¦
গৌরবের দিন আনন্দের দিন

রফিকুল ইসলাম রতন | প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৫

স্বাধীনতাহীনতায়/কে বাঁচিতে চায় হে কে বাঁচিতে চায়/দাসত্ব শৃংখল বল/কে পরাবে পায় হে কে পরাবে পায়। বাঙালি কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম স্বাধীনতা প্রসঙ্গে দুর্দান্ত সাহস নিয়ে এ কথা বলেছিলেন। স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির গৌরবের দিন, আনন্দের দিন। পরাধীনতার শৃংখল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন এটি। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এবারের স্বাধীনতা দিবসটি একটি ভিন্ন মাত্রা ও ব্যঞ্জনায় উদযাপিত হতে যাচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এতদিন পরে এসেও মাথা চাড়া দিয়ে আবারও একাত্তরে হায়েনার মতো জাতীয় পতাকায় আগুন দিচ্ছে, ভাংচুর করছে শহীদ মিনার এবং সংখ্যালঘুদের মন্দির ও উপাসনালয় ভাংচুরসহ অগ্নিসংযোগ করছে। সেই পুরনো ধাঁচের ধর্মীয় নাস্তিকতার স্লোগান তুলে গোটা জাতিকে বিভক্ত ও বিভ্রান্ত করে আবার তারা ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। মুক্ত করতে চাচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের এবং বিচার কাজ বন্ধে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে তারা। জামায়াত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধীদের এ কাজে এবার খোলাখুলিভাবে সমর্থন দিচ্ছে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও। এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা অর্থাৎ পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো ও বোমা-ককটেল মেরে হত্যার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। একটানা ৭৬ দিনের (২৫ মার্চ পর্যন্ত) অবরোধ ও হরতালে পেট্রলবোমায় নিহত হয়েছে ৭৩ জন, দগ্ধ ২৮০ এবং পুড়েছে হাজার হাজার গাড়ি। ধ্বংস হয়েছে লাখো কোটি টাকার দেশের সম্পদ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, যা আমাদের বাজেটের চেয়েও বেশি। এ নিয়ে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দেশের রাজনীতিতেও বিরাজ করছে টালমাটাল অবস্থা। অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেকেছে। নাভিশ্বাস উঠেছে পেশাজীবী-শ্রমজীবী সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের। শিল্পপতি-ব্যবসায়ীরাও দেশের এই উদ্ভট সহিংস তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মসূচির জাতাকলে পড়ে লোকসান গুনতে গুনতে ফতুর হওয়ার অবস্থা।
তারপরও নিত্যদিনের মতো আজকের এই স্বাধীনতা দিবসে ভোরের সূর্যালোকের বর্ণচ্ছটায় রাঙাবে কৃষ্ণচূড়া, গ্রামীণ পথের শেষে নদীর তীরে অশ্বত্থ শাখা থেকে ভেসে আসবে কোকিলের কুহুতান, শ্যামল প্রান্তরের দূর-দূরান্ত থেকে বাজবে রাখালিয়ার মনকাড়া বাঁশির সুর, নীল আকাশের বুকে ডানা মেলবে উড়ন্ত বলাকার ঝাঁক, কলকাকলিতে মুখরিত হবে জনপদ। তবুও অন্য যে কোনো দিনের চেয়ে আজকের দিনটি সম্পূর্ণ আলাদা। ভিন্ন আমেজের, ভিন্ন অনুভূতি ও ভিন্ন স্বাদের আমাদের প্রিয় এই স্বাধীনতা দিবস। জাতীয় জীবনের সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে গৌরবের স্মৃতি নিয়ে আবারও ফিরে এসেছে চির অম্লান, আনন্দ-বেদনায় মিশ্রিত দিবসটি। মৃত্যুপণ লড়াই ও রক্তসমুদ্র পাড়ি দিয়ে বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছে জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন- স্বাধীনতা। স্বাধিকার আদায়ের দৃঢ় মনোবল নিয়ে পশুশক্তিকে পরাজিত করে ঘোর অন্ধকার-অমানিশা কাটিয়ে বাংলার চিরসবুজ জমিনে রক্তে রাঙানো লাল-সবুজ পতাকার ভ্রুণ জন্ম নেয় আজকের ঐতিহাসিক দিনটিতেই। সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দুশ বছরের ব্রিটিশ-বেনিয়া শাসনের অবসানের পর ২৪ বছর ধরে বিজাতীয় ভাষা, গোষ্ঠীর শাসন ও শোষণ। এ পরাধীনতার শৃংখল ভেঙে আজকের দিনে মুক্তিকামী মানুষের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশেই বাংলার মানুষের স্বপ্ন-সাধ ও কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ সূচনা ঘটে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও পটভূমি। একদিনের ঘোষণায় বা কারও বাঁশির শব্দ শুনে গোটা জাতি জীবন বাজি রেখে মরণপণ লড়াই-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য গোটা বাঙালি জাতিকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করতে হয়েছে। ৪৭-এ অদ্ভুত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভক্তির পর থেকেই উর্দু শাসকদের নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাঙালির রক্ত সংগ্রামের চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। মাতৃভাষার দাবিতে সেই ৪৮ সাল থেকে শুরু করে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তদান সংগ্রাম-আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে জাতির রায়, ৫৬-তে এসে সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি আদায়, ৬২-এর শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ৬৬-এর ৬ দফার মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তিসনদ ঘোষণা, ৬৯-এর ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের বিদায় এবং ৭০-এ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয়ের ধারাবাহিকতায়ই এসেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং স্বপ্নের স্বাধীনতা। ৭০-এর নির্বাচনে অভূতপূর্ব বিজয়ের পর বাঙালির স্বপ্নপুরুষ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে অর্জন করেন দেশ পরিচালনার ক্ষমতা এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করার যোগ্যতা। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- এই জগদ্বিখ্যাত ঘোষণার মধ্য দিয়েই মূলত বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে যায়। খুঁজে পায় গেরিলাযুদ্ধের গোপন কৌশল ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা। তার পরও ২৫ মার্চ মধ্যরাতে গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধুর বিডিআর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর জাতিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার বার্তাই পরবর্তীকালে ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর নামেই ঘোষণা করেন, যা জাতিকে উজ্জীবিত করে। সমগ্র জাতি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান বুকে ধারণ করে আত্মশক্তিতে বিশ্বাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিপাগল বাঙালির রক্তের বন্যায় ভেসে যায় পাকিস্তানের দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত দুলক্ষাধিক হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ, জ্বালাও-পোড়াও অভিযান অপারেশন সার্চলাইট। প্রায় এক কোটি মানুষের ভারতে আশ্রয় গ্রহণ এবং মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দান, রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহ ও কূটনৈতিক সমর্থন, সমগ্র মুক্তিকামী বিশ্ব ও জনতার আকণ্ঠ সমর্থন এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধেই পৃথিবীর মানচিত্রে আরও একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের জন্ম হয়- সেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। স্বাগতম হে স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত দিনটিতে সমগ্র জাতি এই দিনে বাঁধভাঙা প্রাণের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত হবে। একদিকে হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণের সুখ ও আনন্দ, অপরদিকে স্বজন হারানোর ব্যথা-বেদনার এক আবেগঘন মিশ্র পরিবেশের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও মুক্তিকামী লাখো মানুষ নানা ব্যঞ্জনায় পালন করবে আজকের দিনটি। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ দেশের সব স্মৃতির মিনার। হৃদয়পটে সৃষ্ট গভীর ক্ষত থেকে ভেসে উঠবে রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম- এ পঙ্ক্তিমালার মর্মার্থ।
ইতিমধ্যেই সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুট ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করায় দেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী লক্ষ-কোটি মানুষের মনে বিরাট আশার সঞ্চার হয়েছে। তরুণ ও যুব সমাজ গভীর আগ্রহ নিয়ে শতাব্দীর এ ভয়াবহতম মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দেখার জন্য উদগ্রীব। সমগ্র জাতির এখন একটাই প্রত্যাশা- তারা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলার মাটিতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস তথা যুদ্ধাপরাধীদের আর প্রকাশ্যে দেখতে চায় না। বাংলার মাটি ও মানুষ দেখতে চায় না মা-বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারী ওই নরপিশাচদের। পাক বাহিনীর দোসর ওইসব নরঘাতকের প্রতিটি নিঃশ্বাসে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে কেনা এ বাংলার শ্যামল সবুজ প্রকৃতিতে। প্রকৃতিও আজ প্রতিশোধমুখর। ওদের সর্বনাশ দেখতে চায় মুক্তিযোদ্ধারা, তাদের পরিবার, সম্ভ্রমহারা মা-বোন, স্বামীহারা স্ত্রী, ভাইহারা বোন, সন্তানহারা মা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি বাঙালি।
তারপরও বলব, স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসরদের সৃষ্ট নৈরাজ্য, অবক্ষয়, অস্থিতিশীলতা এবং অশান্তির মাঝেও কষ্ট করে নিঃশ্বাস ফেলছে মানুষ, ওই বিচার দেখার জন্য। এ অসহায়ত্ব নিশ্চয়ই দূর হবে একদিন। সেদিন বর্ণময় আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত হবে বাংলার প্রকৃত রূপ। হেসে উঠবে চারদিক। সবাই গর্ব করে বলবে- এ দেশ আমার, এ মাটি সোনা, আমরা সবাই সূর্য সন্তান। সেই আশাজাগানিয়া স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে আজও মুক্তির প্রহর গুনছে বাংলার লাখো-কোটি মানুষ। তাই তো ব্রিটিশ-ভারতে পরাধীনতার শৃংখলমুক্তি ও স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা নিয়ে কবি শামসুর রাহমানের এটি ছিল শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ।
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত/ ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,/ নতুন নিশান উড়িয়ে,/ দামামা বাজিয়ে দিগি¦দিক/ এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে হে স্বাধীনতা।
বাণী ও কর্মসূচি : ৪৪তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও বাণী দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রমুখ। এদিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের অব্যবহিত পরেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, বেলা ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের এমপি, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, শ্রম ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ নেতা উপস্থিত থাকবেন।
সশস্ত্র বাহিনীর কর্মসূচি : দিবসটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী সশস্ত্র বাহিনীতে প্রচার করা হবে। দিবসটি সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সূর্যোদয়ের সময় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠানমালার সূচনা হবে। দেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে সশস্ত্র বাহিনীর সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং ওই অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল আন্তঃবাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সেনা-নৌ ও বিমান বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনী-২০১৫ পরিদর্শন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সশস্ত্র বাহিনীর সব সদর দফতর, ইউনিট, ঘাঁটি এবং ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ২৫ ও ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সীমিত আলোকসজ্জা করা হবে।
বিএনপির কর্মসূচি : সকালে দলটির সিনিয়র নেতারা সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেখানে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এরপর সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিকালে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়াও দলটির সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, জাকের পার্টি ন্যাপ ভাসানী, বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close