¦
মামলা থাকলেই প্রার্থিতা বাতিল নয়

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সাড়ে চারশর বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা আছে। তবে শুধু মামলা থাকার কারণেই কারও প্রার্থিতা বাতিল হচ্ছে না। শুধুু সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে। বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় বুধবার ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মেয়র পদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ডিএমপির একটি সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে সাড়ে চারশর কিছু বেশি প্রার্থী বিভিন্ন মামলার আসামি। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৪৭ জন মেয়র প্রার্থির মধ্যে ১২ জনের নামে মামলা থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। বাকিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এর আগে মঙ্গলবার পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত রয়েছেন ৩১৮ জন এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ১২২ জনই বিভিন্ন মামলার আসামি। তবে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ১৮৩ জনই ফৌজদারি মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। তবে সবাই সাজাপ্রাপ্ত নয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বুধবার বিকালে জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে ৪৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের নামে মামলা পাওয়া গেছে। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ জনের নামে বিভিন্ন ধরনের মামলা পাওয়া গেছে। একইভাবে ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের তালিকা যাছাই করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা পাওয়া গেছে। অপর প্রার্থীদের বিষয়ে মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলার সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রার্থীদের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা, দুর্নীতি দমন কমিশন, এনবিআরসহ অন্য কোনো মামলা আছে কিনা, সেটা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসব দফতরে খোঁজখবর নেয়া হলে এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, প্রার্থীদের কারও কারও বিরুদ্ধে ডাবল ডিজিটের মামলাও আছে। কিন্তু এ কারণেই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না। আইন অনুযায়ী কেউ আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত হলেই শুধু মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা যাচাইকালে ডিএমপির প্রতিনিধি তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। রিটার্নিং অফিসার সেগুলো আইনসম্মত মনে করলে সে অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিল কিংবা বহাল রাখছেন।
ডিএমপির প্রতিনিধি বুধবার আপত্তি দেয় ঢাকা উত্তরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি সমর্থক বাবুল সিকদারের বিষয়ে। তার বিষয়ে ডিএমপি প্রতিনিধি বলেন, তিনি ফেরারি। ওই সময় রিটার্নিং অফিসার জানতে চান, আদালত তাকে ফেরারি ঘোষণা করেছে কিনা। জবাবে ডিএমপি প্রতিনিধি বলে, সে প্রমাণ তাদের হাতে হাতে নেই। এ অবস্থায় ডিএমপি প্রতিনিধির আপত্তি নাকচ করে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বহাল রাখেন।
ডিএমপির একটি সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আগে ৫টি ফৌজদারি মামলা ছিল। কিন্তু এখন কোনো মামলা নেই। দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের হলফনামায় ৬৭ মামলার বিবরণ আছে। এর মধ্যে বর্তমানে সরকারের আমলে ৩৭টি ও ২৪টি আগের। একই দলের নেতা আবদুস সালামের বিরুদ্ধে ৩টি এবং নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বিরুদ্ধে ৪টি ফৌজদারি মামলা আছে। দক্ষিণে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সমর্থক মেয়র প্রার্থী বজলুর রশিদ ফিরোজের বিরুদ্ধে ৬ মামলার চারটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন সমর্থক মেয়র প্রার্থী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে আছে ৪ মামলা।
উত্তরের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা আছে। মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তবে সেটা মামলাজনিত কারণে নয়। বরং সমর্থক তার নির্বাচনে এলাকার ভোটার না হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির উত্তরের মেয়র প্রার্থী বাহা উদ্দিনের নামে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা, বিএনপি সমর্থক প্রার্থী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে রয়েছে একটি মামলা।
সূত্র জানায়, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলুর বিরুদ্ধে ১২০ মামলা, ঢাকা উত্তরে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ফয়েজ আহমেদের ৬, উত্তরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্র্র্থী জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে ৫ মামলা রয়েছে। উত্তরের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হামিদুল হক ১৮ মামলার আসামি। দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে রয়েছে ৬ মামলা, ঢাকা দক্ষিণের ২ ওয়ার্ডের প্রার্থী এনামুল হক কাইয়ুম নাশকতার ৫ মামলার আসামি। দক্ষিণের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আজমত আলী কনু ১০ মামলার আসামি। দক্ষিণের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম হোসেন আসামি ১৩ মামলার। দক্ষিণের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বাদশার বিরুদ্ধে মামলা আছে ৮টি। দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মকবুল আহম্মেদের বিরুদ্ধে আছে ৪ মামলা। দক্ষিণের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হারুন অর রশিদের নামে ৫০টি মামলা আছে বলে জানা গেছে। দক্ষিণের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন ৪ মামলার আসামি। দক্ষিণের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আশরাফুজ্জামান তানভীর, একই ওয়ার্ডের শামসুল হুদার বিরুদ্ধে ৩টি করে মামলা আছে। দক্ষিণের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আলতাফ হোসেনের নামে ৬ মামলা ও একই ওয়ার্ডের তাসাদ্দেক হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা আছে। দক্ষিণের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোশারফ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে ৫ মামলা ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী সাইদ হাসান সোহেল এবং আমিনুল ইসলাম আমীনের বিরুদ্ধে ৪টি করে মামলা রয়েছে। দক্ষিণের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামালুর রহমান চৌধুরী, রেজাউল করিম বদু, গোলাম সরওয়ারের নামে ৪টি করে মামলা আছে। দক্ষিণের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি, ঢাকা উত্তরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০টি, উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হাজী আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা আছে। উত্তরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ওয়াহিদুল আলম লাবুর বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১০টি মামলা আছে বলে জানা গেছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ৬টি ও উত্তরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আছে।
উত্তরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবদুল মতিনের নামে ৫ মামলা ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবুল মিসেরের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা আছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী দুলাল আহমেদ, আকরাম হোসেন ও মাহবুবুর রহমান মনির বিরুদ্ধে ৬টি করে মামলা আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close