¦
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মনে করে, বাংলাদেশের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে তৈরি আছে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সংঘাতের কোনো স্থান নেই। বিরোধীদের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের ফরেন প্রেস সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল এসব কথা বলেন। রয়টার্স।
প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সহিংস জঙ্গিবাদ প্রতিহত করার বিষয়ে গত সপ্তাহে একটি বৈশ্বিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই কনফারেন্সে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অনেকগুলো দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই কনফারেন্সে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সুযোগ, নাগরিক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এতে দেশটির রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে আলোচনায় এসব নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে সংঘাতের কোনো স্থান নেই। একই সঙ্গে এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, সরকার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেবে। এজন্য প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। আর গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো হচ্ছে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বুধবার বিরোধী নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিশা দেশাই বলেন, প্রথমত আমি আরোপিত (খালেদা জিয়ার ওপর) অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো জল্পনা-কল্পনা করতে চাই না। আমরা প্রত্যাশা করি, কোনো প্রকার অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সক্ষম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা নিয়ে আমাদের ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের সহিংসতা পরিহার করা প্রয়োজন। একই ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সক্রিয় থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা।
নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারবে। বিরাজমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সহিংসতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার ও বিরোধী নেতারা এসব বিষয় শনাক্ত করতে পারবে। রাজনৈতিক অচলাবস্থার উত্তরণ ঘটাবে। সব রাজনৈতিক পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করতে হবে বলে আমরা আমাদের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছি। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি এবং বিরোধী দলের সক্রিয় থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মাহমুদুর রহমান মান্নার গ্রেফতার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। এসব বিষয়ে মন্তব্য করার মতো আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। তবে আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক একটি দেশে নাগরিক সমাজের জন্য স্পেস ও গণমাধ্যমের জন্য মৌলিক স্বাধীনতা থাকা খুবই জরুরি। আমরা আশা করি, তেমনটাই হবে।
২০০১ থেকে ০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সরকারও খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার কোনো অভিপ্রায় সরকারের নেই। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান চাইলে বিএনপিকে সহিসংসতা বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এভাবে সংঘর্ষ চললে আলোচনা সম্ভব নয়।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close