¦
কাউন্সিলর পদে জোর লড়াইয়ের আভাস

কাজী জেবেল | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে গড়ে ৭ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রায় ৬ জন করে প্রার্থী। কাউন্সিলর পদে গড়ে সর্বনিু ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১৬ জন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থী বেশি হওয়ায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাচ্ছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
এবারের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে আছেন। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বড় দলগুলো থেকে একাধিক নেতা কাউন্সিলর পদে দাঁড়িয়েছেন। এতে প্রার্থীকে ঘিরে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে তিন দলের নেতারাই হিসাব-নিকাশ করছেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কোনো কোনো ওয়ার্ডে প্রার্থীরা ভোটারদের মাঝে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন উপহার-সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ কেউ প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে দলের বাইরে স্থানীয় জনপ্রিয় প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও জনপ্রিয়তার বিবেচনায় চলছে প্রার্থী রদবদল।
দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, দুই সিটিতে ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে ১০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর ৬ থেকে ১০ জন প্রার্থী হয়েছেন এমন ওয়ার্ডের সংখ্যা ৬১টি। প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তরে ২২টি ও ঢাকা দক্ষিণে ৩৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যেসব ওয়ার্ডে ৫ জনের বেশি প্রার্থী থাকেন, ওইসব ওয়ার্ডে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এক্ষেত্রে ভোটারদের কদর বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ওই ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী সংঘর্ষের আশংকা বেশি থাকে। এসব বিষয় মাথায় রেখে বেশি প্রার্থী হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৭৭ এবং সংরক্ষিত ১২টি ওয়ার্ডে ৮৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ ওয়ার্ডে গড়ে ৮ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে গড়ে ৭ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছে। উত্তর সিটিতে সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ১৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে রাশিদা আক্তার ঝর্ণা ও বিএনপির সমর্থনে মিলি জাকারিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ ৩৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টিতেই ১০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরও ২২টি ওয়ার্ডে ৬ থেকে ১০ জন পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছেন। বাকিগুলোতে প্রার্থীর সংখ্যা ৪-৫ জন করে। একই ভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৩৮৬ ও সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডে ৯৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণে প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে প্রায় ৭ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে গড়ে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সিটিতে ৬ থেকে ১০ পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছেন এমন ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩৯টি। ৩টি ওয়ার্ডে ১০ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছে।
৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ৯৩টির মধ্যে ৯১ ওয়ার্ডের সাধারণ আসন ও ৩১টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণে সাধারণ আসন ৫৭টি ও সংরক্ষিত ১৯টি। উত্তরে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩৬ ও ১২। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্তত ৬০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকনের নির্বাচন সমন্বয়কারী সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, প্রার্থী বেশি হওয়ায় নির্বাচন কঠিন হবে। আমাদের কাছে তথ্য ছিল আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়া বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্দোলন থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজবে। তাই তাদের নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে। আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। বিষয়টি মাথায় রেখে প্রার্থীদের জয়ী করতে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। নির্বাচন থেকে তাদেরকে সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তারা সরে না এলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে বিএনপি ৯৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৮৭টিতে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। বাকি ৬টি ওয়ার্ডের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি দলটির নেতারা। একই ভাবে ৩১টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের বিপরীতে এ পর্যন্ত ২৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থনের বিষয়টি পরিষ্কার করেনি বিএনপি। জানা গেছে, রাজনীতিতে কোণঠাসা বিএনপির অন্তত ২৫ জন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। যদিও মামলার খড়গ ও গ্রেফতার এড়াতে বেশিরভাগ প্রার্থী মাঠে নামতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি অনেক কৌশল নিয়েছে যা জনসম্মুখে প্রকাশ করা যাবে না। এ নির্বাচনে জয় পেতে যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। আমাদের আশংকা, জনগণের ভোট চুরি ও লুট হতে পারে। কেউ যাতে জনগণের রায় লুট করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। দেশে সরকারি দলের লুটপাট, জুলুম-নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম-খুন বন্ধে জনগণ আমাদের প্রার্থীদের জয়ী করবে বলে আশা করছি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাওয়া হলে নজরুল ইসলাম খান সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, দল সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করতে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার এ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচন করলে সে দলকে সহযোগিতা নয়, অসহযোগিতা করল।
প্রার্থী বেশি হওয়া নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে জয় পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মনিরুল হক বাবু বলেন, এ ওয়ার্ডে ৫ জন প্রার্থী হয়েছেন, যারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রার্থী বেশি হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা বেশি হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের ভোটের বাইরে সাধারণ ভোট টানার চেষ্টা করছি। সাধারণ ভোটাররাই জয়ের নিয়ামক হবে। একই সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এবিএম পারভেজ রেজা বলেন, ১২ হাজার ভোটার অধ্যুষিত এ ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এছাড়া মামলা থাকায় গ্রেফতারি আতংকে অনেক কর্মী-সমর্থক মাঠে নামতে পারছেন না। তবুও বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close