¦
বন্ধুবেশে দেড় ঘণ্টা অনুসরণ করেছিল ঘাতকরা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৫

অভিজিৎকে হত্যার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বন্ধুবেশে অনুসরণ করেছিল ঘাতকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বইমেলায় প্রবেশ থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিজিৎ ও তার স্ত্রীর আশপাশেই দেখা গেছে ঘাতক চক্রের সন্দেহভাজন দুই সদস্যকে। বিভিন্ন বইয়ের স্টলে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতেও দেখা গেছে এই দুই ব্যক্তিকে। ঘটনাস্থল টিএসসির অদূরে বসানো সিসিটিভিতে ধারণকৃত ছবি থেকে পাওয়া গেছে এমন দৃশ্য। তবে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত থেকেই সন্দেহভাজন দু’জনকে ভিডিও ফুটেজে আর দেখা যায়নি।
সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজটি সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে র‌্যাব ও ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ)। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী ডা. রাফিদা আহমেদ বন্যাকে গল্পের ছলে চায়ের দোকানে নিয়ে যায়। ওই চায়ের দোকানেই অপেক্ষা করছিল কিলিং মিশনের মূল সদস্যরা।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, বিকালে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে কয়েক দফায় একটি মোবাইল ফোন থেকে কল আসে অভিজিৎ রায়ের ফোনে। ঘটনার পর থেকে ওই মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। এ থেকে গোয়েন্দাদের ধারণা, বন্ধুবেশেই ঘাতকরা অভিজিৎকে অনুসরণ করছিল। কিলিং মিশন শেষে তারা পালিয়ে যায়। অভিজিৎ রায়ের মোবাইল ফোনের কললিস্টও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রগতিশীল লেখক ড. অভিজিৎ রায়কে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি অভিজিতের হত্যাকাণ্ডকে ‘কাপুরুষতা ও ভয়ংকর বর্বরতা’ বলেও আখ্যা দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চাইলে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ প্রসঙ্গে মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া যুগান্তরকে বলেছেন, তদন্তে সহায়তার জন্য কাউকে আহ্বান জানানো হয়নি। তবে যেহেতু অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সে হিসেবে তারা যদি তদন্তে আগ্রহী হয় তবে ডিএমপি স্বাগত জানাবে। মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান জানান, ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে। এদিকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআই অভিজিতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবার চাইলে তার হত্যার বিষয়ে তদন্ত করতে প্রস্তুত আছে। অভিজিতের বাবা তাদের বলেছেন তিনি সুষ্ঠু তদন্ত চান। বিকালে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দলও তাদের বাসায় যান। অভিজিৎ হত্যা মামলাটির তদন্ত ভার শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশে লেখক-সাংবাদিক আক্রান্ত হলেও সেসব ঘটনার বিচার না হওয়াই অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পথ করে দিয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
অভিজিতের ঘাতকদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শনিবারও বিভিন্ন সংগঠন মিছিল-সমাবেশ করেছে। এসব সমাবেশ থেকে ঘাতকদের গ্রেফতারের জন্য ৪ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশকরা শনিবার বিকাল ৪টা থেকে ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রগতিশীল লেখক ড. অভিজিৎ রায় ৩-৪ বছর আগে থেকেই উগ্র মৌলবাদীদের ‘হিটলিস্টে’ ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। তবে প্রবাসে থাকায় উগ্রপন্থীদের সে টার্গেট পূরণ হয়নি। এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন খুন হওয়ার পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আট সদস্য (নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির ৫ ছাত্রসহ) গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে গোয়েন্দারা যে ৩০ জনের হিটলিস্ট পায় তার এক নম্বরে ছিলেন অভিজিৎ রায়। বিষয়টি অভিজিৎ এবং তার পরিবারের সদস্যসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও জানতেন।
মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় যুগান্তরকে বলেন, অভিজিৎ রায় দেশে ফিরেছেন সে তথ্য তাদের কাছে ছিল না। তিনিও তাদের কাছে এ তথ্য জানাননি। তার দেশে ফেরার বিষয়টি জানা থাকলে পুলিশ অবশ্যই তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করত।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নাম আলোচনায় আসে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার পর। ওই হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা জড়িত ছিল। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হন নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপ, মাকসুদুল হাসান ওরফে অনিক, এহসান রেজা ওরফে রুম্মান, নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ ও নাফিস ইমতিয়াজ। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ধর্মের অবমাননা করে ব্লগে লেখালেখির কারণে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত বড় ভাই রেদোয়ানুল আল আজাদ ওরফে রানার পরিকল্পনায় ও নেতৃত্বে তারা রাজীবকে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেন।
ব্লগার রাজীব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীকে ২০১৩ সালের আগস্টে গ্রেফতার করে। তাকে বরগুনা থেকে ৩১ জন অনুসারীসহ গ্রেফতার করা হয়। তিনি প্রথম ২০০৪ সালে রাজধানীর হাজারীবাগে রিসার্চ সেন্টার ফর ইউনিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরসিইউডি) নামে একটি এনজিও’র অফিসের আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করেন। ওই সময় জসীম উদ্দিনের কাছ থেকে তাদের পরবর্তী টার্গেটের অন্তত ৩০ জনের একটি তালিকা তখন উদ্ধার করে গোয়েন্দারা। ওই তালিকায় এক নম্বরে নাম ছিল অভিজিতের।
এদিকে জসীম উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার পর ফারাবি শফিউর রহমান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দয়িত্ব নেন। ২০১৪ সালের মার্চে এই ফারাবী অনলাইনে বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান রকমারি ডটকমকে অভিজিৎ রায়ের বই না বিক্রি করার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তাদের ওয়েবসাইট থেকে অভিজিৎ রায়ের বই তুলে নেয়ার জন্য বলে। হুমকির মুখে প্রতিষ্ঠানটি ওই সময় তাদের ওয়েবসাইট থেকে অভিজিৎ রায়ের বই তুলে নিতে বাধ্য হয়। ফারাবী ফেসবুক পোস্টেও বেশ কয়েকদফা অভিজিৎ রায়কে হত্যার হুমকি দেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ফারাবী ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের জানাজা পড়ানোয় ইমামকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও কিছুদিনের মধ্যেই তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে ফেরারি জীবনযাপন করছেন।
খুনের ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো তথ্য নেই কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। যদিও তারা প্রথম থেকেই বলে আসছে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাদের ধারণা। কিন্তু নিশ্চিত করে কেউ এখনও কিছুই বলতে পারছে না। অথচ ঘটনাস্থল টিএসসি মোড়ে পুলিশি ব্যারিকেডের কয়েক গজ দূরেই বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নৃশংসভাবে খুন হন অভিজিৎ রায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, ‘খুনিরা অভিজিৎকে টার্গেটে পরিণত করতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি থাকে না এমন স্থানকে বেছে নিয়েছে।’
ঘটনাস্থল টিএসসি মোড় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবহুল স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। শাহবাগ থানা থেকেও টিএসসি মোড়ের দূরত্ব ২৫-৩০ গজ। এর পরও খুনিরা প্রকাশ্যে খুন করল কীভাবে, আর খুন করে পালিয়েই গেল কীভাবে- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদকে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর একইভাবে আঘাত করা হয়েছিল। এর পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একইভাবে ব্লগার রাজীবকে ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসার সামনে হত্যা করা হয়েছিল। দুটি ঘটনায়ই জঙ্গিরা জড়িত বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এ দম্পতি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশে আসেন। কয়েক দিনের মধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কথা ছিল। অভিজিৎ রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চের সমন্বয়ক অধ্যাপক অজয় রায়ের বড় ছেলে। ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই অজ্ঞাত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে অজয় রায়কে হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার সকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে অজয় রায়কে হুমকি দেয়া হয়।
জাতিসংঘের নিন্দা, তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব : ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি জানায়, বাংলাদেশ চাইলে এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। অপরদিকে জাতিসংঘও এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।
শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি অভিজিতের হত্যাকাণ্ডকে ‘কাপুরুষতা ও ভয়ঙ্কর বর্বরতা’ বলেও আখ্যা দেন।
মুখপাত্র বলেন, এটা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও ধর্মনিরপেক্ষতার সার্বজনীন নীতি, যা বাংলাদেশের সংবিধবানে সুরক্ষিত ও দেশটির গর্বিত ঐতিহ্য তার ওপর কাপুরুষোচিত হামলা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র আরও বলেন, অভিজিৎ ছিলেন একজন সাংবাদিক, একজন মানবতাবাদী, একজন স্বামী ও একজন বন্ধু এবং আমরা তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন প্রকৌশলী অভিজিৎ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।
ব্যক্তিগত কর্মজীবনের পাশাপাশি অভিজিৎ সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী একজন ব্লগার ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক হিসেবে পরিচিত।
অপরদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফানে ডুজারিক নিয়মিত ব্রিফিংকালে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের মানবাধিকার সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এ বিষয়ে অবশ্যই নিন্দা জানাবেন।’
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close