¦
মান্নান খানের আয়কর নথি জব্দ তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৫

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানের আয়কর নথি তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন এ নথি জব্দ করেন। এর আগে মামলা-পূর্ব অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় একবার দুদক ওই নথি পরিদর্শন করেছিল।
দুদক সূত্র জানায়, মান্নান খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তের শেষ পর্যায়ে আয়কর নথি জব্দ করা হল। গত মাসে মান্নান খানকে অ্যাপার্টমেন্ট এ-৫, বাড়ি-৬, রোড নং-৯, ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় পৃথক মামলার আসামি মান্নানের স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানাও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্র জানায়। জিজ্ঞাসাবাদে মান্নানের গ্রামের বাড়ি ঢাকার দোহারের জয়পাড়া কাটাখালি গ্রামে নির্মিত আলীশান বাড়ির মূল্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে মান্নান খান জানান, ওই বাড়ি তার একার নয়। তিন ভাই মোতালেব খান, বোরহানউদ্দিন খান ও মান্নান খান যৌথভাবে ওই বাড়ির মালিক। তার হিসেব মতেই বাড়িটির নির্মাণ ব্যয় হয় প্রায় কোটি টাকা। পৌরসভার অনুমোদনহীন ওই বাড়ির বাস্তব মূল্য ২ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করছে দুদক।
সূত্র মতে, গত বছর ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এর দু’মাস পর ওই বছর ২১ অক্টোবর সৈয়দা হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধেও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করে। ৮ মাস ধরে চলছে মামলাটির তদন্ত। তদন্ত প্রক্রিয়ায় মান্নান দাবি করেন তার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই কিংবা অর্জিত সম্পদের কোনো তথ্য গোপন করেননি। সব সম্পদের তথ্যই তার আয়কর নথিতে রয়েছে। তার এ দাবি যে মিথ্যা, সেটি প্রমাণের জন্যই আয়কর নথি জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে মান্নানের দাবির সপক্ষে বিদেশ থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড, গুলশান ও খিলগাঁওয়ে প্লটের দলিল, ইস্কাটনের ইউনিক হেইটসে কেনা কমার্শিয়াল ফ্লোরের দলিল, দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন মৌজায় নিজ ও স্ত্রীর নামে কেনা জমির দলিল, গুলশানের প্লট এওয়াজ বদলের দলিলসহ রেকর্ডপত্র হস্তগত করে দুদক।
রেকর্ডপত্র যাচাইকালে মান্নান খানের নামে এজাহারে উল্লিখিত অবৈধ সম্পদের চেয়ে বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অকাট্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিযযোগপত্র প্রণয়ন করছে দুদক। শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিলের সুপারিশ সংবলিত তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা পড়বে বলে নিশ্চিত করেছে নির্ভরযোগ্য সূত্র।
উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লিখিত অস্বাভাবিক সম্পদ বিবরণীর সূত্র ধরে গত বছর ২২ জানুয়ারি মান্নান খান দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। নির্বাচনে পরাজিত মান্নান খান হলফনামায় ১১ কোটি ৩ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। অথচ নবম সংসদের হলফনামায় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে পাঁচ বছরে তার সম্পদ বাড়ে ১০৭ গুণ। তবে দুদক এ সম্পদের অধিকাংশেরই দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close