোপকথনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চলমান সহিংস আন্দোলন, জান-মালের ক্ষতিসাধন ও সরকার পতন সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা করেন। ওই আলাপচারিতায় মান্না সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উৎখাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা করেন।’
এজহারে আরও বলা হয়েছে, ‘২৩ ও ২৪ ফেব্র“য়ারি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত অডিও টেপের কথোপকথনে অজ্ঞাতনামা প্রবাসী আসামি বলে যে, ‘আপনি যদি কথাবর্তা না বলেন তাহলে কীভাবে বুঝবেন ভাইয়া?’ কথাবার্তা হলে আপনার কিছু একটা তাদের কিছু একটা একটু দেখেন। ইউ হ্যাভ সিন দ্য ওয়ার্ল্ড বাট দেশে পরিবর্তন আনতে চাইলে আমার মনে হয় আপনার একটু কথা বলা দরকার।’ প্রবাসী আসামি আরও বলেন, ‘আপনাকে জিওসি লেভেল থেকে কল করাবো না আরেকটু সিনিয়র।’ জবাবে মান্না বলেন, ‘জুনিয়র-সিনিয়র তো একটা ব্যাপার আছে, তার চাইতে বড় কথা হচ্ছে ইফেকটিভ যারা। অ্যান্ড হু আন্ডারস্ট্যান্ড হু নোজ, এই রকম হলে ভালো। মানে যার সাথে শেয়ার করা যাবে। যিনি আমাকে এনলাইটেন করতে পারবেন। মে বি আমিও তাকে বুঝতে পারবো, বুঝাতে পারবো।’ অজ্ঞাতনামা প্রবাসী আসামি বিগত ওয়ান ইলেভেন এর ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত বলে টেলিফোন আলাপে প্রকাশ করে। আসামি মান্না সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে অজ্ঞাতনামা প্রবাসী তাকে সেনাবাহিনীর প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মরত লে. জেনারেলসহ এমনকি সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করছেন বলে জানায়। প্রবাসী আসামি সেনাবাহিনীর ১৯ জন সিনিয়র কর্মকর্তার মধ্যে ১২ জন সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন বলে জানায়। সে আসামি মান্নাকে ‘ইউ উইল রিসিভ এ কল বা টুমোরো টুয়েলভ’ বলে জানায়। মান্না ও অজ্ঞাত প্রবাসী আসামি সরকারে উৎখাত করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে উসকে দেয়া তথা সেনাবাহিনীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকার উৎখাতে ব্যবহার করার জন্য কর্মপরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আসামি মান্না কথোপকথনের বিষয়টি তাহারা নিজের বলে স্বীকার করেছেন। যা ২৪ ফেব্র“য়ারি দৈনিক প্রথম আলো, মানবকণ্ঠসহ অন্যান্য পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। আসামি মান্না ও অজ্ঞাত প্রবাসী আসামির এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দ্বারা সাংবাবিধানিকভাবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার উদ্দেশ্য আইনানুগ কর্তব্য থেকে বিপদগামী করার উদ্যোগ নিয়ে তারা পেনাল কোডের ১৩১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’
কী আছে ১৩১ ধারায় : সশস্ত্র বাহিনীতে বিদ্রোহ সংঘটনে কেউ উসকানি দিলে বা এ ধরনের কোনো কর্মকর্তা, নাবিক বা এয়ারম্যানকে তার আনুগত্য বা দায়িত্ব থেকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করলে তার শাস্তির জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধবিষয়ক দণ্ডবিধির সপ্তম অনুচ্ছেদের ১৩১ ধারা প্রযোজ্য হবে। এ ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close