¦
দক্ষিণের প্রার্থী থেকে আব্বাস বাদ

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৫

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস মনোনয়ন পাচ্ছেন না। বিচারাধীন একাধিক দুর্নীতির মামলা, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হওয়া, রাজপথের আন্দোলনে চরম ব্যর্থতা এবং সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে তাকে মনোনয়ন দেয়া থেকে হাইকমান্ড সরে এসেছে। আজকালের মধ্যে এ আসনে একজন অধিকতর ক্লিন ইমেজসম্পন্ন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মেয়র পদে মির্জা আব্বাসকে সমর্থন দেয়া হতে পারে এমন খবরে নেতাকর্মীসহ দলের সর্বস্তরের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলেন। আব্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ থাকায় তাকে প্রার্থী করা ঠিক হবে না বলেও তারা মত দেন। এছাড়া চলমান আন্দোলনে আত্মগোপনে থাকায় নেতাকর্মীদের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। দলের বড় একটি অংশও সরাসরি তার বিপক্ষে রয়েছে। এমন অবস্থায় তাকে সমর্থন দেয়া হলে নির্বাচনী ফলাফলে চরম ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র জানায়, সব মহলের এমন নেতিবাচক মনোভাব জানার পর আব্বাসকে দক্ষিণের মেয়র পদে সমর্থন করা থেকে পিছু হটে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের শীর্ষ পর্যায়ের এমন সিদ্ধান্তে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলছেন, মির্জা আব্বাসকে ছাড়া দক্ষিণে ক্লিন ইমেজের যে কোনো প্রার্থী দিলেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের নির্বাচনে নীরব ভোট বিপ্লব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জিতে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যদিও ব্যক্তি ইমেজের দিক থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকনও এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে গতকাল শত নাগরিকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি থেকে ক্লিন ইমেজের কোনো প্রার্থীকে মেয়র পদে সমর্থন দেয়া হলে তারা তার পক্ষে কাজ করবেন। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তাকে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, চলমান আন্দোলনের পাশাপাশি আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। ইতিমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও চট্টগ্রামে বর্তমান মেয়র মনজুর আলমকে দলের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত। কিন্তু ক্লিন ইমেজের প্রার্থী না পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সময় নেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলে দক্ষিণে মেয়র পদে সমর্থন পেতে তদবির শুরু করেন মির্জা আব্বাস। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে প্রথমে তার বিষয়টি বিবেচনাও করা হয়। কিন্তু আব্বাসকে সমর্থন দেয়া হচ্ছে এমন খবরে ফুঁসে ওঠে দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী। প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে না পারলেও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দেখা করে ও টেলিফোনে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়ে দেন। তারা বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে আন্দোলনের সময় আব্বাস আÍগোপনে চলে যান। ওই সময় তার সমর্থকদেরও রাজপথে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে তিনি আর রাজপথ ছাড়বেন না এবং রক্ত দিয়ে হলেও কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলে রাজপথে থাকার প্রতিশ্র“তি দিলে তাকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের পদ দেয়া হয়। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর থেকে সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে গ্র“পিংয়ে জড়িয়ে পড়েন। থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়েও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ৬ জানুয়ারি থেকে চলমান অবরোধ কর্মসূচি ও মাঝে মাঝে ডাকা হরতালে একদিনের জন্যও তাকে রাজপথে দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, নিজে তো রাজপথে নামেননি নেতাকর্মীদেরও রাজপথে নামাতে ব্যর্থ হন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের পরবর্তী শুনানি ২৮ এপ্রিল : ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতির প্লট বরাদ্দে অনিয়মের মামলায় তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। বুধবার ওই পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কোনো প্রতিবেদন না আসায় ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. কামরুল হাসান মোল্লা ফের আগামী ২৮ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
পরোয়ানাপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্মসচিব বিজন কান্তি সরকার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মো. মনছুর আলম ও হিসাব সহকারী মতিয়ার রহমান।
অভিযোগ আমলে নেয়ার জন্য ধার্য তারিখ ২৪ ফেব্র“য়ারি আসামিরা কেউ আদালতে হাজির না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হামিদুল হাসান ১৬ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৬ সালে আলমগীর কবির গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডকে বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে প্লট বরাদ্দ দেন। এতে সরকারের আঠারো কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের সরকারি সাত একর সম্পত্তি মাত্র তিন কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বরাদ্দ দিয়ে সরকারের পনেরো কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষতি করে আসামিরা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক উপপরিচালক (ভূমি) মো. আজহারুল হকের (বর্তমানে সদস্য-ভূমি) সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
গত বছরের ৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক যতন কুমার রায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close