¦
দায়মুক্তির সুযোগে নির্যাতন চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বাংলাদেশে এক ডজনেরও বেশি মানুষকে গুম করা হয়েছে। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা অব্যাহত হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নারীর ওপর সহিংসতায় বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দায়মুক্তির সুযোগে নির্যাতন চালাচ্ছে পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তা বাহিনী। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছে। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে কারখানার শ্রমিকরা বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত অ্যামনেস্টির ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৬০টি দেশের ২০১৪-১৫ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তবে ২০১৩ সালের কিছু মানবাধিকার ইস্যুও এতে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে ৬টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হল- জোরপূর্বক গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারীর ওপর সহিংসতা, অত্যাচার ও অন্যান্য নির্যাতন, শ্রমিক অধিকার ও মৃত্যুদণ্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট সংখ্যা না জানা গেলেও বাংলাদেশে আনুমানিক ৮০টির বেশি গুমের ঘটনা ঘটেছে। তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে গুম হওয়া ২০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৬ জন তাদের পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছে। তারা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। বাকি ৫ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে গুম ও হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৭ র‌্যাব সদস্যকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের পর ছিল এ ধরনের ঘটনা প্রথম। তবে দেশের সাধারণ মানুষের চাপ কমলে, সরকার অভিযুক্ত র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিচার প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতে পারে বলেও উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার সমালোচনা করে বলা হয়, এর মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে খর্ব করা হচ্ছে। এ ধারার আওতায় যারা আইন লংঘন করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সাংবাদিকসহ ডজনেরও বেশি গণমাধ্যম কর্মী অভিযোগে বলেছেন, কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করায় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে তারা হুমকি পেয়েছেন। এগুলো ফোন কল, এসএমএসের মাধ্যমে তাদের সম্পাদকদের কাছে সরাসরি পাঠানো হয়েছে। বহু সাংবাদিক ও টক-শোতে অংশ নেয়া ব্যক্তিত্ব বলেছেন, এসব কারণে তারা নিজেদের অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে মতামত প্রকাশে নিজেরাই সেন্সরশিপের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিবেদনে নারীর ওপর সহিংসতা ও মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বরাত দিয়ে বলা হয়, শুধু ২০১৪ সালের অক্টোবরে কমপক্ষে ৪২৩ মহিলা ও তরুণী নানামুখী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। একশর বেশি নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। যাদের ১১ জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অত্যাচার ও অন্যান্য নির্যাতন প্রসঙ্গে বলা হয়, ২০১৪ সালে পুলিশের হেফাজতে কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে পুলিশ নিয়মিত নিরাপত্তা হেফাজতে বন্দিদের নির্যাতন করছে।
মারধর, সিলিং থেকে ঝুলিয়ে রাখা, গোপণাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন্দিদের পায়ে গুলি করার মতো পদ্ধতিতে নির্যাতন চালাচ্ছে পুলিশ।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে শ্রমিক অধিকার প্রসঙ্গে বলা হয়, কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মান এবং অন্যান্য কাজের পরিবেশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিকরা। রানা প্লাজা ধসের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, ওই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে বলা হয়, আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়া অব্যাহত রেখেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আপিলের কোনো সুযোগ না দিয়ে অন্তত একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close