¦
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়

ইশতিয়াক সজীব | প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০১৫

ওয়ানডে ছাড়ার অবাক করা ঘোষণার পর দৃপ্ত কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, ‘আবেগ নয়, দক্ষতা দিয়েই আপনাকে জিততে হবে।’ বিদায় মঞ্চে দক্ষতার অনুপম প্রদর্শনী দেখিয়ে সাজঘরে ফেরার পথে সেই মাইকেল ক্লার্কেরই অবস্থা ‘আবেগে কাঁপিছে আখি’! মেলাবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের হলুদ জনসমুদ্রে করতালির শব্দপ্রপাত ঘটিয়ে ওয়ানডের আঙিনা থেকেই বেরিয়ে গেলেন ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়াকে দিয়ে গেলেন পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়া দলটিকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে বসিয়ে বিদায় নেয়ার ক্ষণটি অবিস্মরণীয় করে রাখলেন ক্লার্ক। তার যোগ্য নেতৃত্বেই ক্রিকেটের রং হল আবারও হলুদ। আর বিষাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে গেল কিউই পাখিরা। ভয়ডরহীন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট আর নিখুঁত পারফরম্যান্সে যারা উদ্ভাসিত করেছে বিশ্বকাপ, সেই তারাই আসল পরীক্ষাতে এসে ডাহা ফেল করে বসল! বিশ্বকাপ ফাইনালের চাপটাই নিতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। স্বপ্নের সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়ার দুর্নিবার চাপে খেই হারিয়ে তাসমান পড়শিদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন ম্যাককালামরা। ট্রান্স-তাসমান স্বপ্নের ফাইনালকে বেরসিকের মতো ম্যাড়ম্যাড়ে এক ম্যাচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতল সাত উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।
নিউজিল্যান্ডের ১৮৩ রানের মামুলি সংগ্রহ ১০১ বল হাতে রেখে অস্ট্রেলিয়া যখন টপকে যায়, তার অনেক আগে থেকেই হলুদ উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছিল মেলবোর্নে। প্রথম ওভারে মিচেল স্টার্কের গোলায় ব্রেন্ডন ম্যাককালামের স্টাম্প যখন ছত্রখান, তখনই আসলে হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ঐতিহাসিক ফাইনালের সাক্ষী হতে রেকর্ড ৯৩ হাজার দর্শকের সমাগম হয়েছিল এমসিজির গ্যালারিতে। ম্যাচটা নিদারুণ একপেশে হলেও ক্লার্কের হাতে সোনালি ট্রফির ছবিটা চিরকাল অম্লান থাকবে সমর্থকদের স্মৃতিতে। বিদায়বেলাটা এভাবে রাঙিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য খুব কম মানুষেরই হয়। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে অনন্য বীরের বেশেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ক্লার্ক। শেষ ম্যাচে খেললেন ৭২ বলে ৭৪ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। বিদায়ী অধিনায়কের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তুলির শেষ আঁচড়টা টানলেন হবু অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। সাফল্যের ব্যাটন হাতবদলের অসাধারণ এক প্রতীকী ছবি! এরই নাম অস্ট্রেলিয়া। বড় মঞ্চে বরাবরই যারা নিখুঁত ও নৃশংস!
দ্বিতীয় ওভারে অ্যারন ফিঞ্চকে ফিরিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। দ্বিতীয় উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়ে কিউইদের সেই আশায় পানি ঢেলে দেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্মিথ। ৪৬ বলে ৪৫ করে ওয়ার্নার বিদায় নিলেও অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন স্মিথ। টানা পাঁচ ইনিংসে ন্যূনতম ফিফটি করে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার রানমেশিন। তৃতীয় উইকেটে ক্লার্ক ও স্মিথের ১১২ রানের যুগলবন্দি লিখে দেয় কিউইদের এপিটাফ। টসটা কিন্তু জিতেছিল নিউজিল্যান্ডই। নিখাদ ব্যাটিং উইকেটে ম্যাককালামের প্রথম ব্যাট করার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। কিন্তু প্রতিকূল কন্ডিশনকে অনুকূল করে শুরুতেই কিউই ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় অস্ট্রেলিয়ার পেস ব্যাটারি। স্টার্কের বলে ম্যাককালামের ডাক মারাটাই যেন কাল হল। অধিনায়ককে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নড়ে যাওয়ায় মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসনও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। স্টার্ক ও জনসনের তোপে ৩৯ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বিপর্যয় সামাল দেয়ার একটা চেষ্টা করেছিলেন রস টেলর (৪০) ও গ্রান্ট এলিয়ট (৮৩)। ৩৫ ওভার শেষে পাওয়ার প্লে নিয়েই বিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড। জেমস ফকনারের জোড়া আঘাতে ভাঙে ১১১ রানের জুটি। অভাবনীয়ভাবে মাত্র ৩৩ রানে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে পাঁচ ওভার বাকি থাকতেই ১৮৩ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার তিন বাঁ-হাতি পেসার মিলেই শেষ করে দিয়েছেন কিউইদের। ম্যাচসেরা ফকনারের মতো জনসনও পেয়েছেন তিনি উইকেট। টুর্নামেন্টসেরা স্টার্কের ঝুলিতে গেছে দুই উইকেট। স্টার্কের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২২ উইকেট পেয়েছেন কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানও নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিলের। কিন্তু আসল পুরস্কারটা অধরাই রয়ে গেল তাদের। রূপকথার বিদায়ী উপহার পাওয়া হল না ড্যানিয়েল ভেট্টোরির। জীবনের মতো ক্রিকেটও হাসি-কান্নার যুগলবন্দি। একজন ভেট্টোরিকে হতাশার পোস্টার বানিয়ে একজন ক্লার্কের বীরোচিত বিদায়। দিন শেষে ক্রিকেটের রং তাই হলুদ।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close