¦

এইমাত্র পাওয়া

  • অনলাইন নিউজ পোর্টার জাস্ট নিউজ ২৪.কম বন্ধ
বিএনপিকে ছাড় দেবে না সরকার

আবদুল্লাহ আল মামুন | প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বিএনপিকে এক বিন্দুও ছাড় দেবে না সরকার। তাই বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চূড়ান্ত পরিণতির কথা ভাবা হচ্ছে। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, গণতন্ত্রে কেউ রাজা-রানী নন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আইনের আওতার বাইরে নন। অন্যায়-অশান্তি, অপরাধ করলে বিচার হবে, জেল খাটতে হবে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের বিচারের বাইরে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে বলে হুশিয়ারি ব্যক্ত করেন তিনি। এ দিন খুলনায় এক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়াকে সারা জীবন জেলের মধ্যে কাটাতে হবে। বুধবার সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এক অনুষ্ঠানে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার করা হবে। বৃহস্পতিবার গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করাই এখন সরকারের কাজ।
এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হুশিয়ারি ব্যক্ত করে বলেন, প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, চলমান নাশকতার অপরাধ প্রচলিত আইনে মৃত্যুদণ্ডের শামিল। এর আগে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে একই বিষয়ের অবতারণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যদি মানুষ হত্যার অপরাধে বিএনপি নেত্রীর ফাঁসির দণ্ড হয়, সেটাও কার্যকর করবে সরকার। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের একাধিক মন্ত্রীর বক্তব্যে বর্তমান অবস্থা নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারের আর পেছনে যাওয়ার পথ নেই। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের ভেতর ও বাইরের প্রবল চাপ সামলাতে হচ্ছে সরকারকে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়া যদি অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে রাখেন, তাহলে তাকে গ্রেফতারে বাধ্য হবে সরকার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করেছে সরকার। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন তার সহকারী অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে এ মধ্যস্থতার জন্য মনোনীত করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দুই নেত্রীর সহযোগিতা কামনা করা হয়। কিন্তু জাতিসংঘের এ উদ্যোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে সরকার। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি জানান, সরকার জাতিসংঘের চিঠির জবাব দেবে। এর আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক উপকমিটির প্রতিনিধিরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপি মানুষ হত্যা ও নাশকতা বন্ধ না করলে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় তারা যাবে না। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা সরকারকে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার অনুরোধ করেন।
তারপরও সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী, যাদের নাশকতাকার সঙ্গে যুক্ত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে- তাদের পাকড়াও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ বলতে গেলে প্রায় বন্ধ রয়েছে। খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নেতাকর্মীর খাবার যাচ্ছে না।
তবে সরকারের ভেতরে উদারপন্থী বলে পরিচিতরা এ পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ‘এক্সিট’ দেয়ার পক্ষে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণ করতে চান।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close