¦
প্রস্তাব নাকচ করল ইসি

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৫

তিন সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলে সময় বৃদ্ধিসহ ‘শত নাগরিকের’ ৬ দফা প্রস্তাব কার্যত নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপিপন্থী এ সংগঠনের প্রতিনিধিরা বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছয়টি প্রস্তাব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়েই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কারাবন্দি ও আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, কেউ আত্মগোপনে থাকলে আমরা কিভাবে খুঁজে বের করব।
‘শত নাগরিক’ সংগঠনের আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল গতকাল সিইসির সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে। এ সময় নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে যারা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার ও পলাতক তাদের প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এদের জামিনের ব্যবস্থা করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে সিইসিকে অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খুলে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে সিইসির কাছে প্রস্তাব দেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। কমিশন সচিবালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ এসব কথা বলেন।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। খালেদা জিয়া তাকে জানিয়েছেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন। নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়াকে
ইতিবাচক মনে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছয় দফা নিয়ে সিইসির জবাব প্রসঙ্গে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি সিইসি। তবে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তার বক্তব্য ইতিবাচক মনে হয়েছে। সাবেক ভিসি বলেন, গাজীপুরসহ অন্য সিটি কর্পোরেশনগুলোর মতো ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন সিইসি। তারা দাবি করেন, বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে ইসিতে আসেননি। দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে গণতন্ত্রের স্বার্থে সবার পক্ষে কথা বলতে এসেছেন।
শত নাগরিকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় কমিশন সচিবালয় ছাড়ার আগে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে সময় না বাড়ানোর ঈঙ্গিত দিয়ে বলেন, এবার সিটি নির্বাচনের তফসিলে যথেষ্ট সময় দেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক সাড়া পড়ছে। দু’তিন দিন সময় বাড়ানোর প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন তো হঠাৎ করে হয়নি। ১৮ মার্চ তফসিল দিয়েছি। মনোনয়ন দাখিলের জন্য তফসিলে ১১ দিন সময় দেয়া হয়েছে। ভোটের জন্য ৪০ দিনের বেশি সময় রেখেছি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তিন সিটিতে মেয়র-কাউন্সিলর পদে অনেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছে। সবাই যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন। সাধারণত মনোনয়নপত্র দাখিলে ৭-৮ দিন সময় দেয়া হয়, আমরা ১০ দিন দিয়েছি। শুক্র ও শনিবার নির্বাচনী এলাকায় তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছি। ওই সময়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা।
জেলে ও আত্মগোপনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেয়ার যে দাবি শত নাগরিকের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন সে বিষয়ে সিইসি বলেন, কেউ আত্মগোপনে থাকলে আমরা কিভাবে বের করব। তবে সুষ্ঠু পরিবেশে সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি তাদের বলেছি, অতীতে আমরা যেভাবে সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন করেছি, এবারও একইভাবে সুষ্ঠু ভোট হবে। এ কথা বলেই আর কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে চলে যান সিইসি।
শত নাগরিকের প্রতিনিধিরা সিইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এগুলো হচ্ছে- ১. ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করা। গ্রেফতার এড়াতে যারা গা ঢাকা দিয়ে আছেন তারা যাতে প্রকাশ্যে ও মুক্ত অবস্থায় এবং নিরাপদে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারে এক্ষত্রে ইসিকে ভূমিকা রাখার দাবি। ২. প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকলে কিংবা গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে থাকলে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে তার ব্যবস্থা করা। ৩. সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের বিশেষ সুবিধা দিতে অন্য প্রার্থী কিংবা তাদের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত নেতাকর্মীদের গা ঢাকা দিতে বাধ্য করার প্রশাসনিক অপপ্রয়াস রোধে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। ৪. অস্ত্র কিংবা পেশিশক্তি প্রয়োগ কার্যকরভাবে রোধ করার মাধ্যমে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কি ব্যবস্থা নেবে তা স্পষ্ট করা। ৫. নির্বাচনী প্রচারকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে তাদের দায়িত্ব পালনে কমিশনের ভূমিকা নিশ্চিত করা। বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খুলে দেয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক অপসারণ বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ। ৬.সময়ের স্বল্পতা বিবেচনায় নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় দুই-তিন দিন বৃদ্ধি করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত ইসিতে বৈঠক চলে। এতে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম অংশ নেন। শত নাগরিকের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন বৈঠকে অংশ নেন। বিএনপিপন্থী বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠকের আগে কমিশনারদের সঙ্গে বসেন সিইসি।
বিএনপির টানা অবরোধ সঙ্গে হরতাল কর্মসূচির মধ্যে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবে বুধবার বিএনপির কয়েক নেতা মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেন। একই দিন বিএনপি সমর্থক শত নাগরিক সংগঠনের ছয়জন সিইসির সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে বৈঠক করেন। প্রসঙ্গত গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি। ওই নির্বাচনের পর পরই স্থানীয় সরকারভুক্ত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি নেতারা।
ইসিকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ মেয়র প্রার্থী হেলেনার : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হেলেনা জাহাঙ্গীর বুধবার কমিশনে গিয়ে আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর হতে সিইসিকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক প্রার্থী নির্বাচন আচরণবিধি লংঘনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও অনেক মেয়র প্রার্থী দলীয় পরিচয় ব্যবহার করছেন, যা আচরণবিধির লংঘন। ওই সময়ে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বৈঠকে থাকায় তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) একেএম মাজহারুল ইসলাম ওই চিঠি গ্রহণ করেন।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close