¦
মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ৪৪ বছর পর

উবায়দুল্লাহ বাদল | প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৫

বরিশালের বানারীপাড়ার মো. ইউসুফ আলী মিয়া। তার দাবি তিনি মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী। আর এই সুবাদে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এ পরিচয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন সরকারি চাকরিও। এই মুহূর্তে তিনি বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার। অথচ মুজিবনগর সরকার গঠনের সময় তার বয়স ছিল ৬ বছর ৪ মাস ১১ দিন। ওই সময়ের ছোট্ট শিশুটি কিভাবে বরিশাল থেকে মেহেরপুর গিয়ে মুজিবনগর সরকারের অধীনে চাকরি করলেন- বিষয়টি তদন্ত করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বেনীলাল দাশগুপ্তসহ আট মুক্তিযোদ্ধা।
অভিযোগপত্রে তারা বলেন, ইউসুফ আলী মিয়া ১৯৮১ সালে বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইন্সটিটিউশনের (পাইলট) বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার জন্ম ১৯৬৫ সালের ২৮ জানুয়ারি। মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী কোটায় চাকরিতে ঢুকে সে এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। নামে-বেনামে রয়েছে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ। ঢাকা, বরিশাল ও বানারীপাড়ায় রয়েছে তার একাধিক বাড়ি ও প্লট। দেড় কোটি টাকা খরচ করে তিনি নির্মাণ করছেন বিশাল জাহাজ। সাবরেজিস্ট্রার পদে চাকরির আগে তিনি বানারীপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সব অভিযোগই অস্বীকার করে ইউসুফ আলী মিয়া মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, সত্যিকারই তিনি মুজিবনগর সরকারের স্টাফ। সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার বয়স ৪/৫ বছর কম দেখানো হয়েছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে আমাদের চাকরি দেয়। এ নিয়ে মামলা হলে রায় আমার পক্ষে এসেছে। সরকার আপিলও করেছে। কাজেই এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে কোনো লাভ নেই। আর আমার মতো একজন কর্মচারীর জন্য কি লোকজন টাকার বস্তা নিয়ে বসে থাকে যে, আমি কোটি কোটি টাকার মালিক হব?
শুধু ইউসুফ আলী মিয়াই নন, তার মতো এমন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা)। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রণয়ন করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা।
গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অসংখ্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ছে স্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বুধবার যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এবং তাদের সনদ বাতিল করা হবে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ৪৪ হাজার এবং গত ছয় বছরে সাড়ে ১১ হাজার মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এদেও বেশির ভাগই ভুয়া। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ছড়াছড়ি বন্ধে আবারও নতুন করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যে সনদ দেয়া হয়েছে তা সাময়িক সনদ। শিগগিরই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী চূড়ান্ত সনদ দেয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল আইডি কার্ডও দেয়া হবে, যা নকল করা সম্ভব নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করে সুবিধা গ্রহণকারীদের সনদ ও গেজেট বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ২২১ জন সরকারি কর্মকর্তাসহ মোট ২,৫৮৮ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তারা অবৈধভাবে যেসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, মামলার রায়ের মাধ্যমে তা আদায় করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সারা দেশ থেকে এখনও অসংখ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ আসছে। প্রায় ১০ হাজারের মতো অভিযোগ যাচাই-বাছাই করতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে সাবেক এমপিসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন। তালিকা চূড়ান্ত করার আগে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি ১৮ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, আদালতের আদেশের আগেই আমরা সংজ্ঞা চূড়ান্ত করে জামুকায় অনুমোদন করেছি। আশা করি আদালতে তা জমা দিলে এ সংক্রান্ত সমস্যার সুরাহা হবে।
জামুকা সূত্রে জানা গেছে, নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যেসব ব্যক্তি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তারাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের এক আদেশ বলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। সেখানে কারা এ ভাতা পাবেন তা স্পষ্ট করে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা মানে এমন একজন ব্যক্তি যিনি মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত যে কোনো সংগঠিত দলের (ফোর্স) সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত কোনো সংগঠিত দলের সদস্য না হন এবং হয়েও যদি সক্রিয় ভূমিকা না রাখেন তিনি মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পড়বেন না। ভাতা পাওয়ার বিধানটিই এতদিন মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হতো।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে স্বীকার করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম ২৩ মার্চ নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগ উঠতেই পারে। এমপি-সচিব থেকে শুরু করে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আসতে পারে। এসব অভিযোগ কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে আসল সত্যটা বের করে আনতে হবে। আর এর মাধ্যমে তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ও সনদ বাতিল হবে।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ছড়াছড়ি : গত ৬ বছরে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন সরকারি- বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার ১১ হাজার ৫০০ জন? সম্প্রতি গেজেটভুক্ত কিছু সনদধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ পর্যন্ত সরকারের সচিব থেকে শুরু করে চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, ব্যাংকারসহ মোট ২২১ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২ হাজার ৫৮৮ জন গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শতাধিক কর্মকতা-কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধার সনদ তদন্ত করছে দুদক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- সাবেক ও কর্মরত প্রায় দেড় ডজন সচিব, দুদকের ডিজি ও পরিচালকসহ ২১ জন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৯ জন কর্মকর্তা (একজন অতিরিক্ত আইজিপি, ৯ ডিআইজি, ৩ অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ৬ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ও কাস্টমসের ২৩ কর্মকর্তা।
এছাড়া বাতিল ঘোষিত সনদের মধ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া ২ হাজার ৩৬৭ জন ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার তালিকাসংবলিত গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ১৯ জানুয়ারি তিন মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। গত বছরের ২৯ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিষয়টি বিচারাধীন।
স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মোট ৫টি তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি ভারতীয় তালিকা, যা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে সংরক্ষিত রয়েছে। এ তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭০ হাজার ৮৯৬ জন। ১৯৭৮ সালের পর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরির কাজে হাত দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদকে এ দায়িত্ব দেন তিনি। ওই তালিকায় ১৯৮৬ সালে এরশাদের শাসনামলে জাতীয় তালিকা নামে প্রকাশ করা হয়। যার সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৪৫৮। তবে এ তালিকা গেজেট হিসেবে প্রকাশিত হয়নি। ১৯৯৪ সালে বিএনপির শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদেও ভোটার-সূচক তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন ৮৬ হাজার। আওয়ামী লীগের আমলে (১৯৯৬-২০০১) মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত হয় এক লাখ ৮২ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন ডিজি মমিনউল্লাহ পাটোয়ারির নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা কমান্ডারদেও নেতৃত্বে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে তৈরি করা তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে সংরক্ষণ করা হয়। এটিই এখন লালবই নামে পরিচিত। এতে ১ লাখ ৫৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সে সময়ে আগের নীতি বাদ দিয়ে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে বাদ রেখে ইউএনও ও ডিসিদের নিয়ে উপজেলা ও জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়। আগের যে কোনো দুটি তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদেরই সুপারিশ করে কমিটি। তাদের সুপারিশের ব্যক্তিরাই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যান। এভাবে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দুটির গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর একটি ছিল বিশেষ গেজেট, যেখানে সামরিক বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার এবং অপর গেজেটে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৯ হাজার। দুটি মিলে তখন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯৮ হাজারে। অর্থাৎ জোট সরকারের সময় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪ হাজার, যা ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভুয়া বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। অবশ্য মহাজোট সরকারও ক্ষমতায় এসে বিএনপির নীতিমালা মেনে ১১ হাজার ৫০০ জনকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেয়। ফলে বর্তমানে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুই লাখ ৯ হাজার ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close