¦
আনিস-খোকনই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৫

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে আনিসুল হক এবং দক্ষিণে সাঈদ খোকনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চূড়ান্ত প্রার্থী বলে মহানগর আওয়ামী লীগকে জানিয়ে দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এ দুজনকে জেতাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর দক্ষিণে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক হাজী সেলিমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তিনি এমপি হিসেবেই ভালো ভূমিকা রাখছেন। এদিকে হাজী সেলিম মঙ্গলবার শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বুধবার সারাদিন প্রচারণা থেকে বিরত থাকেন। তিনি এদিন বাসাতেই কাটান। কর্মী-সমর্থকদের তিনি স্পষ্টও করেননি মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন কি হচ্ছেন না।
বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব জানান। বৈঠক শেষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এমএ আজিজ যুগান্তরকে বলেন, আনিস-খোকনের পক্ষে একজোট হয়ে কাজ করতে দলীয় সভানেত্রী তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। খাদ্যমন্ত্রী এবং নগরের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানান, উত্তরে আনিস এবং দক্ষিণে সাঈদ খোকন প্রার্থী হিসেবে বহাল থাকছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের জেতাতে কাজ করতে বলেছেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিকাল পাঁচটার একটু পর বৈঠক শুরু হয়ে তা প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত চলে। শেখ হাসিনা নগর নেতাদের নির্বাচন নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি রাজধানীর দুই অংশে দল সমর্থিত প্রার্থীদের জেতাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে বলেন। এছাড়া কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে নগর নেতাদের বৈঠক করতে বলেন তিনি। এ সময় নগর নেতারাও এ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। সূত্র জানায়, নগর নেতারা বলেন, ওয়ার্ডে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেই যোগ্য প্রার্থী বিবেচনায় একজনকে রেখে অন্যদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা সম্ভব। তারা একক প্রার্থী নিশ্চিতে একটি নতুন দিক তুলে ধরেন। নেতারা বলেন, ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে যারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন তাদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখাও একক প্রার্থী নিশ্চিত করার কৌশল হতে পারে। কেননা একই ব্যক্তি ওই পর্যায়ে দলীয় শীর্ষ পদ পাবেন আবার নির্বাচনও করবেন, এমন হলে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হয়। এ বক্তব্য আসার পর কেউ সমর্থন বা কেউ কেউ নিশ্চুপও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে আগামী শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে আবারও গণভবনে দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গে নগর নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে সূত্র জানায়।
আরেকটি সূত্র জানায়, উত্তর ও দক্ষিণে আনিসুল হক এবং সাঈদ খোকনকে প্রার্থী মেনে তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য নগর নেতারাও ঐক্যবদ্ধ মতামত তুলে ধরেন। তবে মেয়র প্রার্থী নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে একজন নেতা বলেন, খোকন তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেননি। তখন প্রধানমন্ত্রীও তার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, খোকনের এটা করা উচিত ছিল।
বৈঠকে এমএ আজিজ, নগরের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সহ-সভাপতি মুকুল চৌধুরী, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, কামাল আহম্মেদ মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার সম্পাদক আবদুল হক সবুজ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাবেক নগর নেতা, বর্তমানে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান একেএম রহমত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম এমপি হিসেবেই ভালো ভূমিকা রাখছেন : সূত্র জানায়, বৈঠকে মেয়র প্রার্থীর কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়র প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার হাজী সেলিম সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য পদত্যাগপত্র নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনি বলেন, হাজী সেলিম সংসদে সদস্য হিসেবে ভালো ভূমিকা পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি হাজী সেলিমের পদত্যাগপত্র দেখে বলেন, তার পক্ষে তিনটি কাজ করার আছে। এক- সেলিমকে তার পদত্যাগপত্র ফেরত দেয়া, দুই- তার পদত্যাগপত্র ছিঁড়ে ফেলা অথবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তার পদত্যাগপত্র যথাস্থানে পাঠিয়ে দেয়া। তখন হাজী সেলিম দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে তার পদত্যাগপত্র ছিঁড়ে ফেলার অনুরোধ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বুধবার দিনভর হাজী সেলিম তার লালবাগের বাসায় কাটান। নেতাকর্মী ও তার সমর্থকরা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেননি। এদিন তিনি কোথাও, কোনো মাধ্যমেই প্রচারণাও চালাননি। নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার স্টাফরা বলেছেন, তিনি (হাজী সেলিম) ঘুমাচ্ছেন, কারও সঙ্গে এখন দেখা করবেন না।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close